‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সি পরার যোগ্য নই আমরা’

হতাশায় ঠাসা মৌসুমে চাওয়া-পাওয়ার পালা চুকে গিয়েছিল আগেই। ব্যর্থতার চূড়ান্ত দেখা হয়ে গিয়েছিল বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে, পতনের নতুন ধাপও দেখিয়ে চলেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 May 2022, 04:43 AM
Updated : 8 May 2022, 04:43 AM

চলছে আত্মসমালোচনাও। ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর নিজেদেরই কাঠগড়ায় তুললেন মিডফিল্ডার ব্রুনো ফের্নান্দেস। সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন ভারপ্রাপ্ত কোচ রালফ রাংনিক।

আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার বাস্তব সম্ভাবনা আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। শনিবার ব্রাইটনের কাছে হেরে শেষ হয়ে যায় গাণিতিক সম্ভাবনাও। তবে এটি নয়, মূল আলোচনা তাদের হারের ধরনে। ব্রাইটনের সামনে স্রেফ উড়ে গেছে তারা ৪-০ গোলে।

এই নিয়ে লিগে সবশেষ পাঁচ ম্যাচের তিনটিতেই হারল ইউনাইটেড। এই সময়ে গোল হজম করেছে ১২টি। সব মিলিয়ে এই মৌসুমে ৫৬ গোল খেয়েছে তারা। গোল হজমের দিক থেকে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে যা তাদের সবচেয়ে বাজে মৌসুম।

ব্রাইটনের মাঠে দলের পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ ইউনাইটেড সমর্থকরা গলা উঁচিয়ে গাইতে থাকে, “তোমরা এই জার্সি পরার উপযুক্ত নও।” ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টসে কথোপকথনে ব্রুনো ফের্নান্দেসও দ্বিমত করলেন না সমর্থকদের সঙ্গে।

“আজকে আমরা যা করেছি, আমি নিজেও যেমন খেলেছি, অবশ্যই আমরা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সি পরার উপযুক্ত নই এবং আমি তা মেনে নিচ্ছি।”

কোচ রাংনিকও বাস্তবতা মেনে নিয়ে ক্ষমা চাইলেন সমর্থকদের কাছে। গোটা মৌসুমই ভালো কাটেনি দলের। তবে কোচের কাছে বেশি হতাশাজনক গত কিছুদিনের পারফরম্যান্স।

“ভয়ঙ্কর বাজে পারফরম্যান্স ছিল এটি। প্রথম মিনিট থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা কিছু করতে পারিনি। এই পারফরম্যান্স ও অপমানজনক হারের কারণে আমি স্রেফ ক্ষমাই চাইতে পারি।”

“আজকের ম্যাচে এবং এভারটনের বিপক্ষে (১-০ গোলের হারে) ম্যাচে দলের প্রাণশক্তি ও তাড়নায় ঘাটতি ছিল প্রবল। প্রথম তিন-চার মাসে আমরা সঠিক পথেই ছিলাম, কিন্তু গত চার সপ্তাহে আমাদের পারফরম্যান্স খুবই বাজে।”

৩৭ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের ছয়ে আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এই অবস্থানের ওপরে থেকে লিগ শেষ করার সুযোগ আর তাদের নেই। বরং নেমে যেতে পারে আরও নিচে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক