বিদায় ব্ল্যাকবেরি

প্রযুক্তি দুনিয়ায় ‘স্মার্টফোন’ শব্দটিতে যে প্রতিষ্ঠানের অবদান সম্ভবত সবচেয়ে বেশি, সেই ব্ল্যাকবেরি আর ফোন তৈরি করবে না।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Sept 2016, 01:46 PM
Updated : 28 Sept 2016, 02:09 PM

নিজ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কানাডীয় স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। ওই প্রতিবেদনে মোট আয়ের ক্ষেত্রে বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠান প্রধান জন চেন ‘প্রত্যাশা পূরণ না হলে’ হার্ডওয়্যার বিভাগ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ২০১৫ সালেই জানিয়েছিলেন।

লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর স্মার্টফোন ব্যবসায় বন্ধ ও সফটওয়্যার ব্যবসায়ে নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছে এক সময় স্মার্টফোন যুগের সূচনা করা প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে স্মার্টফোন ইতিহাসে একটি যুগের অবসান হল।

এ বছর দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্ল্যাকবেরি'র মোট আয় হয় ৩৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যদিও বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল ৩৯ কোটি ডলার। সফটওয়্যার খাতে প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় ১৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা একই সময়ে ২০১৫ সালে হওয়া আয়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু এর আগের প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি এই খাতে ১৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় করলেও, এবার তা অনেক কমে গেছে। শেষ লেনদেন খবর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারমূল্য ছয় শতাংশ বেড়ে ৮.৩৫ ডলার হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

অর্থ হারাতে থাকা ডিভাইস ব্যবসায়ের জন্য চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসকে ডেডলাইন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী জন চেন। আর তার এই কথার কারণেই এতদিন দম চেপে বসে ছিলেন বাজার বিশ্লেষকরা, বলা হয়েছে ব্লুমবার্গ-এর প্রতিবেদনে। ডিভাইস ব্যবসায় 'মবিলিটি সলিউশনস'-এর ক্ষেত্রে ব্ল্যাকবেরি এখন অ্যাপ নির্মাণ ও গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বানাতে নজর দেবে।

এক বিবৃতিতে চেন বলেন, "আমাদের নতুন মোবাইল সলিউশনস কৌশল হবে পরিবর্তনের আভাস দেখানো, এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় একটি টেলিকম জয়েন্ট ভেনচার-এর সঙ্গে ডিভাইস সফটওয়্যার লাইসেন্সিং নিয়ে আমাদের প্রথম বড় ধরনের চুক্তি অন্তর্ভূক্ত। এই কৌশলের আওতায় আমরা নিরাপত্তা ও অ্যাপ্লিকেশনসহ সফটওয়্যার নির্মাণে মনোযোগ দিচ্ছি।"

"প্রতিষ্ঠানটি সব অভ্যন্তরীণ হার্ডওয়্যার উন্নয়ন ব্যবসায় ইতি টানার আর অংশীদারদের জন্য আউটসোর্সিং করার পরিকল্পনা করছে"- যোগ করেন তিনি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক