হ্যাকারের নজরে ইউক্রেইনীয় কর্মকর্তাদের ফোন

ইউক্রেইনে রাশিয়ার চলমান সামরিক আগ্রাসনের মধ্যেই দেশটির সরকারী কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত ফোনের উপর নজর পড়েছে হ্যাকারদের। ধারণা করা হচ্ছে, ‘পেগাসাস স্পাইওয়্যার’-এর মতো কোনো নজরদারি সফটওয়্যার ব্যবহার করে এই হ্যাকিং কার্যক্রম চলছে।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 June 2022, 12:33 PM
Updated : 7 June 2022, 12:33 PM

কর্মকর্তাদের ফোনে নজর পড়ার বিষয়টি ইউক্রেইনের এক জ্যেষ্ঠ সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন সোমবার।

ইউক্রেইনের ‘স্টেট স্পেশাল কমিউনিকেশনস সার্ভিস’-এর উপ প্রধান ভিক্টর জোরা বলেছেন, দেশটির সরকারী কর্মীদের ব্যবহৃত ফোন টানা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।

“প্রধানত ম্যালওয়্যার ছড়ানোর মাধ্যমে, আমরা ইউক্রেইনীয় কর্মকর্তাদের ফোন হ্যাকিংয়ের বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা লক্ষ্য করছি।”--রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের একশ দিন অতিবাহিত হওয়া নিয়ে অনলাইনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেছেন জোরা।

জোরা আরও জানিয়েছেন, তার সংস্থার কোনো ডিভাইসে এখন পর্যন্ত হ্যাকিংয়ের প্রমান মেলেনি।

গত বছর পেগাসাস স্পাইওয়্যারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সরকারী নেতাদের ডিভাইস হ্যাকিংয়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

এই নজরদারি সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী এবং অন্যান্য সরকারী কর্মকর্তাদের ফোন নজরদারির শিকার হয়ে থাকে। ২০২১ সালের মে মাসে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর ফোন পেগাসাস স্পাইওয়ারের কবলে পড়েছিল বলে উঠে আসে ২০২২ সালের মে মাসের এক প্রতিবেদনে।

অত্যাধুনিক নজরদারি সফটওয়্যার ব্যবহার করে এমন ডিভাইস দূর থেকে এবং অদৃশ্যভাবে হ্যাকিংয়ের সক্ষমতাকে কিছু ক্ষেত্রে ‘জিরো ক্লিক’ হ্যাক নামে ডাকা হয়। কারণ এতে ‘ফিশিং লিঙ্ক’-এর মতো কোথাও ক্লিক করতে হয় না ভুক্তভোগী ব্যক্তিকে।

জিরো ক্লিক স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে ‘ইউরোপিয়ান কমিশন’ কর্মকর্তাদের ফোন সাইবার আক্রমণের শিকার হওয়ার কথা এপ্রিলের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

জোরা আরও বলেছেন, তিনি ও তার সহকর্মীরা ‘জিরো ক্লিক’-এর হুমকি সম্পর্কে অবগত আছেন। তবে, তাদের নিজস্ব কোনো ডিভাইসে এমন প্রচেষ্টা চালানোর বিষয়ে তারা জানেন কি না, সেটি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

“আমরা বিষয়টি পর্যাবেক্ষণ করে যাচ্ছি।”--বলেছেন তিনি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক