‘ইউভেন্তুসে বেনজেমা-মদ্রিচের মতোই খেলবে দি মারিয়া’

পিএসজি ছাড়ার পর আপাতত ‘বেকার’ আনহেল দি মারিয়া। এখনও ঠিক হয়নি আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের নতুন ঠিকানা। সম্ভাবনায় এই মুহূর্তে সবচেয়ে এগিয়ে ইউভেন্তুস। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক ইকের কাসিয়াস মনে করেন, ইতালির এই দলে গেলে করিম বেনজেমা ও লুকা মদ্রিচের মতোই কিছু করবেন দি মারিয়া।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 June 2022, 04:18 PM
Updated : 29 June 2022, 04:37 PM

বয়স ত্রিশের কোটা পার করার পর খেলায় ধার কমার বদলে যেন আরও বেড়ে গেছে রিয়াল মাদ্রিদের দুই তারকা বেনজেমা ও মদ্রিচের। স্প‍্যানিশ দলটির সাবেক মিডফিল্ডার দি মারিয়ার মধ্যেও তার ছাপ দেখতে পাচ্ছেন কাসিয়াস। তিনি মনে করছেন, ইউভেন্তুসে সাফল‍্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সাবেক সতীর্থের বয়স কোনো বাধা হবে না।

বয়স ৩৪ হলেও এখনও দি মারিয়া আছেন সেরা ছন্দে। আর্জেন্টিনা দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তিনি। তাকে দলে পেতে আগ্রহীদের মধ্যে রয়েছে ইউরোপের শীর্ষ কয়েকটি ক্লাব। যার মধ্যে ইউভেন্তুসের পাশাপাশি রয়েছে বার্সেলোনার নামও।

২০১৫ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে পিএসজিতে যোগ দেন দি মারিয়া। প্যারিসের ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন ৫টি লিগ শিরোপাসহ মোট ১৮টি ট্রফি। পিএসজির হয়ে ২৯৪ ম্যাচ খেলে তার গোল ৯১টি। ক্লাবের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১১১টি অ্যাসিস্ট তার।

সংবাদমাধ্যমের খবর, সাবেক পিএসজি মিডফিল্ডারকে দলে টানতে এগিয়ে আছে ইউভেন্তুস। তিনি নিজে সম্প্রতি জানিয়েছেন, কাতার বিশ্বকাপে নিজের জায়গা নিয়ে নিশ্চিত নন এবং নতুন ক্লাবের হয়ে তার পারফরম্যান্স এতে ভূমিকা রাখবে।

খেলোয়াড় হিসেবে দি মারিয়ার সামর্থ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই কাসিয়াসের। তিনি তুলে ধরেছেন রিয়ালের দুই অভিজ্ঞ সেনানির উদাহরণ। ৩৩ বছর বয়সী বেনজেমা ও ৩৬ বছর বয়সী মদ্রিচ গত মৌসুমে ছিলেন দলটির সেরা খেলোয়াড়দের দুজন। ক্লাবটির লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে অগ্রণী ভূমিকা ছিল তাদের।

গাজ্জেত্তা দেল্লো স্পোর্তের সঙ্গে গত মঙ্গলবার এক আলাপচারিতায় সাবেক রিয়াল গোলরক্ষক কাসিয়াস বলেন, বয়স বাড়লেও দি মারিয়ার খেলায় এখনও এর ছাপ পড়েনি।

“নভেম্বরে একটি বিশ্বকাপ আছে এবং এটি স্পষ্ট যে, সে এমন একটি দল খুঁজছে যেখানে সে নিয়মিত খেলতে পারবে এবং কাতারে (বিশ্বকাপের) চ্যালেঞ্জের জন্য নিজেকে সম্ভাব্য সেরা উপায়ে প্রস্তুত করতে পারবে। ৩৪ বছর বয়সেও সে একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড়।”

“৪৪ বছর বয়সী আমার বন্ধু (জানলুইজি) বুফ্ফন ছাড়াও ৩০ বছরের বেশি বয়সী খেলোয়াড়দের আরও উদাহরণ রয়েছে যারা খুব ভালো করছে এবং সেরা ছন্দে খেলছে। আপনাকে কেবল বেনজেমা এবং মদ্রিচের কথা ভাবলেই চলবে।”

কাসিয়াস মনে করেন, দি মারিয়ার মাপের একজন খেলোয়াড়কে দলে টানতে পারলে তা শক্তিশালী করবে ইউভেন্তুসকে।

“নিজেকে নিয়ে সে খুব সতর্ক থাকে এবং সবসময় নিজের শরীরের খুব যত্ন নিয়ে আসছে। সে কখনোই গুরুতর চোটে পড়েনি। আমি মনে করি সে দারুণ ফর্মে আছে। ইউরোপে সে সবসময়ই শীর্ষ পর্যায়ে খেলেছে, বড় বড় ক্লাবে। দি মারিয়া ইউভেন্তুসকে এক ধাপ এগিয়ে দেবে।”

রিয়ালে কাসিয়াসের সতীর্থ ছিলেন দি মারিয়া। ২০১৪ সালে সান্তিয়াগো বের্নাবেউ ছাড়ার আগে দলটির দশম চ‍্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ে রাখেন বড় অবদান। সেবার মাঝপথে কোচ কার্লো আনচেলত্তি তার পজিশন বদলে দিলেও খেলায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। সে কারণে দি মারিয়াকে নিয়ে কাসিয়াসের আশা আরও বেশি।

“ইউভেন্তুস এমন একজন খেলোয়াড়ের ওপর বাজি ধরে যে মাঠে বিভিন্ন ভূমিকায় কী করতে হবে তা জানে। আমরা যখন ‘দা দেসিমা’ জিতেছিলাম, (কার্লো) আনচেলত্তি মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে তার পজিশন পরিবর্তন করেছিলেন এবং সেখানেও সে খুব ভালো খেলেছিল।”

“সে আক্রমণে এবং মাঠের মাঝখানে উভয় জায়গাতেই খেলতে পারে। সে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি, যে ফুটবল ভালো বোঝে। (গোলের উদ্দেশে) আনহেল দুর্দান্ত শট নিতে পারে এবং একাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক