আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক গোটসের আক্ষেপ

চার বছরে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের জার্সিতে আলো ছড়িয়ে ২০১৩ সালে অনেক স্বপ্ন আর সম্ভাবনা নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন বায়ার্ন মিউনিখে। প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে তিন বছর পর সাবেক ক্লাব ফিরে যান মারিও গোটসে। ওই সময় সুযোগ ছিল লিভারপুলে যোগ দেওয়ারও, কিন্তু প্রস্তাবটা ফিরিয়ে দেন তিনি। এত বছর পর নিজের ক্যারিয়ারের উল্টো যাত্রা এবং ইংলিশ দলটির সাফল্য দেখে জার্মানির ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ডের আক্ষেপ, ইয়ুর্গেন ক্লপের দলে গেলে কতই না ভালো হতো।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 July 2022, 10:09 AM
Updated : 7 July 2022, 10:09 AM

২০০৯ থেকে ২০১৩ সালে ডর্টমুন্ডের হয়ে খেলার সময় নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন গোটসে। ওই সময়ে তাকে ধরা হচ্ছিল সময়ের সেরা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে। খেলোয়াড়ি দক্ষতা ও প্রতিভার জন্য তাকে ডাকা হতো ‘জার্মান মেসি’। ওই সময়ে দলটির কোচ ছিলেন ক্লপ। তার হাত ধরে দুটি বুন্ডেসলিগার শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ২০১২-১৩ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালেও উঠেছিল তারা। 

নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে গোটসে এরপর যোগ দেন বায়ার্নে। পরের বছরই গোটসে স্বাদ পেয়েছিলেন তার পেশাদার ক্যারিয়ারে সেরা মুহূর্তের। ২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করে দেশকে জেতান বিশ্বকাপ। ক্লাব পর্যায়ে গোটসেকে নিয়ে প্রত্যাশা বেড়ে যায় আরও।

তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে যেন হারিয়ে ফেলেন গোটসে। বায়ার্নের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১৪ ম্যাচে করেছিলেন ৩৬ গোল। সেখানে প্রতি মৌসুমেই জিতেছিলেন বুন্ডেসলিগা শিরোপা। তবে ডর্টমুন্ডে থাকাকালীন সময়ের মতো সেরা ফর্মে আর দেখা যায়নি তাকে। 

ভাগ্য ফেরাতে ২০১৬ সালে বায়ার্ন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন গোটসে। ওই সময়ে লিভারপুলের কোচ ছিলেন ক্লপ। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটিকে তখন তিনি ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়ায় ছিলেন। ফলে প্রথম মৌসুমে মেলেনি কোনো সাফল্য। তবে ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় তিনি দলে ভেড়াতে চেয়েছিলেন সাবেক শিষ্যকে। শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি।

গোটসে ফিরে যান ডর্টমুন্ডে। তবে আর নিজের সেরা সময়ে ফিরতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় মেয়াদে সেখানে আরও চার বছর কাটিয়ে যোগ দিয়েছিলেন পিএসভি আইন্দহোভেনে। দলটিতে দুই মৌসুম খেলার পর তার বর্তমান ঠিকানা এখন বুন্ডেসলিগার আরেক ক্লাব ক্লাব আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট।

অন্যদিকে, ক্লপের লিভারপুল সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পেয়েছে দারুণ কিছু সাফল্য। যার মধ্যে রয়েছে একটি করে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। ২০২১-২২ মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলের দুটি শিরোপা জয়ের পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রানার্সআপ হয় তারা। বর্তমানে পরিষ্কারভাবেই ইউরোপের শীর্ষ ও শক্তিশালী দলগুলোর একটি তারা।

সম্প্রতি জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় গোটসে তুলে ধরেন ২০১৬ সালে তার লিভারপুলে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ। তার মতে, দলটির ওই সময়ের পারফরম্যান্স বিবেচনায় ক্লপের ডাকে সাড়া দেননি তিনি।

“ইয়ুর্গেনের কোচিংয়ে প্রথম মৌসুমে (২০১৫-১৬) লিভারপুল প্রিমিয়ার লিগে অষ্টম হয়েছিল এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। এমনকি এর আগের বছরগুলোতেও তারা শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবল খেলতে পারেনি।”

“ডর্টমুন্ড এর আগে টমাস টুখেলের কোচিংয়ে একটি মৌসুমে দুর্দান্ত খেলেছিল…আর ইয়ুর্গেন তখনও দল গড়ছিলেন। তবে ফিরে তাকালে আমাকে বলতেই হবে, লিভারপুলে যোগ দিলেই ভালো হত।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক