সবার খুশিতে বড়দিনের বাতি

বড়দিনের আনন্দ ভাগভাগি করে নেওয়ার জন্য এক অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছে আলাস্কার উডস পরিবার। বড়দিনে ঘর সাজাতে ব্যবহার করা নিজেদের রঙিন বাতিগুলোর নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়েছেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের হাতে। পরিবার প্রধান কেন উডসের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে যে কেউ বাতিগুলো জ্বালাতে বা নেভাতে পারবেন দিনের যে কোনো সময়।

নাজিয়া শারমিনবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Dec 2015, 01:06 PM
Updated : 16 Dec 2015, 01:06 PM

এমনকি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরাও আসলেও বাতি জ্বালাতে বা নেভাতে পারছেন কি না সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সাইটটিতে আছে লাইভ ভিডিও দেখার সুবিধা। দিন-রাত ২৪ ঘন্টার যে কোনো সময় উডস পরিবারের সাজসজ্জায় ব্যবহৃত বাতিগুলোর কোনটি কখন জ্বলবে-নিভবে তার পুরোটাই থাকবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের হাতে। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানিয়েছে, উডস পরিবারের বাসস্থান আলাস্কার ফেয়ারব্যাংকসে। পরিবার প্রধান কেন উডস একজন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের জন্য বাড়ির বাইরে একটি গাছে ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছেন তিনি। ওই ক্যামেরার মাধ্যমেই ক্রিসমাস বাতি জ্বলছে নাকি নিভছে সেটা দেখতে পারেন তার ওয়েবসাইটের ভিজিটররা।

এ প্রসঙ্গে উডস বলেন, “প্রথম বছর আমরা একটা গাছে বাতি ঝুলিয়ে একটা ওয়েব ক্যামেরা সেদিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিলাম।” পরবর্তীতে তার স্ত্রীর পরামর্শ আর ভিজিটরদের আগ্রহের কারণে আরও বড় পরিসরের আয়োজন করেছেন কেন।

এই বছর কেন আর তার স্ত্রী রেবেকা-এলেন ভিজিটরদের জন্য তাদের আলাস্কার বাড়ির মোট ১১টি স্থানের লাইট অন-অফের ব্যবস্থা রেখেছেন। তাদের ওয়েবসাইট থেকে লিঙ্কে মাত্র একটি ক্লিকেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বাতিগুলো।

আর এমন ভিজিটরের সংখ্যাটাও একদম কম নয়। “কত মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা লাইট অন-অফের জন্য বসে থাকে তার সংখ্যা আপনাকে অবাক করবে”-- এমনটাই বলেন কেন উডস।

বাড়ির সব জায়গার সুইচ নিয়ন্ত্রণে ১৬টি বৈদ্যুতিক পোর্ট নিয়ে একটি বক্স বানিয়েছেন কেন। তিনি বলেন, “ওই বক্সে মূলত একটি ছোট কম্পিউটার আছে। যখনই কেউ লিঙ্কে ক্লিক করেন, এটি ওয়েব সার্ভারে একটি নির্দিষ্ট সংকেত পাঠায় যা আলাদা পোর্টের লাইট অন আর অফ করে।”

বাড়ির আশপাশে কোনও প্রতিবেশী না থাকায় এ নিয়ে কোনো প্রকার অভিযোগও পেতে হয় না উডস পরিবারকে। তাই নেই কোনো বাড়তি ঝামেলা। বরং ইন্টারনেটের মাধ্যমে বড়দিনের ছুটি উদযাপনে এমন একটা ব্যবস্থা সত্যিই উপভোগ্য বলে মনে করেন কেন।