৩ পেনাল্টি আর আত্মঘাতী গোলে বিপর্যস্ত রিয়াল

আশানুরূপ শুরুর পর দিক হারাল রিয়াল মাদ্রিদ। পিছিয়ে পড়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল ভালেন্সিয়া। রোমাঞ্চ ছড়ানো লড়াইয়ে রাফায়েল ভারানের আত্মঘাতী গোলের আগে-পরে জিনেদিন জিদানের দল হজম করল তিনটি পেনাল্টি গোল। কার্লোস সোলেরের হ্যাটট্রিকে অসাধারণ এক জয়ের আনন্দে ভাসলো ভালেন্সিয়া।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 Nov 2020, 09:58 PM
Updated : 8 Nov 2020, 10:21 PM

মেস্তায়া স্টেডিয়ামে রোববার রাতে লা লিগার ম্যাচে রিয়ালকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা। এবারের লিগে শিরোপাধারীদের এটা দ্বিতীয় হার, শেষ চার ম্যাচে দ্বিতীয়।

এই মাঠে রিয়ালের টানা ব্যর্থতার তালিকাটা আরেকটু লম্বা হলো। লিগের ২০১৮-১৯ আসরে এখানে ২-১ গোলে হারের পর গত মৌসুমে ১-১ ড্র করে ফিরেছিল মাদ্রিদের দলটি।

ম্যাচের শুরু থেকে রিয়ালের খেলা ছিল বেশ গোছানো। আক্রমণে ছিল পরিকল্পনার ছাপ। কিন্তু প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না তারা। বেনজেমা-আসেনসিওদের চাপেও ভালেন্সিয়ার রক্ষণ ছিল শান্ত, দ্রুত বল ক্লিয়ার না করে বরং ছোট ছোট পাসে আক্রমণে ওঠার চেষ্টায় ছিল স্বাগতিকরা।

বেনজেমার নৈপুণ্যে ২৩তম মিনিটে এগিয়ে যায় রিয়াল। মার্সেলোর ব্যাকপাস ধরে জায়গা বানিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। ভালেন্সিয়ার হুগো গিয়ামসনের পায়ে লেগে বল কিছুটা দিক পাল্টানোয় খুব বেশি কিছু করার সুযোগ ছিল না গোলরক্ষকের। আসরে বেনজেমার চতুর্থ গোল।

৩৫তম মিনিটে ঘটনাবহুল পেনাল্টি গোলে সমতা টানেন সোলের। হোসে গায়ার ক্রসে ডি-বক্সে লুকাস ভাসকেসের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

সোলেরের স্পট কিক ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক, আলগা বলে স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারের ফিরতি শট পোস্টে লেগে ফেরার পর কোনাকুনি শটে ইউনুস মুসা লক্ষ্যভেদ করেন।

সোলের স্পট কিক নেওয়ার আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের মিডফিল্ডার মুসার পা ডি-বক্সে ঢুকে পড়ায় দীর্ঘক্ষণ ভিএআরে দেখে ওই পেনাল্টি বাতিল করেন রেফারি। ফিরতি পেনাল্টি শটেও বলে হাত ছুঁয়েছিলেন কোর্তোয়া। কিন্তু জালে যাওয়া ঠেকাতে পারেননি।

রোমাঞ্চ ছড়ানো লড়াইয়ে ৪৩তম মিনিটে এগিয়ে যায় ভালেন্সিয়া। ডান দিক থেকে মাক্সি গোমেসের ছয় গজ বক্সে বাড়ানো ক্রস ঠেকাতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন ভারানে। বল ফরাসি ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে একটু ওপরে উঠে গিয়েছিল। পড়ে থাকা অবস্থায় গোললাইন থেকে ফেরানোর চেষ্টায় বলে হাত ছোঁয়াতেই পারেননি থিবো কোর্তোয়া। ভিএআরে দেখা যায় বল পেরিয়ে গিয়েছিল গোললাইন।

প্রথমার্ধে লক্ষ্যে ছিল ভালেন্সিয়ার কেবল একটি শট। কিন্তু বিরতিতে যাওয়ার সময় তারাই এগিয়ে ছিল ২-১ ব্যবধানে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে ৯ মিনিটের ব্যবধানে আরও দুটি পেনাল্টি গোল হজম করে কোণঠাসা হয়ে পড়ে চ্যাম্পিয়নরা। যেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা।

গোলমুখে গোমেসকে ডিফেন্ডার মার্সেলো ফাউল করলে ম্যাচে দ্বিতীয়বার পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্কোরলাইন ৩-১ করেন সোলের। আর ডি-বক্সে রামোসের হাতে বল লাগলে তৃতীয় পেনাল্টি পায় ভালেন্সিয়া। এবং নিখুঁত স্পট কিকে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ২৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডার সোলের।

এই দুই গোলের মাঝে ভালো দুটি সুযোগ পেয়েছিল রিয়াল; কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি তারা। ফেদে ভালভেরদের দূরপাল্লার শট ঝাঁপিয়ে ফেরানোর পর আসেনসিওর দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া শটও রুখে দেন গোলরক্ষক হাউমে দোমেনেক।

৭৬তম মিনিটে রিয়াল শিবিরে আরেক ধাক্কা হয়ে আসে বেনজেমার চোট শঙ্কা। কুঁচকির অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে দেখা যায় তাকে। বদলি নামেন মারিয়ানো। 

বাকি সময়ে আক্রমণ করে গেলেও ম্যাচে ফেরার কোনো সম্ভাবনাই জাগাতে পারেনি রিয়াল। আন্তর্জাতিক বিরতিতে যাওয়ার আগে বিব্রতকর এক হারের হতাশা নিয়ে ফিরল প্রতিযোগিতার সফলতম দলটি।

আট ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে নেমে গেছে রিয়াল। ১১ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে আছে ভালেন্সিয়া, এক ম্যাচ বেশি খেলেছে তারা।

গ্রানাদাকে ২-০ গোলে হারানো রিয়াল সোসিয়েদাদ ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে আছে শীর্ষে। গেতাফের মাঠে ৩-১ গোলে জেতা ভিয়ারিয়াল ২ পয়েন্ট কম নিয়ে আছে দুইয়ে। সাত ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

সাত ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে আছে বার্সেলোনা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক