নিরাপদে মোবাইল ফোন ব্যবহারে এই ১০টি বিষয় মেনে চলুন

মোবাইল ফোন আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। যে কোনো যোগাযোগে, এমনকি মোবাইল ফোনের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন সেবা নেওয়ার বেলাতেও অনেক সময়েই আজকাল মোবাইল ফোন নাম্বার দিতে হচ্ছে। কোভিড-১৯ টিকা নেওয়া, বৃত্তির টাকা মোবাইল ফোনের অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রহন করার বিষয়গুলোই এই বক্তব্যের সত্যতার প্রমাণ দেয়।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Jan 2022, 08:13 AM
Updated : 14 Jan 2022, 08:13 AM

এর মানে হচ্ছে, চাইলেই সহজে মোবাইল ফোন বিচ্ছিন্ন জীবন কাটানো সম্ভব নয়। যেটা করা সম্ভব তা হচ্ছে, মোবাইল ফোনের ব্যবহার যেন যতটা সম্ভব নিরাপদ রাখা যায় সে উপায় বের করা। এ বিষয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বেতার তরঙ্গ বিষয়ক প্রযুক্তির সাইট আরএফপেইজ ডটকম। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই বিষয়গুলো নিয়ে-

০১. দীর্ঘ আলাপ এড়িয়ে চলুন
আমাদের আশপাশেই অনেকে আছেন, যারা একবার আলাপ জুড়ে দিলে তা চলতে থাকে দীর্ঘক্ষণ। গবেষকরা বলছেন, আপনার মাথা বা কানের কাছে মোবাইল ফোনটি থেকে ক্রমাগত রেডিও সিগনাল বের হচ্ছে এমন বিষয় দীর্ঘ সময় ধরে চলা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। মোবাইল ফোন থেকে বের হওয়া বিদ্যুচুম্বকীয় তরঙ্গ দীর্ঘ সময়ে মানব টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে। আর কানে মোবাইল ধরে ব্যবহার মানে হচ্ছে ওই তরঙ্গের আওতায় থাকছে আপনার কান, চোখ ও মস্তিষ্কের কোষ।

০২. ব্যবহার করুন ফোনের স্পিকার বা হেডফোন
হেডফোন বা ফোনের স্পিকারের মাধ্যমে কথা বলার সময়ও ফোন দূরে রাখা সম্ভব। অনেকেরই হাল ফ্যাশনের ব্লুটুথ হেডফোন পছন্দ। ব্লুটুথ প্রযুক্তি খুবই স্বল্প মাত্রার শক্তি ব্যবহার করে। ফলে অতিরিক্ত ব্যবহার না করলে সেটি নিরাপদ হিসেবেই দেখেন প্রযুক্তিবোদ্ধারা।

ছবি: রয়টার্স

মোদ্দা কথা হচ্ছে, তরঙ্গ পাঠায় এমন ডিভাইস শরীর থেকে দূরে রাখা উচিত। অব্যবহৃত অবস্থায় ফোন সম্ভব হলে কোনো ব্যাগের ভেতরে রাখুন। ফোন বিছানায় নিয়ে ঘুমাবেন না।

মোবাইল ফোনের টাওয়ার ক্রমাগত মোবাইল ডিভাইসে সিগন্যাল পাঠায় যাতে ডিভাইস এখনও নেটওয়ার্কে আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য।

০৩. প্রয়োজন না থাকলে সেলুরার ডেটা এবং ওয়াইফাই বন্ধ রাখুন
প্রয়োজন না থাকলে ফোনের সেলুলার ডেটা এবং ওয়াইফাই বন্ধ রাখুন। রাতে ঘুমানোর আগে সকল ওয়্যারলেস ট্রান্সমিশন বন্ধ রাখুন। এর মধ্যে রয়েছে, বাসার ওয়াইফাই, সকল ব্লুটুথ ডিভাইস।

ফোনের অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে নিজ থেকেই চলতে থাকে ও ডেটা ব্যবহার করে। ঘুমানোর সময় সে কারণেই এই সংযোগগুলো বন্ধ রাখার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

০৪. মোবাইলের দুর্বল সিগনাল এলাকা পরিহার করুন
সেলুলার টাওয়ার থেকে দুর্বল সিগনাল পেলে ফোন অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করে। আর তাই, মোবাইল টাওয়ার থেকে খুব খারাপ সিগন্যাল মেলে এমন জায়গাগুলি এড়িয়ে চলুন। এ কারণে বেসমেন্ট, ভূগর্ভস্থ পার্কিং স্টেশন এবং লিফটে মোবাইল ফোনের ব্যবহার এড়ানোর চেষ্টা করুন।

গাড়িতে ভ্রমণের সময়ও ফোন কল এড়িয়ে চলুন। এ সময় ফোন ক্রমাগত সেল টাওয়ারের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য সংকেত পাঠাতে থাকে। এ সময় সিগনাল প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য মোবাইল ফোন উচ্চ শক্তির বিকিরণ ঘটাতে পারে।

০৫. কম কল বেশি টেক্সট
দীর্ঘ কথোপকথনের তুলনায় লিখিত মেসেজ পাঠাতে কম ট্রান্সমিশন সময় লাগে ও নিরাপদে পাঠানো যায়। যেখানে এসএমএস, অ্যাপভিক্তিক টেক্সট বা ইমেইল পাঠানো যায় সেখানে ভয়েস কল এড়িয়ে চলুন।

ভয়েস কলের তুলনায় মেসেজ পাঠানোর সময় ফোন শরীর থেকে দূরে রাখা সম্ভব হয়।

০৬. সবচেয়ে নিরাপদ ল্যান্ডফোন
অফিস বা বাসায় থাকা অবস্থায় হাতের কাছে যদি ল্যান্ডফোন থাকে তবে মোবাইল ফোনের কল এড়িয়ে চলুন।

কোনো কারণে দীর্ঘ কথোপকথন দরকার হলে সেটির জন্য সম্ভব হলে ল্যান্ডলাইন ব্যবহার করুন।

০৭. শিশুদের মোবাইল ফোন থেকে দূরে রাখুন

ছবি: রয়টার্স

আরএফ বিকিরণের প্রভাব শিশুদের ওপর বেশি পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, মোবাইল ফোনের বিকিরণ হাড়ের ঘনত্বকে প্রভাবিত করে, বিশেষ করে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে। খুব দরকারি না হলে বাচ্চাদের মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করতে দেবেন না যদি না খুব জরুরী কিছু হয়।

০৮. বিকিরণ সুরক্ষার গ্যাজেট
বাজারে অনেক পণ্য আছে যেগুলো তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ থেকে সুরক্ষার করে। এমন অনেক পণ্য ৭৫ থেকে ৯০ শতাংশ বিকিরণ কমিয়ে আনার দাবি করে। এইসব বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হবেন না। কারণ, সিগনাল পেতে হলে নিরবচ্ছিন্ন তরঙ্গ বহাল রাখতেই হবে।

০৯. নিরাপদ চার্জিং
বৈদ্যুতিক শকের ঝুঁকি এড়ানো, সঠিক মাপের বিদ্যুৎ ব্যবহারে চার্জ নিশ্চিত করতে ফোন নির্মাতার তৈরি মূল চার্জারগুলি ব্যবহার করুন। চার্জ করার সময় ফোন এবং তারযুক্ত হেডসেটের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। মোবাইল ফোনে ঘটা দুর্ঘটনার একটি বড় অংশ ঘটেছে ফোন চার্জ করার সময়।

১০. প্রিয় অ্যাপের ডেস্কটপ সংস্করণ
আমাদের পছন্দের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনগুলির বেশিরভাগই এখন ডেস্কটপেও পাওয়া যায়। যখনই সম্ভব, এসব অ্যাপের ডেস্কটপ সংস্করণ ব্যবহার করুন, বিশেষ করে দীর্ঘ ভিডিও বা ভয়েস কলের জন্য।

পিসি বা ল্যাপটপ ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থাকতে ল্যান সংযোগ বা ওয়াইফাই ব্যবহার করে। দীর্ঘ কথোপকথনের জন্য স্মার্টফোনের চেয়ে এটি অনেক নিরাপদ বিকল্প।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক