‘এলজিবিটি সার্চ’ নিষিদ্ধ আমিরাতের অ্যামাজনে

‎অনলাইন রিটেইল জায়ান্ট অ্যামাজনে সংযুক্ত আরব আমিরাত ওয়েবসাইট এলজিবিটি ব্যক্তি এবং তাদের সমস্যা নিয়ে অনুসন্ধানের ফলাফল দেখানো বন্ধ করে দিয়েছে।‎

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 July 2022, 09:49 AM
Updated : 3 July 2022, 11:01 AM

‎উপসাগরীয় রাজ্যেটির কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে পড়ে অ্যামাজন এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।‎

ব্যাপকভাবে প্রচলিত নারী-পুরুষ সম্পর্কের বাইরের লোকজন ‘এলজিবিটি’ নামে পরিচিত যার পূর্ণ রূপ লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল অ্যান্ড ট্রান্সজেন্ডার। এরা নিজেদের ‘নন-বাইনারি’ বলে পরিচয় দেন।

‎সংযুক্ত আরব আমিরাতে সমকামী যৌন সম্পর্ক অবৈধ। এলজিবিটি অধিকারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করাও সেখানে অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।‎

বিশ্বজুড়ে এলজিবিটি ব্যক্তিদের উদযাপনে প্রচলিত ‘প্রাইড মাসে’ই ‎এমন সংবাদ উঠে এলো।‎

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অ্যামাজনের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, “একটি কোম্পানি হিসাবে আমরা বৈচিত্র্য, ন্যায্যতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা বিশ্বাস করি এলজিবিটিকিউ+ মানুষের অধিকার অবশ্যই সুরক্ষা করা উচিত।”

সেইসঙ্গে তিনি যোগ করেন - “তবে, বিশ্বজুড়ে অ্যামাজন স্টোরগুলিকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্থানীয় আইন এবং প্রবিধানগুলিও অবশ্যই মেনে চলতে হয়।”

সংযুক্ত আরব আমিরাতের তরফে জরিমানার হুমকি আসার পর অ্যামাজন সার্চ ফলাফল সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে ‎ওয়াশিংটনে সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।‎

মাসের শুরুর দিকেই কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এলজিবিটি অধিকার সমর্থক মার্কিন দূতাবাসের একটি টুইটের প্রতিবাদে দেশটি একজন শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিককে তলব করেছে।‎

ওই টুইটে নন-বাইনারি সমর্থক রংধনু পতাকা এবং প্রাইড মাসে মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের সংহতিমূলক বার্তা ছিলো।‎

‎কুয়েত কর্তৃপক্ষ “সমকামিতায় সমর্থন প্রকাশের” জন্য দূতাবাসের সমালোচনা করে দাবি করেছেন, এমনটি যেন আর না ঘটে।‎

‎কুয়েতে এলজিবিটি মানুষের অধিকার খুবই সীমাবদ্ধ এবং সেখানে পুরুষের সমকামীতা নিষিদ্ধ।‎

সৌদি আরবেও কর্তৃপক্ষ এই মাসেই রংধনু নকশার খেলনা এবং শিশুদের পোশাক বাজেয়াপ্ত করেছে। অভিযোগ‎, এটি সমকামিতায় উৎসাহ যোগায়।‎

‎আল-ইখবারিয়ার এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সৌদি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রাজধানী রিয়াদের বিভিন্ন দোকান থেকে বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।‎

‎এর মধ্যে রয়েছে চুলের ক্লিপ, পপ-ইটস, টি-শার্ট, টুপি এবং পেন্সিল কেইস।‎

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক