চলে গেলেন ‘সিলিকন ভ্যালির স্রষ্টা’

মার্কিন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইনটেল-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ডি গ্রোভ সোমবার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৯ বছর। তবে তার মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি।

ইফতেখার আহমেদবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 March 2016, 01:47 PM
Updated : 22 March 2016, 01:47 PM

হাঙ্গেরিয়ান বংশোদ্ভুত অ্যান্ডি গ্রোভ ১৯৬৮ সালের ১৮ জুলাই রবার্ট নয়িস এবং গর্ডন মুর-এর সঙ্গে যৌথভাবে ইনটেল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯৭৯ থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট এবং ১৯৮৭ থেকে এর সিইও হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তার মৃত্যুর খবর ইনটেল-এর পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় বলে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট সিনেট। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সিইও ব্রায়ান ক্র্যাজানিচ এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “অ্যান্ডি বারবার অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন, এবং নানা প্রজন্মের প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের উৎসাহিত করেছেন।”

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, “তিনি মেমরি চিপ থেকে ইনটেল-এর মনোযোগ মাইক্রোপ্রসেসরে সরানোর সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তাদের কাছে সুপরিচিত একটি ব্র্যান্ডে পরিণত করায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।”

হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে জন্ম নেওয়া গ্রোভ ১৯৫৬ সালে তৎকালীন কমিউনিস্ট হাঙ্গেরি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। পরবর্তীতে তিনি সিটি কলেজ অফ নিউ ইয়র্ক-এ কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৬৩ সালে বার্কলে-এর ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ফেয়ারচাইল্ড সেমিকনডাক্টরে যোগ দেন, যেখানে মুর ও নয়িস কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তারা ইনটেল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ফেয়ারচাইল্ড সেমিকনডাক্টর ছেড়ে গেলে গ্রোভ তাদের সঙ্গে যোগ দেন।

১৯৮০ থেকে ৯০ সালের মধ্যে গ্রোভের নাম সিলিকন ভ্যালির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল। ‘ডিজিটাল বিপ্লব’-এ তার সক্রিয় ভূমিকার জন্য ১৯৯৭ সালে মার্কিন টাইমস ম্যাগাজিন তাকে ‘ম্যান অফ দ্যা ইয়ার’ খেতাবে ভূষিত করে। ম্যাগাজিনটি তাঁকে ‘মাইক্রোচিপ ক্ষেত্রে অসাধারণ অগ্রগতি এবং উদ্ভাবনী শক্তির জন্য সবচেয়ে বেশি কৃতিত্বের দাবিদার’ হিসেবে উল্লেখ করে। ২০১৫ সালে গ্রোভ-কে ‘সিলিকন ভ্যালির স্রষ্টা’ হিসাবে ঘোষণা করেন মার্কিন ভেনচার ক্যাপিটালিস্ট বেন হরো উইটজ।

প্রযুক্তিক্ষেত্রের বাইরেও অ্যান্ডি তার বিভিন্ন উক্তির জন্য সুপরিচিত ছিলেন। এর মধ্যে ছিলো- “সাফল্য সন্তুষ্টির জন্ম দেয়, আর সন্তুষ্টি জন্ম দেয় ব্যর্থতার”। এ ছাড়া ১৯৯৬ সালে তার বেস্ট সেলার ‘অনলি দ্য প্যারানয়েড সার্ভাইভ’ বইটির শিরোনাম ব্যবসায়ী সমাজের মূলমন্ত্র হয়ে পড়ে।

২০০০ সালে তার পার্কিনসন্স রোগ ধরা পড়ে। ইনসাইড ফিলানথ্রফি’র তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে তিনি রোগটির গবেষণাক্ষেত্রে কমপক্ষে ২৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেন।

গ্রোভ-এর মৃত্যুতে টুইটার বার্তায় শোক প্রকাশ এবং সম্মান প্রদর্শন করেছেন অ্যাপল-এর সিইও টিম কুক এবং উদ্যোক্তা মার্ক অ্যান্ড্রিসেন ও জন ডয়েরসহ প্রযুক্তিক্ষেত্রের অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। ইয়াহু এবং অটোডেস্ক-এর প্রাক্তন সিইও ক্যারল বার্টজ বলেন, “তিনি যে আমাদের সবার কাছে কী ছিলেন তা আমি বলে বোঝাতে পারবো না। আমি ইনটেল-এ কাজ করিনি-কিন্তু তারপরও আমি তার প্রত্যাশা পূরণ করতে চেয়েছিলাম।” এ ছাড়াও তিনি গ্রোভ-এর সততা ও বাস্তববাদীতার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।