নিয়ন্ত্রক সংস্থার ২ সিদ্ধান্তে পতন কাটিয়ে ঘুরল পুঁজিবাজার

নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুই সিদ্ধান্তে পুঁজিবাজারে বড় পতন কাটিয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে দেশের উভয় পুঁজিবাজার।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 March 2022, 11:39 AM
Updated : 8 March 2022, 12:40 PM

মঙ্গলবার দিন শেষে তিন দিনের নিম্নমুখী ধারা থামার পাশাপাশি লেনদেনও কিছুটা বেড়েছে।

অথচ শুরুটা হয়েছিল আগের মতোই বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কে শেয়ার বিক্রির মধ্য দিয়েই। এতে সপ্তাহের তৃতীয় দিন মঙ্গলবার প্রথম ঘণ্টার লেনদেনেই প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১১৮ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ পড়ে যায়। বেলা ১১টায় সূচক ছিল ৬ হাজার ৩৩৫ পয়েন্ট।

ইউক্রেইন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বাজারে অস্থিরতার যে প্রভাব দেখা দিয়েছিল তা এদিনও লেনদেনের শুরুতে বহাল ছিল। বাধাহীনভাবে ভালো-মন্দ সব ধরনের শেয়ারের দর কমতে থাকে নির্বিচারে। দ্রুতই সূচকের পতন সেঞ্চুরি ছাড়িয়ে ১৫০ পয়েন্ট কমার দিতে ধাবিত হতে থাকে। আরও দর কমবে এমন আতঙ্কে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি ফোর্স সেল চলতে থাকলে সূচক কমতে থাকে তড়তড়িয়ে।

এরপর সেকেন্ডারি মার্কেটে তারল্য প্রবাহ বাড়াতে বিএসইসি গঠিত পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল (সিএমএসএফ) থেকে আরও ১০০ কোটি টাকা দ্রুত বিনিয়োগের নির্দেশ দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। এ খবর বাজারে আসার পর পতন থেমে আস্তে আস্তে শেয়ার কেনার পরিমাণ বাড়তে থাকে।

একই সঙ্গে শেয়ারদর কমার বেলায় নিচের দিকে ২ শতাংশ সার্কিট ব্রেকার দেওয়া হচ্ছে এমন খবরও বাজারে আসে। দিন শেষে এক সার্কুলারে তা বুধবার থেকে কার্যকর করার কথা জানায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এরপর নতুন করে শেয়ার বিক্রির চাপ কমতে থাকে এবং প্রায় সব শেয়ার হারানো দর ফিরে পেতে শুরু করে। এতে বড় পতন কাটিয়ে দিন শেষ প্রধান বাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৭ পয়েন্ট বেড়ে যায়। অথচ দিনের এক পর্যায়ে তা ১৫০ পয়েন্টের মতো কমে গিয়েছিল।

চলতি সপ্তাহের শুরুটাই হয়েছিল পতন দিয়ে। রোববার ডিএসইএক্স কমে যায় ৫৭ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট, সেদিন প্রায় আড়াইশ শেয়ারের দাম কমে।

ইউক্রেইনে যুদ্ধের জেরে সোমবার সকালেই বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে গেলে ঢাকার পুঁজিবাজারে ভর করে আতঙ্ক।

শেয়ার বিক্রির চাপে ডিএসইএক্স এক দিনেই ১৮২ দশমিক ১২ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে যায়।

শতাংশের হিসাবে এটা ছিল গত ১১ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন। লেনদেন হওয়া ৯৬ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম পড়ে যায় সোমবার।

এমন প্রেক্ষাপটে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুই সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী হলে পতন থেমে ঊর্ধ্বমুখী হয় সূচক।

দিন শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিন থেকে ১৭ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বা দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৪৭৪ দশমিক ২৯ পয়েন্ট অবস্থান করছে।

মঙ্গলবার ঢাকার বাজারে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বেড়ে ৭৪৬ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচায় হ। আগের কর্মদিবসে যা ছিল ৭৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

এদিন এ বাজারে লেনদেন হওয়া ৩৭৮টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মধ্যে দর বেড়েছে ২১৭টির এবং কমেছে ১১৬টির। অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৫টির দর।

ঢাকার অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ৪ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৯৯ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্টে।

ডিএস৩০ সূচক দশমিক ৩২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৩৭৪ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্টে।

লেনদেনের শীর্ষ ১০

বেক্সিমকো লিঃ, বিএসসি, বিকন ফার্মা, স্কয়ার ফার্মা, বিএটিবিসি, লাফার্জ হোলসিম, অরিয়ন ফার্মা, অগ্নি সিস্টেম, ফরচুন সুজ ও ব্র্যাক ব্যাংক।

দাম বাড়ার শীর্ষ ১০

বিডি থাই ফুড, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, বিডি কম, এনভয় টেক্স, ইনটেক অনলাইন, কুইনসাউথ টেক্সটাইল, বিজিআইসি, তৌফিকা ফুড, অগ্নি সিস্টেম ও ড্রাগন সোয়েটার।

দর হারানো শীর্ষ ১০

হাওয়া অয়েল টেক্সটাইল, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, বিডি ফাইন্যান্স, ভিএএমএল আরবিবিএফ, বিএনআইসিএল, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, আরামিট সিমেন্ট, ব্র্যাক ব্যাংক, সাভার রিফ্রেক্টরিজ ও ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স।

এদিন চট্টগ্রামের পুঁজিবাজার সিএসইতেও সূচক ও লেনদেন বেড়েছে।

এ বাজারের প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২৮ দশমিক ৯১ পয়েন্ট বা দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়ে অবস্থান করছে ১৯ হাজার ১৮ দশমিক শূন্য ২ পয়েন্টে।

লেনদেন হওয়া ২৭৪টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৭টির, কমেছে ১১৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির দর।

মঙ্গলবার এ বাজারে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বা ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা বেশি হয়েছে। মোট ২২ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ২০ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক