কম্পিউটার প্রিন্টারের কালির দাম শ্যাম্পেনের চেয়ে বেশি!

ভোক্তা অধিকার সংগঠন 'হুইচ?' আবিষ্কার করেছে, ব্র্যান্ডেড প্রিন্টারের তথাকথিত 'জেনুইন' কালি তৃতীয় পক্ষের বিকল্পের চেয়ে “বিস্ময়করভাবে ব্যয়বহুল”। অথচ এর পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ নেই।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 July 2021, 01:47 PM
Updated : 25 July 2021, 01:47 PM

কিছু ক্ষেত্রে প্রিন্টারের কালি শ্যাম্পেনের চেয়েও দামি বলে বেরিয়ে এসেছে এ সংক্রান্ত এক জরিপ থেকে। এমনকি ‘নন ব্র্যান্ড’ কালির কারট্রিজ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডেড কালির চেয়েও ভাল কাজ করে বলে উঠে এসেছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে।

প্রিন্টারের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলি সবসময়ই পরামর্শ দেয় গ্রাহকরা যেন তৃতীয় পক্ষের কালি ব্যবহার না করেন। এমনকি কোনো কোনো ব্র্যান্ড অন্য কালি ব্যবহারে বাধাও দিচ্ছে।

করোনাভাইরাস মহামারীতে প্রায় সবাই যখন বাসা-থেক-কাজ করছেন, তখন বাড়িতে প্রিন্টার ব্যবহার করা কাজের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। সেটি পেশাদার ব্যক্তির বেলায় হোক বা শিক্ষার্থীদের জন্য।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ‘হুইচ?’ ১০ হাজার ভোক্তার উপর জরিপ করেছে যারা ইঙ্কজেট প্রিন্টারের মালিক। এদের অর্ধেক বলছেন, তারা সপ্তাহে অন্তত একবার তাদের প্রিন্টার ব্যবহার করেন। সবসময়ই নানা ধরনের জরিপ করা এই সংগঠনটি এই বছর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে- এখনও নিজস্ব ব্র্যান্ড এবং তৃতীয় পক্ষের কালি সরবরাহকারীদের মধ্যে “বিস্ময়কর ব্যয়পার্থক্য” রয়ে গেছে।

জরিপ থেকে পাওয়া ফলাফলের মধ্যে রয়েছে:

প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে কেনা কালি ২৮৬ শতাংশ পর্যন্ত দামী হতে পারে।

এপসন ওয়ার্কফোর্স ডাব্লুএফ-৭২১০ডিটিডব্লিউ প্রিন্টারের জন্য রঙের কালির একটি মাল্টিপ্যাকের দাম ৭৫.৪৯ পাউন্ড। সেই হিসেবে এক পাইন্ট কালির দাম ১,৩৬৯ পাউন্ড।

ব্রাদার এমএফসিজে ৫৭৩০ ডিডাব্লিউ এর জন্য কালির একটি মাল্টিপ্যাক খরচ ৯৮.৩৯ পাউন্ড।

ক্যানন পিক্সমা এমএক্স৪৭৫ এর জন্য কার্ট্রিজের দাম ৮০.৯৮ পাউন্ড।

বিকল্প কালিগুলি ১২.৯৫ পাউন্ডের এর মতো সস্তা হতে পারে। এর ফলে পাঁচ বছরে একজন ব্যবহারকারীর হাজারো পাউন্ড সাশ্রয় হতে পারে।

জরিপে আরও দেখা গেছে যে ২৮টি মডেলের এইচপি প্রিন্টার এখন “ডায়নামিক সিকিউরিটি” নামে একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করে যার ফলে ওই প্রিন্টাগুলোয় নন ব্র্যান্ড কালি ব্যবহার করা যায় না।

অন্যান্য নির্মাতারা তাদের ওয়েবসাইটে এবং নির্দেশনা ম্যানুয়ালে ‘অনুমোদিত’, ‘মূল’ বা ‘গ্যারান্টিযুক্ত’ কার্ট্রিজ কথাগুলো ব্যবহার করে।

হুইচ? বলেছে এর মাধ্যমে প্রিন্টার নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করেছে। শতকরা ৫৬ ভাগ ব্যবহারকারী বলছেন, তারা শুধুমাত্র ব্র্যান্ডেড কালি ব্যবহার করবেন, ৩৯ শতাংশ তাদের প্রিন্টারে কাজ করবে না এই ভয়ে তৃতীয় পক্ষের কালি এড়িয়ে চলবেন।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ব্যবহারকারীরা মূল এবং তৃতীয় পক্ষের কালির প্রিন্টের বেলায় একই মান পেয়েছেন বলে রেটিং দিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, ১৬টি কালির বেলায় তারা বলছেন, এগুলো তথাকথিত জেনুইন কালির চেয়ে ভালো প্রিন্ট দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ব্রাদার, ক্যানন, এপসন এবং এইচপির কালি।

'জেনুইন' কালি

হুইচ?-এর ভোক্তা অধিকার বিশেষজ্ঞ অ্যাডাম ফ্রেঞ্চ বলেছেন: “প্রিন্টারের কালির দাম দামী শ্যাম্পেন বা শ্যানেল নাম্বার ৫-এর বোতলের মতো হওয়া উচিত নয়।

“আমরা দেখেছি অনেক তৃতীয় পক্ষের পণ্য রয়েছে যেগুলো ভগ্নাংশ মূল্যেই মানের দিক থেকে ব্র্যান্ডেড পণ্যগুলোকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, কোন কালি প্রিন্টারে ব্যবহার করা হবে সে সিদ্ধান্তটি “যার যার ব্যক্তিগত পছন্দ হওয়া উচিত, প্রিন্টার নির্মাতার কথামতো নয়।”

এর জবাবে, এইচপি বলেছে যে গ্রাহকদের এইচপি ইনস্ট্যান্ট কালি ব্যবহার করার বিকল্প রয়েছে। এটি একটি সাবস্ক্রিপশন পরিষেবা যা গ্রাহকদের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ বাঁচাতে পারে।

“এইচপি গ্রাহকদের মূল এইচপি কার্ট্রিজ বা তৃতীয় পক্ষের কার্ট্রিজ ব্যবহার করার সুযোগ দেয়, তবে ওই কার্ট্রিজগুলোয় মূল এইচপি চিপ থাকতে হবে।”

এপসন তার ইকোট্যাঙ্ক প্রিন্টার মডেলগুলির প্রসঙ্গে বলে, এই প্রিন্টারগুলো তিন বছর পর্যন্ত প্রিন্ট করার জন্য পর্যাপ্ত কালি নিয়ে আসে। আর এরপর কালির দাম শুরু হয় ৭.৯৯ পাউন্ড থেকে।

সেইসঙ্গে এপসন বলছে, “যেহেতু নন-ব্র্যান্ড কালিগুলো এপসনের ডিজাইন বা পরীক্ষা মেনে আনা হয় না, তাই আমরা গ্যারান্টি দিতে পারি না যে এই কালিগুলি প্রিন্টারের ক্ষতি করবে না।”

ব্রাদার বলছে, যে তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডের কালি “উচ্চমানের”। তবে গ্রাহকরা সেগুলি ব্যবহার করবেন কি না সেটি তাদের বিষয়।

আর ক্যানন বলেছে, তৃতীয় পক্ষের কালিও তাদের প্রিন্টারের সঙ্গে কাজ করতে পারে। তবে, “ভেতরের প্রযুক্তিটি আমাদের আসল কালি দিয়ে সঠিকভাবে কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে”।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক