বন্ধ হচ্ছে মেটার ডিজিটাল ওয়ালেট ‘নোভি’

নিজস্ব ডিজিটাল ওয়ালেট ‘নোভি’র কার্যক্রম বন্ধ করছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির অস্থিতিশীল ক্রিপ্টোমুদ্রা প্রকল্পের কফিনে শেষ পেরেক হিসেবে টিকে ছিল এই ডিজিটাল ওয়ালেট।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 July 2022, 11:47 AM
Updated : 3 July 2022, 11:47 AM

নোভি’র ওয়েবসাইটে মেটা বলছে, ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ওয়ালেটটি বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি, ব্যবহারকারীর জমা থাকা তহবিল ‘যত দ্রুত সম্ভব’ সরিয়ে ফেলতে বলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০২১ সালের অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও গুয়াতেমালায় ক্ষুদ্র পরিসরে নোভি চালু করেছিল মেটা।

প্রথমে, মেটা সমর্থিত ক্রিপ্টোমুদ্রা ‘ডিয়েম’ ব্যবহার করে দ্রুত ও বিনামূল্যে লেনদেন সুবিধা দিতে ডিজিটাল ওয়ালেটটি তৈরি করেছিল মেটা। তবে, নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা থাকায় কয়েনবেইজের সঙ্গে চুক্তি করে এর পরিবর্তে ‘ইউএসডিপি’র ‘পাক্সোস স্টেবলকয়েন’ ব্যবহার করতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

পরবর্তীতে মেটা অবশ্য ডিয়েম ক্রিপ্টোমুদ্রায় নোভি সমর্থনের পরিকল্পনার থাকার কথা জানালেও ২০২১ সালের শেষে এবং ২০২২ সালের শুরুতে সব এলোমেলো হতে শুরু করে।

ফেইসবুকের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ‘মেটা’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার আগে ডিয়েমও অন্য নামে পরিচিত ছিল। তখন এর নাম ছিল ‘লিব্রা’।

ফেইসবুকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্তের মুখোমুখি হয় এই ক্রিপ্টো প্রকল্প। সামাজিক মাধ্যমটি থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টায় নিজেদের নাম বদলে ‘ডিয়েম’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে প্রকল্পটি।

২০২১ সালের অক্টোবরে প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর মেটাকে এটি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল মার্কিন সিনেটের সদস্যরা। ক্রিপ্টোমুদ্রা পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ভরসা করা যাবেনা বলে তখন কারণ দেখিয়েছিলেন তারা।

এই ঘটনার এক মাস পর মেটা ছেড়ে দেন প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন ক্রিপ্টোমুদ্রা প্রধান ডেভিড মার্কাস। এই বছরের শুরুতে নিজেদের প্রায় ২০ কোটি ডলার সমপরিমাণ সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছে ডিয়েম, যা প্রকল্পের সমাপ্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে, ডিয়েমের এই সমাপ্তির মানে এই নয়, মেটা তাদের নিজস্ব ডিজিটাল সম্পদ ও ওয়ালেট তৈরির ধারণা থেকে সরে এসেছে।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ভার্জকে পাঠানো এক ইমেইল বিবৃতিতে মেটার মুখপাত্র লরেন ডিক্সন বলেছেন, মেটাভার্সে যাওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল সংগ্রহের মতো ‘নতুন পণ্য’ আনতে প্রকল্পটির সঙ্গে ‘তৈরি করা প্রযুক্তি’র ব্যবহার অব্যাহত থাকবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক