ফিলিস্তিন ম্যাচের ভুলগুলো পোড়াচ্ছে রহমত-রানাদের

ফিলিস্তিনের বিপক্ষে হারের পর রক্ষণ ও আক্রমণভাগের দিকে আঙুল তুলেছিলেন বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে। দায় কাঁধে নিলেন রহমত মিয়া ও আশরাফুল ইসলাম রানাও। প্রতিশ্রুতি দিলেন শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Jan 2020, 01:06 PM
Updated : 16 Jan 2020, 01:06 PM

গত বুধবার ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের ষষ্ঠ আসর শুরু করে বাংলাদেশ। আগামী রোববার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলবে দল।

প্রতিআক্রমণে পিছিয়ে পড়ার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় গোলটি হজম করেছিল রক্ষণের ভুলে। ইয়াসিন খান লাফিয়ে উঠেও বল বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হন। ডিফেন্ডার রহমত জানালেন, ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি দুর্ভাগাও ছিলেন তারা। অনুভব করেছেন নিয়মিত ফরোয়ার্ড নাবীব নেওয়াজ জীবনের অভাবও।

“মূল বিষয় হচ্ছে, আমরা যদি ভালো কোনো দলের বিপক্ষে ভুল করি, তাহলে তারা তার সুযোগ নেবে। আমরা দুইটা ভুল করেছি, দুইটা গোল খেয়েছি। অ্যাটাকিং থার্ডেও ফিনিশিং ভালো করতে পারিনি। দুইটা বক্সেই আমাদের সমস্যা ছিল। ভালো দলের বিপক্ষে ছোট ছোট এই ভুলগুলোই বড় ইস্যু হয়ে যায়। এটাই পার্থক্য গড়ে দেয়।”

“বর্তমানে আমাদের যে ডিফেন্সিভ লাইনআপ আছে, সেটা আগের তুলনায় ভালো। কিন্তু কিছু কিছু সময়ে ভুল হয়ে যায়। যত কম ভুল করব তত আমরা উন্নতি করতে পারব। তাই আমাদের ভুলগুলো কমাতে হবে।”

“আমাদের প্লেয়াররা নার্ভাস ছিল না। জয়ের জন্য মরিয়া ছিল, যেহেতু আমাদের দেশে খেলা। যেভাবেই হোক প্রথম গোল খাওয়ার পর প্লেয়াররা ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আরও এক্সাইটেড হয়ে গিয়েছিল। আমরা কিন্তু আক্রমণ করেছি। বল পজেশনেও আমরা এগিয়ে। সেট পিসগুলো আমরা বেশি করেছি। কিন্তু আমরা গোল করতে পারিনি। তারা যে আমাদের বিট করে গোল করেছে তা নয়, আমরা গোল খেয়েছি নিজেদের ভুলে।”

“জীবন ভাইকে মিস করেছি। তিনি বল ভালো হোল্ড করতে পারেন। যেহেতু গতকাল আমাদের অনেক বল ওদের বক্সে গেছে, যদি জীবন ভাই থাকতেন তাহলে হোল্ড করতে পারলে তিনি বা অন্য কেউ গোল করতে পারত।”

গত আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে বাংলাদেশকে সেমি-ফাইনালে হারিয়েছিল ফিলিস্তিন। এবারের ফিলিস্তিন দলকেও শক্তিশালী বললেন রহমত।

“ওদের গতবার আর এবারের দলের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য দেখছি না। তবে গতবার জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় এসেছিল। এবার যারা এসেছে, আমরা তাদের বিপক্ষেও খেলেছি ফিলিস্তিনে গিয়ে। এরা প্রায় একই দল। বাহরাইনে, ফিলিস্তিনে অনূর্ধ্ব-২৩ দলে খেলেছি। ২০১৭ সালে অ্যান্ড্রু অর্ডের সময় থেকে এদের বিপক্ষে খেলছি। আমি এদেরকে চিনি।”

গোলরক্ষক রানারও মনে হচ্ছে, দুটি গোল তারা হজম করেছেন অপ্রত্যাশিতভাবে।

“যদি বল পজেশন, বিল্ড আপের কথা বলেন, আমাদের খেলা ভালো হয়েছে। কিন্তু গোল দুইটা আমরা খেয়েছি নিজেদের ভুলে। অপ্রত্যাশিতভাবে গোল রিসিভ করেছি।”

ফিলিস্তিন ম্যাচ ভুলে এখন শ্রীলঙ্কা ম্যাচ নিয়ে ভাবার কথা জানালেন রহমত। দৃঢ়কণ্ঠে বললেন, হারের প্রভাব পড়বে না পরের ম্যাচে।

“লাস্ট ম্যাচের হারের প্রভাব পড়বে না আগামী ম্যাচে। ফিলিস্তিন ভালো দল। আমরা চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারিনি। অতীত অতীতই। পরের ম্যাচে যদি শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারি, তাহলে (হয়তো) সেমি-ফাইনালে যাব। আমরা এখন শ্রীলঙ্কা ম্যাচ নিয়ে ভাবছি। এ ম্যাচটা জিততে হবে।”

“শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রেসার ফ্রি খেলতে পারব। আমাদের যে খেলোয়াড় আছে, তারা সবাই শতভাগ দিতে পারলে আমরা ইনশাল্লাহ সহজেই জিততে পারব।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক