ওতাবেকের জোড়া গোলে জয়ে ফিরল শেখ জামাল

ম্যাচ জুড়েই দুর্দান্ত খেললেন ভালিজনভ ওতাবেক। দুই অর্ধে করলেন একটি করে গোল। উজবেকিস্তানের এই ফরোয়ার্ডের নৈপুণ্যে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে দারুণ এক জয় তুলে নিল শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব লিমিটেড।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 July 2022, 12:39 PM
Updated : 3 July 2022, 01:00 PM

কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত স্টেডিয়ামে রোববার প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচটি ২-০ গোলে জিতেছে শেখ জামাল। পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হন চলতি লিগের গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম আবাহনীর পিটার থ্যাঙ্কগড (১৮টি)।

ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় শেখ জামাল। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড মুসা নাজারে। বদলি নামেন নুরুল আবসার।

প্রথমার্ধে আক্রমণে এগিয়ে থাকা শেখ জামাল বেশ কয়েকটি সেট পিসও আদায় করে নেয় শুরুতে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম আবাহনীর আক্রমণভাগ ছিল খোলসবন্দী। বিশেষ করে ‘গোলমেশিন’ পিটার থ্যাঙ্কগডকে বেশ ভালোভাবেই আটকে রাখে শেখ জামালের ডিফেন্ডাররা।

১৫তম মিনিটে ওতাবেকেব থ্রু বল বক্সের বিপদজ্জনক জায়গায় পেয়ে গিয়েছিলেন সলোমন কিং। তবে সরাসরি পোস্টে শট না নিয়ে বাঁ প্রান্তে ক্রস বাড়ান তিনি। কোনো সতীর্থ অবশ্য ছিল না জায়গা মতো। দুই মিনিট পর ওতাবেকের ফ্রি কিক চিজোকেকে খুঁজে নিলেও ঠিকঠাক বলে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি তিনি।

২৮তম মিনিটে ঠিকই এগিয়ে যায় শেখ জামাল। চিজোকের কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ প্রান্তে সলোমনকে বাড়িয়ে ক্ষিপ্র গতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন ওতাবেক। চট্টগ্রাম আবাহনীর গোলরক্ষক সাইফুল পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এলেও বল নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়ান ওতাবেক। এ সময় একজন ডিফেন্ডারসহ সাইফুল বক্সে পড়ে ছিলেন।

৩৭তম মিনিটে নিশ্চিত গোল হজম থেকে দলকে রক্ষা করেন রায়হান। ওমিদ পোপালজাইয়ের বাড়ানো বল থেকে শাখাওয়াত রনি হেড নেন। পোস্ট ছেড়ে আগেই বেরিয়ে গিয়েছিলেন শেখ জামাল গোলরক্ষক মোহাম্মদ নাঈম। তবে গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দেন ডিফেন্ডার রায়হান।

৪৫তম মিনিটে পোপালজাইয়ের ফ্রি কিক সরাসরি নাঈমের হাতে যায়। পরের মুহূর্তেই আরিফের শট রুখে দেন শেখ জামাল গোলরক্ষক।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে সলোমন কিংয়ের ফ্রি কিক থেকে ওতাবেকের শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর কয়েক মিনিট দুই দলের মধ্যেই কিছুটা জড়তা দেখা গেলেও খুব দ্রুতই তা কাটিয়ে ওঠে তারা। ৫৮তম মিনিটে ভালো একটি সুযোগ পেয়েছিলেন ওতাবেক। তবে সলোমনের বাড়ানো বলে যেন একটু তাড়াহুড়ো করেই শট নেন তিনি, যা রুখতে সমস্যা হয়নি চট্টগ্রাম আহাহনীর গোলরক্ষকের।

একটু পর পাল্টা আক্রমণে মিডফিল্ড থেকে সোহেলের বাড়ানো বল ধরে আরিফের নেওয়া শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে যায়। ৬৩তম মিনিটে ওতাবেকের ডান পায়ের শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন সাইফুল।

৭০তম মিনিটে চট্টগ্রাম আবাহনীকে সমতায় ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন পোপালজাই। পিটার থ্যাঙ্কগডের থ্রু বল ভালো জায়গায় পেয়ে গেলেও পোস্টের ওপর দিয়ে মারেন আফগান মিডফিল্ডার।

৭৮তম মিনিটে সলোমন-ওতাবেকের যুগলবন্দীতে ব্যবধান দ্বিগুণ করে শেখ জামাল। সেন্টার সার্কেল থেকে সলোমন বল বাড়ান ওতাবেকের উদ্দেশ্যে। বাঁ দিক থেকে দারুণ গতিতে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করেন উজবেকিস্তানের এই ফুটবলার। তার বাঁ পায়ের শট রুখতে পারেননি সাইফুল।

৯০তম মিনিটে থ্যাঙ্কগডকে ডি-বক্সে আরিফুল ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। তবে স্পট কিক থেকে গোল করতে পারেননি চট্টগ্রাম আবাহনীর সবচেয়ে বড় ভরসা থ্যাঙ্কগড। তার শট রুখে দেন নাঈম। একই সঙ্গে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আগের দুই ম্যাচে হারা শেখ জামাল।

১৮ ম্যাচে ৯ জয় ও ৬ ড্রয়ে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে শেখ জামাল। টানা দুই হারে অবশ্য শিরোপার লড়াইয়ে বেশ পিছিয়ে পড়েছে তারা। শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে তাদের পয়েন্টে ব্যবধান ১২।

সমান ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর পয়েন্ট ২৬। আগের মতোই টেবিলে ষষ্ঠ স্থানে তারা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক