বিশ্বকাপে পাপের শাস্তি

ফাউলের জন্য অপরাধের মাত্রা বুঝে কখনো হলুদ কার্ড, কখনো আবার লাল কার্ড দেখেন ফুটবলাররা। তবে অন্যরকম কিছু অপরাধ করেও অনেকে আলোচনায় এসেছেন, লাল কার্ড দেখেছেন। ইতালির বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেস জর্জো কিয়েল্লিনিকে কামড়ে দিয়ে আবার সামনে তুলে এনেছেন বিশ্বকাপ ফুটবলে সেই সব অপরাধ আর তার প্রেক্ষিতে পাওয়া শাস্তিগুলোকে।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 June 2014, 05:30 PM
Updated : 25 June 2014, 05:30 PM

রবার্তো রোসাস, বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব ১৯৮৯

চিলির গোলরক্ষক বদনাম কুড়িয়েছেন ব্রাজিলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের একটি ম্যাচে ইচ্ছাকৃতভাবে চোটে পড়ে। দলের হার বাঁচাতেই কাজটি করেছিলেন তিনি। ম্যাচ চলাকালে রোসাসের পাশে একটি আতশবাজি এসে পড়েছিল। তখন তিনি গ্লাভসের মধ্যে লুকিয়ে রাখা ব্লেড দিয়ে নিজেকে রক্তাক্ত করেন। মাঠ থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা  হয়। পরে ভিডিওতে আসল গল্পটা ধরা পড়ে। রোসাস আজীবন নিষিদ্ধ হন এবং চিলিকে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ করা হয়। ২০০১ সালে অবশ্য রোসাসের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।

ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড, ১৯৯০

পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন ডাচ ফরোয়ার্ড ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড। রুডি ফেলারের চুলে দুবার করে থুতু মেরেছিলেন তিনি। ফেলারকে ট্যাকল করে হলুদ কার্ড দেখার পর প্রথমবার ফেলারের ঝাঁকরা চুলে থুতু ছেটান রাইকার্ড। ম্যাচে আরো একবার দুজনের মধ্যে ঝামেলা হয়, দ্বিতীয়বার থুতু ছিটিয়ে লাল কার্ড দেখেন ডাচ ফরোয়ার্ড। জার্মানির ফরোয়ার্ড ফেলারকেও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তার সঙ্গে। 

মাওরো তাস্সোত্তি, ১৯৯৪

ইতালির ডিফেন্ডার মাওরো তাস্সোত্তি একটি মাত্র বিশ্বকাপই খেলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯৪ সালের সেই বিশ্বকাপে অমোচনীয় এক কালির দাগ রেখে যান তিনি। কোয়ার্টার-ফাইনালে লুইস এনরিকেকে কনুই মেরেছিলেন তাস্সোত্তি। নাক ভেঙে গিয়েছিল এনরিকের। সেই সময়ে কোনো শাস্তি দেয়া হয়নি এবং ইতালি ২-১ গোলে জয় জিতেছিল। কিন্তু পরে ঘটনা পর্যালোচনা করে তাস্সোত্তিকে ৮ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।

রিভালদো ২০০২

কোরিয়া-জাপানে ২০০২ বিশ্বকাপে ভয়ানক অভিনয় করে জরিমানা গুণতে হয়েছিল ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড রিভালদোকে। তাকে লক্ষ্য করে মারা হাকান উনসালের শটটি রিভালদোর ঊরুতে লেগেছিল। রিভালদো মাঠে পড়ে গিয়ে চোখমুখ ধরে কাতরাতে শুরু করেন। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় উনসালকে। পরে ভিডিও দেখে আসল সত্য জানা যায় এবং রিভালদোকে ১৩ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়।     

জিনেদিন জিদান ২০০৬

২০০৬ সালে ফাইনালে মার্কো মাতেরাস্সিকে মাথা দিয়ে গুতো মেরে লাল কার্ড দেখেছিলেন বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্সের তারকা জিনেদিন জিদান। টাইব্রেকারে জিতে সেবার শিরোপা জিতেছিল ইতালি। বিশ্বকাপের আগেই ওই ফাইনালকে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ ঘোষণা দেয়া জিদান ৩ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। পরে অবশ্য তিনি বলেছিলেন, মাতেরাস্সি তাকে ঢুস মারতে প্ররোচিত করেছিলেন।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক