লিসবন রাঙানোর অপেক্ষায় লেভানদোভস্কি

একটা জায়গায় প্রতিপক্ষ পিএসজির সঙ্গে রবের্ত লেভানদোভস্কির চাওয়া এক সুঁতোয় গাঁথা! প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জয়ের হাতছানি পিএসজির সামনে। ক্লাব ক্যারিয়ারে অনেক শিরোপার স্বাদ পেলেও বায়ার্ন মিউনিখের ফরোয়ার্ড লেভানদোভস্কির কাছেও ইউরোপ সেরার মুকুট আজও অধরা! পিএসজির স্বপ্ন গুঁড়িয়ে এবার নিজের প্রথমের গল্প লিখতে পারবেন কি লেভানদোভস্কি?

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 August 2020, 09:14 AM
Updated : 22 August 2020, 07:30 PM

উত্তরটা মিলবে রোববার। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় পর্তুগালের লিসবনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ২০১৯-২০ মৌসুমের শিরোপা লড়াইয়ে নামবে বায়ার্ন ও পিএসজি। ষষ্ঠবারের মতো ইউরোপ সেরার মুকুট জয়ের অপেক্ষায় বাভারিয়ানরা।

ক্লাব ক্যারিয়ারের জার্মানি পর্বে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও বায়ার্নের হয়ে ৮টি বুন্ডেসলিগা, চারটি করে জার্মান কাপ ও জার্মান সুপার কাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন লেভানদোভস্কি। এর আগে ইউরোপ সেরার আসরে একবারই শিরোপার খুব কাছাকাছি এসেছিলেন তিনি, বরুশিয়ার হয়ে ২০১২-১৩ মৌসুমে। কিন্তু বায়ার্নের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাদের।

সেবার বরুশিয়ার হয়ে ১০ গোল করেও হাসতে পারেননি বিজয়ীর হাসি। এবার এরই মধ্যে ১৫ গোল করে চলতি আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতাও এই পোলিশ তারকা।

ফাইনালে দুই গোল করতে পারলে তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর এক মৌসুমে গড়া সর্বোচ্চ ১৭ গোলের রেকর্ড। হ্যাটট্রিক করলে উঠবেন চূড়ায়। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কোয়ার্টার-ফাইনাল, সেমি-ফাইনাল দুই লেগের বদলে এক ম্যাচে না হলে হয়তো এতদিনে চূড়ায় উঠে যেতেন ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

এবারের আসরে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪২ গোল দিয়েছে বুন্ডেসলিগার চ্যাম্পিয়নরা। বিপরীতে, সবচেয়ে কম গোল খেয়েছে অপর ফাইনালিস্ট পিএসজি। ১০ ম্যাচে মাত্র পাঁচ গোল হজম করে জমাট রক্ষণের প্রমাণ দিয়েছে লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়নরা। সতীর্থদের কাছে ‘লেভানগোলস্কি’ নাম পাওয়া লেভানদোভস্কির সামনে তাই অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ।

পিএসজির রক্ষণের চ্যালেঞ্জ জয়ের সব রসদই লেভানদোভস্কির মধ্যে আছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি মৌসুমে তিনি গোল পেয়েছেন মুড়ি-মুড়কির মতো। বুন্ডেসলিগায় ৩৪টি, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫টিসহ সব মিলিয়ে ৫৫বার লক্ষ্যভেদের আনন্দে ডানা মেলেছেন এরই মধ্যে!

৬ ফুট লম্বা হওয়ায় হেডে বাড়তি সুবিধা পান এই পোলিশ তারকা। আতালান্তার বিপক্ষে বায়ার্নের ৩-০ ব্যবধানে জেতা ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে তার প্রমাণও মিলেছে। সবার ওপরে লাফিয়ে হেডে খুঁজে নিয়েছিলেন জাল। ওই ম্যাচ জয়ের পরই টুইটার বার্তায় লেভানদোভস্কি জানিয়েছিলেন মনের কথাটা-আরেকটু কাছে এলাম।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের কাতারে সেরা পাঁচে শক্তপোক্তভাবে জায়গা করে নিয়েছেন লেভানদোভস্কি (৬৮টি)। তালিকার শীর্ষে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (১৩০টি)। লিওনেল মেসি (১১৫টি) দ্বিতীয় এবং রাউল গনসালেস (৭১টি) তৃতীয়। সেরা পাঁচের শেষজন করিম বেনজেমা (৬৫টি)।

বিস্ময়কর হলেও সত্যি, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লেভানদোভস্কির গোলগড় (০ দশমিক ৭৬) শীর্ষে থাকা রোনালদোর সমান! খেলা চালিয়ে যাওয়াদের মধ্যে বার্সেলোনার মেসির গড় ০ দশমিক ৮০ এবং রিয়াল মাদ্রিদের বেনজেমার গড় ০ দশমিক ৫৪।

শুধু গোল করাতেই নয়, করানোতেও পারদর্শী এই জাত স্ট্রাইকার। ২০১৯-২০ মৌসুমে বুন্ডেসলিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলিয়ে সতীর্থদের ৯ গোলে অবদান রেখেছেন তিনি। পরিসংখ্যান বলছে একজন ‘নাম্বার নাইন’-এর কাছে দলের যে প্রত্যাশা সেটা পুরণের সব সামর্থ্যই আছে লেভানদোভস্কির। এখন দেখার অপেক্ষা, সামর্থ্যের ঝলকানিতে লিসবনের ফাইনাল তিনি রাঙাতে পারেন কিনা।

লেভানদোভস্কির ১৫ গোল

ম্যাচ

 

স্কোরলাইন

গোল/মিনিট

বায়ার্ন মিউনিখ-রেড স্টার বেলগ্রেড

গ্রুপ পর্ব

৩-০

১টি (৮০তম মিনিট)

টটেনহ্যাম-বায়ার্ন মিউনিখ

গ্রুপ পর্ব

২-৭

২টি (৪৫ ও ৮৭ মিনিট)

অলিম্পিয়াকোস-বায়ার্ন মিউনিখ

গ্রুপ পর্ব

২-৩

২টি (৩৪ ও ৬২ মিনিট)

বায়ার্ন মিউনিখ-অলিম্পিয়াকোস

গ্রুপ পর্ব

২-০

১টি (৬৯ মিনিট)

রেড স্টার বেলগ্রেড-বায়ার্ন মিউনিখ

গ্রুপ পর্ব

০-৬

৪টি (৫৩, ৬০, ৬৪ ও ৬৮ মিনিট)

চেলসি-বায়ার্ন মিউনিখ

শেষ ষোলো

০-৩

১টি (৭৬ মিনিট)

বায়ার্ন মিউনিখ-চেলসি

শেষ ষোলো

৪-১

২টি (১০ ও ৮৪ মিনিট)

বার্সেলোনা-বায়ার্ন মিউনিখ

কো. ফাইনাল

২-৮

১টি (৮২মিনিট)

অলিম্পিক লিওঁ-বায়ার্ন মিউনিখ

সেমি-ফাইনাল

০-৩

১টি (৮৮ মিনিট)

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক