দুই ব্রাজিলিয়ানের নৈপুণ্যে গ্রুপ সেরা আবাহনী

আক্রমণভাগে আলো ছড়ালেন দুই ব্রাজিলিয়ান দোরিয়েলতন গোমেজ নাসিমেন্তো ও রাফায়েল অগাস্তো দি সিলভা। শুরুতে পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে দারুণ জয় পেল আবাহনী লিমিটেড। ‘এ’ গ্রুপের সেরা হয়ে স্বাধীনতা কাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠল মারিও লেমোসের দল।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Dec 2021, 02:07 PM
Updated : 8 Dec 2021, 10:38 AM

কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটির বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছে আবাহনী। আকাশী-নীল জার্সিতে অভিষেক ম্যাচে জোড়া গোল করেন নাসিমেন্তো।

স্পট কিকের দুটি সুযোগই কাজে লাগিয়েছে আবাহনী। একটি পেনাল্টি পেয়েছিল রহমতগঞ্জও, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

তিন দলের এই গ্রুপে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়েছে আবাহনী। এক জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সেরা আটে উঠেছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের সেরা হয়ে এ প্রতিযোগিতায় প্রথম খেলতে আসা স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘ। টানা দুই হারে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গেল পুরান ঢাকার দল রহমতগঞ্জ।

ত্রয়োদশ মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগ তৈরি করে রহমতগঞ্জ। মাহমুদুল হাসান করিমের থ্রু পাস অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে নিয়ন্ত্রণে নেন ফিলিপ আজাহ টেট্টি। কিন্তু ঘানার এই ফরোয়ার্ডের তাড়াহুড়ো করে নেওয়া শট দূরের পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে যায়।

দুই মিনিট পরই এগিয়ে যায় রহমতগঞ্জ। এবার আশরাফুল ইসলামের থ্রু পাস ধরে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা টেট্টি দুই দফা ট্যাকলের শিকার হয়ে পড়ে যাওয়ার পর উঠে দাঁড়িয়ে কাট ব্যাক করেন। গোলমুখে এনামুল হোসেনের প্লেসিং শটে বল টুটুল হোসেন বাদশার পায়ে লেগে জালে জড়ায়।

রহমতগঞ্জের এগিয়ে যাওয়ার আনন্দের স্থায়ীত্ব ছিল মাত্র তিন মিনিট। নাসিমেন্তোর স্পট কিক বলের লাইনে ঝাঁপিয়ে পড়েও ফেরাতে পারেননি জিয়াউর রহমান। দেনিয়েল কলিনদ্রেস সোলেরাকে বক্সে মোহাম্মদ তারেক ফাউল করলে পেনাল্টি পায় আবাহনী।

২৯তম মিনিটে ভালো সুযোগ নষ্ট হয় ১৯৯০ সালে সবশেষ এ প্রতিযোগিতার শিরোপা জেতা আবাহনীর। পাল্টা আক্রমণে নাসিমেন্তোর পাস ধরে বক্সে ঢুকেই শট নেন রাকিব হোসেন। বল বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট দিয়ে।

৪১তম মিনিটে দুই পায়ের মোচড়ে রেইনবো ফ্লিকে বল বের করে নিতে চেয়েছিলেন টেট্টি। বল লাগে বাদশার হাতে। পেনাল্টি পায় রহমতগঞ্জ। কিন্তু টেট্টির শট ঝাঁপিয়ে ফেরান গোলরক্ষক মেহেদি হাসান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে রহমতগঞ্জের রক্ষণে চাপ দেওয়া আবাহনী এগিয়ে যায় ৫১তম মিনিটে। ইমন মাহমুদের থ্রু পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা দি সিলভা বাইলাইন থেকে কাটব্যাক করেন গোলমুখে। দারুণ ব্যাক হিলে ঠিকানা খুঁজে নেন নাসিমেন্তো।

দি সিলভার স্পট কিকে ৭০তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ে। এই ব্রাজিলিয়ানকেই বক্সে ফাউল করেছিলেন সানোয়ার হোসেন। হ্যাটট্রিক পূরণের সুযোগ থাকলেও পেনাল্টি নিতে চাননি নাসিমেন্তো; বল তুলে দেন স্বদেশি দি সিলভাকে।

আবাহনীর হয়ে এ নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচ খেললেন কলিনদ্রেস। কিন্তু কোস্টা রিকার হয়ে বিশ্বকাপ খেলা এই ফরোয়ার্ডের পারফরম্যান্স পুরোটা সময়ই ছিল সাদামাটা।

কোয়ার্টার-ফাইনালে আবাহনী মুখোমুখি হবে ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর। সেরা আটে স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘের প্রতিপক্ষ ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন সাইফ স্পোর্টিং।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক