পরিসংখ্যানের আলোয় শেখ কামাল ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ

গ্যালারি ভরা দর্শক, গোলের ছড়াছড়ি, ছন্দময় ফুটবল মিলিয়ে জমজমাট এক আসরের পর্দা নামল। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের তৃতীয় আসরের পরিসংখ্যান ও খুঁটিনাটি নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠকদের জন্য এই আয়োজন।

মোহাম্মদ জুবায়েরচট্টগ্রাম থেকেবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 Oct 2019, 03:34 PM
Updated : 31 Oct 2019, 04:11 PM

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ায় দেশি ক্লাবের একমাত্র প্রতিনিধি ছিল চট্টগ্রাম আবাহনী। ফাইনালে উঠলেও মুকুট ফিরে পাওয়ার লক্ষ্য পূরণ হয়নি ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়নদের।

এ আসরেও নতুন চ্যাম্পিয়ন

শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের তৃতীয় আসরও পেল নতুন চ্যাম্পিয়ন-টেরেঙ্গানু এফসি। ২০১৫ সালে প্রথম আসরে ভারতের দল ইস্ট বেঙ্গলকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল চট্টগ্রাম আবাহনী; এবার বন্দরনগরীর দলটি হলো রানার্সআপ।২০১৭ সালের দ্বিতীয় আসরে টাইব্রেকারে এফসি পচেয়নকে হারিয়ে সেরা হয়েছিল মালদ্বীপের দল টিসি স্পোর্টস।

সর্বোচ্চ গোলদাতা লি টাক

৬ গোল নিয়ে এবারের আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন টেরেঙ্গানুর এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসকে গ্রুপ পর্বে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন। সেমি-ফাইনালে ভারতের দল মোহনবাগান এসসিকে একই ব্যবধানে হারানো ম্যাচে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করেন তিনি।

প্রথম আসরে চট্টগ্রাম আবাহনীর এলিটা কিংসলে (৫টি) ও পরেরবার শাহীন আসমায়ের আমেরদিন শারিফি (৪টি) হয়েছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা।

গোলে আধিপত্য টেরেঙ্গানুর

প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলতে এসে বাজিমাত করা টেরেঙ্গানু হয়েছে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন। সব মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে ১৫ গোল দিয়েছে টেরেঙ্গানু, খেয়েছে ৮টি। রানার্সআপ চট্টগ্রাম আবাহনী দিয়েছে ১২টি, হজম করেছে ৬টি। পাঁচ ম্যাচে বন্দরনগরীর দলটির জয় তিনটি; হার দুটি। ২০১৭ সালে টিসি স্পোর্টস হয়েছিল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন; এবার অবশ্য গ্রুপ থেকে ছিটকে যায় তারা।

ফাইনালে সেরা হাকিম, টুর্নামেন্টে সেরা লি টাক

পঞ্চদশ মিনিটে বাঁ দিক থেকে লি টাকের কর্নারে হাকিম বিন মামাতের হেডই ম্যাচে এগিয়ে নেয় টেরেঙ্গানুকে। ম্যাচ জুড়ে দারুণ খেলা এই ডিফেন্ডার হয়েছেন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়। মাঝমাঠে আলো ছড়ানোর সঙ্গে সর্বোচ্চ ছয় গোল করা লি টাক পেয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের মুকুট। রানার্সআপ চট্টগ্রাম আবাহনী পেয়েছে ফেয়ার প্লে ট্রফি।

৫৯ গোলের আসর

তিন আসর মিলিয়ে এবারই সবচেয়ে বেশি গোল হয়েছে। ২০১৫ সালে সব মিলিয়ে গোল হয়েছিল ৫৪টি। ২০১৭ সালের দ্বিতীয় আসরে গোল হয়েছিল ৩৬টি; সেবার ফাইনালের নিষ্পত্তি হয়েছিল টাইব্রেকারে, ৪-২ ব্যবধানে জিতেছিল টিসি স্পোর্টস।

সবচেয়ে বেশি হ্যাটট্রিকের আসর

এবার হ্যাটট্রিক হয়েছেন তিনটি। লি টাকের দুটি; একটি তার সতীর্থ ব্রুনো সুজুকির। ২০১৫ ও ২০১৭ সালে একটি করে হ্যাটট্রিক হয়েছিল। প্রথম আসরে গ্রুপ পর্বে করাচি ইলেক্ট্রিককে ৪-২ গোলে হারানো ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। পরেরবার একমাত্র হ্যাটট্রিক উপহার দেন শাহীদ আসমায়ের আমেরদিন শারিফি।

গোলের খাতায় বিবর্ণ দেশিরা

প্রথম আসরে দেশিদের মধ্যে চার গোল করেছিলেন চট্টগ্রাম আবাহনীর জাহিদ। কিন্তু পরের দুইবার বিবর্ণ স্থানীয় ফরোয়ার্ডরা। ২০১৭ সালে দেশিদের মধ্যে এক গোলের বেশি করতে পারেনি কেউ। এবারও একই অবস্থা। জামাল ভূইয়া, মতিন মিয়া, ইয়াসিন আরাফাতের নামের পাশে গোল মাত্র ১টি করে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক