‘র‍্যানসমওয়্যার’ হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়া?

বিশ্বজুড়ে কম্পিউটার ম্যালওয়্যার ‘র‍্যানসমওয়্যার’ হামলার জন্য কারা দায়ী তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যে উত্তর কোরিয়ার নাম শোনা যাচ্ছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 May 2017, 07:59 AM
Updated : 16 May 2017, 12:57 PM

বড় ধরনের এই সাইবারহামলার পেছনে ‘উত্তর কোরিয়ার হাত রয়েছে’- এই তত্ত্ব অন্যতমআলোচ্য হলেও সিদ্ধান্ত টানার সময় এখনও আসেনি বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ল্যাজারাস গ্রুপনামে অত্যন্ত উঁচুমানের একটি হ্যাকারগোষ্ঠী এই ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখে থাকতেপারে। চীনের এই গোষ্ঠী উত্তর কোরিয়ার পক্ষে তৎপরতা চালায় বলে ব্যাপক জনশ্রুতি আছে।

২০১৬ সালে সাইবার হামলাচালিয়ে বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির ঘটনা ও ২০১৪ সালে সনির হলিউড স্টুডিওতে বহুলআলোচিত সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িয়ে ‘ল্যাজারাসের’ নামএসেছিল।

বিবিসি বলছে, গুগলেরনিরাপত্তা গবেষক নিল মেহতার নতুন উদ্ভাবনের পর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা খুব সতর্ক হয়েসর্বশেষ হামলার ঘটনার ল্যাজারাসের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ভাবছে।

“সন্দেহভাজনল্যাজারাস গ্রুপের তৈরি আগের সাইবার হামলায় ব্যবহৃত ‘টুলস’ ও চলমান সাইবার হামলায় ব্যবহৃত ‘ওয়ানাক্রাই’ নামে সফটওয়্যারের ভেতরের কোডেরমধ্যে সামঞ্জস্য পাওয়া গেছে।”

এছাড়াও সন্দেহজনক আরও ক্লু রয়েছে,যে বিবেচনার দাবি রাখে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গত শুক্রবার বিশ্বের১০০টির মতো দেশে একটি ‘র‌্যানসমওয়্যার’ ছড়িয়ে পড়ে, যাতে আক্রান্ত হয় স্বাস্থ্য ও টেলিকমসহ বিভিন্ন খাতের বেশ কিছু বড়প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক। 

বাংলাদেশেও এই পর্যন্তঅন্তত ৩০ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছেন দেশের সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক অ্যালানবিবিসি প্রতিবেদককে পাঠানো এক ইমেইলে দেখিয়েছেন, মূল ‘ওয়ানাক্রাই’ কোডের মধ্যেটাইম স্ট্যাম্পসে টাইম জোন ‘ইউটিসি + ৯’ (চীনের টাইম জোন) সেট করা আছে। মুক্তিপণদাবির জন্য যে ‘টেক্সট’ ব্যবহার করা হয়েছিল, তা যন্ত্রঅনুদিত ইংরেজির মতো দেখাগেলেও চীনা অংশ একজন চীনাভাষীর লেখা বলে মনে হচ্ছে।

তবে বিষয়টি আরও তদন্তের দাবি রাখেবলে মনে করেন অধ্যাপক ওডওয়ার্ড।

বিষয়টি নিয়ে এর মধ্যেই তদন্ত শুরুহয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

রুশ সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানিক্যাসপারস্কি বলছে, “ওয়ানাক্রাইয়ের উৎপত্তি নিয়ে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণআবিষ্কার নিল মেহতার।”

তবে এবিষয়ে দৃঢ় সিদ্ধান্তে আসার আগেওয়ানাক্রাইয়ের আগের সংস্করণগুলোর বিষয়ে আরও অনেক তথ্য জানতে হবে বলে কোম্পানিটিরঅভিমত।

“বাংলাদেশ ব্যাংকে হামলার ঘটনারশুরুর দিকে নজর দিলে দেখা যাবে সেখানে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে যেগুলো ল্যাজারাসগ্রুপের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।

“একটা সময়ের পরে আরও প্রমাণ হাজির হওয়ারপর ওই সংযোগের বিষয়ে আরও জোরের সঙ্গে বলা গেছে। এখন শূন্যস্থান পূরণে আরও গবেষণারপ্রয়োজন রয়েছে।”

নিশ্চিত না হয়ে শুধু ঐকমত্যেরভিত্তিতে সাইবার হামলার বিষয়ে ইঙ্গিত করা খুবই কঠিন।

সনি পিকচার্সে হামলার ঘটনাই ধরা যাক,ওই ঘটনায় জড়িত থাকার থাকার কথা উত্তর কোরিয়া স্বীকার করেনি। কিন্তু নিরাপত্তাগবেষক ও যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই তত্ত্বে বিশ্বাস রেখেও এটার ‘ভুয়া’ হওয়ার সম্ভাবনাউড়িয়ে দেয়নি।

একই ধরণের কৌশল ব্যবহার করে এইহামলা উত্তর কোরিয়া থেকে উৎপত্তি হয়েছে এমনটা দেখানো দক্ষ হ্যাকারদের পক্ষেওসম্ভব।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক