আত্মহত্যায় সহায়তা করতে ‘সুইসাইড পড’

মৃত্যু কাম্য নয়। তবে, কারো কারো ক্ষেত্রে দীর্ঘ অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে মৃত্যুই পতে পারে কাঙ্ক্ষিত। এমন ব্যক্তিদের জন্যই জীবনের ইতি টানায় সহায়তা করতে একটি ৩ডি প্রিন্টেড ‘সুইসাইড পড’ উন্মোচন করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 July 2019, 09:51 AM
Updated : 27 July 2019, 09:51 AM

পডটি বানিয়েছেন ড. ফিলিপ  নিটশকে। মানুষকে যন্ত্রণাহীন মৃত্যু বা ইউথানাশিয়ার পথ খুলে দিতে অনেক দিন ধরে কাজ করছেন তিনি। ‘ড. ডেথ’ নামেও পরিচিত তিনি।

নতুন এই সুইসাইড পডে রোগীকে মৃত্যু দিতে নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। ২০১২ সালে প্রথম এ ধরনের একটি গ্যাস চেম্বারের নকশা দেখানো হয়েছিল।

সুইসাইড পডে কোনো ব্যক্তিকে পডের মধ্যে ক্যাপসিউলের ভেতর রাখা হয়। এরপর এতে নাইট্রোজেন গ্যাস সরবরাহ করা হয়। ফলে ধীরে ধীরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমতে থাকে এবং বায়ুর অভাবে ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে।

মৃত্যুর পর পডটি স্বয়ংক্রিভাবে আলাদা হয়ে যায় এবং এটিকে কফিন হিসেবে ব্যবহার করা যায় বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ‘প্রো লাইফ’ ও ইউথানাশিয়া বিষয়ক ওয়েবসাইট লাইফ নিউজ।

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে ‘ডিজরাপ্টিং ডেথ’ কর্মশালায় প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে সুইসাইড পডটি। এর উদ্দেশ্য মানুষকে বোঝানো যে, জীবনের ইতি কীভাবে টানতে হবে। মূলত পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তি এবং মরণঘাতি রোগে আক্রান্তদেরকে উদ্দেশ্য করেই বানানো হয়েছে এটি। কর্মশালায় দাবি করা হয়েছে, পডটি মানুষকে ‘স্টাইল এবং আনন্দের সঙ্গে’ জীবনের ইতি টানতে সহায়তা করতে পারে।

এক্সিট ইন্টারন্যাশনালে কথা বলার সময়  নিটশকে বলেন, “পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত একটি মেশিন তৈরিতে আমার দীর্ঘদিনের আগ্রহ ছিলো। তাই কোনো ব্যক্তি খুব সহজেই মেশিনে ঢুকে একটি বাটনে চেপে খুব শান্তিতে প্রায় আনন্দের সঙ্গে মরতে পারবেন।”

নিটশকে আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় সুইসাইড পডের ব্যবহার অবৈধ নয়, দেশটিতে এটি কোনো অপরাধও নয়। ২০১৭ সালেই দেশটির ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর আইন পাস করা হয়েছে, যা চলতি বছরের জুন মাসে কার্যকর হয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ আগেই মরণব্যধির এক রোগীকে প্রথমবারের মতো বিষাক্ত মাদক দিয়ে জীবনের ইতি টানার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখনও আত্মহত্যার এই অনুমোদন কাজে লাগাননি এই রোগী।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে অনেক দেশেই আত্মহত্যার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এতে দিন দিন সমর্থন বাড়ছে চিকিৎসকদের।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রোগীর জীবনের ইতি ঘটিয়েছেন এমন ডাক্তাররা এনসিসিএমএআইডি নামের একটি সংস্থায় বিনিয়োগও করেছেন। আত্মহত্যা করতে চান এমন ব্যক্তিদের জীবনের ইতি কীভাবে টানতে সহায়তা করতে হয় তা চিকিৎসকদের শেখায় সংস্থাটি।

২০১৮ সালে দুইজন কানাডিয়ান ডাক্তার এবং একজন বায়োএথিসিস্ট রোগী জীবিত থাকা অবস্থায়ই তার অঙ্গ নেওয়ার জন্য অনুমতি চেয়েছেন। যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর অনুমতির জন্য তারাও স্বাক্ষর করেছেন।

২০১৬ সালে কানাডায় ইউথেনিশিয়া বৈধ ঘোষণা করার পর থেকে সেখানে স্বেচ্ছামৃত্যুর ঘটনা দেখা গেছে অন্তত ৬৭৪৯টি। বেলজিয়ামে প্রতিদিন অন্তত পাঁচজন নাগরিক ইউথেনিশিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন।

এসপিইউসি-এর জনসংযোগ পরিচালক মাইকেন রবিনসন বলেন, “বিশ্বজুড়ে স্বেচ্ছামৃত্যু এবং ইউথেনিশিয়ার হার অনেক বাড়ছে। যারা মানসিকভাবে দূর্বল এ ধরনের মৃত্যুর উদাহরণ তাদেরকে সাহায়তা করতে পারে এবং তারা কোনো রকম ভয় ছাড়াই মৃত্যুকে বরণ করে নিতে পারেন।”