ওয়েবসাইট বন্ধ রেখে উইকিপিডিয়ার প্রতিবাদ

ইতালীয় ভাষার ওয়েবসাইট বন্ধ রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবিত কপিরাইট আইনের প্রতিবাদ জানিয়েছে উইকিপিডিয়া ইতালি।

>> ডয়চে ভেলে বাংলাবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 July 2018, 02:36 PM
Updated : 4 July 2018, 02:40 PM

তারা বলছে, ওই আইন মহলে ‘ইন্টারনেটের স্বাধীনতা' হুমকিতে পড়বে৷ অন্যদিকে পত্রিকা মালিকরা বলছেন, সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ রক্ষায় এ আইন জরুরি৷

উইকিপিডিয়ার এক মুখপাত্র জানান, তাদের ইতালীয় সংস্করণটি দুই দিনের জন্য বন্ধ থাকবে৷

তাদের ওয়েবসাইটে এখন লেখা রয়েছে, ‘হুমকিতে ইন্টারনেটের স্বাধীনতা'৷

 

ইতালির ফাইভ স্টার মুভমেন্টের নেতা দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী লুইজি ডি মাইও জানিয়েছেন, এই প্রতিবাদে তার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে৷

সরকারের এই সমর্থনকে স্বাগত জানিয়েছেন উইকিপিডিয়া ইতালির মুখপাত্র মাউরিৎসিও কোডোনিও।

সংবাদ সংস্থা এএনএসএকে তিনি বলেন, ‘‘আমরা আশা করি, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দলটির যে প্রতিনিধিরা আছেন, তারাও মাইওর সাথে একমত৷''

সমালোচকরা বলছেন, ইন্টারনেটে তথ্যের লাইসেন্সের ব্যাপারে নতুন করে বিধিনিষেধ জারির যে পরিকল্পনা ইউরোপীয় ইউনিয়ন করছে, তাতে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুলিশের কাছে আরো বেশি জবাবদিহি করতে হবে৷

বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ওই আইন করার প্রস্তাবের ওপর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে৷

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট অবশ্য বলছে, এনসাইক্লোপিডিয়া ক্যাটাগরিতে পড়ায় উইকিপিডিয়া এই আইনের অন্তর্ভূক্ত হবে না৷

কিন্তু উইকিপিডিয়া বলছে, অন্য যেসব প্রতিষ্ঠান এ আইনে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের সমর্থনেই এই প্রতিবাদ৷

কোডোনিও বলেন, উইকিপিডিয়া ‘শুধু নিজেদের বাঁচাতে নয়, বরং মুক্ত ইন্টারনেটের পক্ষে’ লড়াই করছে৷

এক প্রতিবাদলিপিতে উইকিপিডিয়া ছাড়াও ৭০ জন কম্পিউটার বিজ্ঞানী, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের প্রতিষ্ঠাতা টিম বার্নার্স লি, ১৬৯ জন শিক্ষাবিদ এবং ১৪৫ জন মানবাধিকারকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মী প্রস্তাবিত ওই আইনের নিন্দা জানিয়েছেন৷

এদিকে উইকিপিডিয়ার ঠিক বিপরীত অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন সংবাদপত্রের প্রকাশকরা৷ ইউরোপিয়ান নিউজপেপার পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কার্লো পেরোনে উলটো দুষছেন উইকিপিডিয়াকেই৷

তিনি বলেন, ‘‘উইকিপিডিয়া শুধু কপিরাইট নিয়ে প্রশ্ন নয়, বরং তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র নিয়ে আরো বড় বিতর্ক তৈরি করতে চাচ্ছে৷ গণমাধ্যমের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে তারা হুমকিতে ফেলে দিচ্ছে৷ তাদের এ অবস্থান শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মত সংস্থাকে প্রভাবিত করতে চাওয়ার অপচেষ্টা৷''

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক