টুঙ্গিপাড়ায় একটি ডাব ‘১২০ টাকা’

সময়টা বর্ষার মাঝামাঝি হলেও বৃষ্টির দেখা মিলছে না। প্রচণ্ড দাবদাহে পুড়ছে প্রকৃতি। এই অবস্থায় তৃষ্ণা মেটাতে ডাবের চাহিদা বেড়ে যায়। তবে চড়া দামের কারণে ডাবের পানিতে গলা ভেজাতে গিয়ে আঁতকে উঠছে ক্রেতারা।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 July 2022, 12:49 PM
Updated : 18 July 2022, 01:05 PM

যে ডাবের দাম গাছের মালিক পান ১৫ থেকে ২০ টাকা, সেই ডাব হাত ঘুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে।

পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে দেশের নানা প্রান্ত থেকে দর্শণার্থী আসছেন টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে।

প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণার্ত দর্শণার্থীরা একটু প্রশান্তি পেতে ডাবের পানি পান করতে চান। কিন্তু চড়া দাম তাদের সেই চাওয়ায় বাধ সাধে। সেখানে ছোট আকারের একটি ডাবের দাম হাকনো হচ্ছে ১০০ টাকা! আর মাঝারি আকারের ডাব বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা দামে।

খেতে গিয়েও দাম শুনেই অনেকে পিছু হটছেন। আবার অনেকে বলছেন, যে আকারের ডাবের দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা চাওয়া হচ্ছে তা দিয়ে গলাই ভিজবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণত টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, বাগেরহাটের মোল্লাহাট, চিতলমারী, পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা থেকে এখানে ডাব আসে। গাছের মালিকের কাছ থেকে প্রতিটি ডাব ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে কেনা হয়। গাছ থেকে নামাতে গাছিকে ডাব প্রতি ৩ টাকা দিতে হয়; পরিবহন খরচ আরও ২ টাকা। মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত ঘুরে সেই ডাব প্রতিটি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এমনটাই জানালেন নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক টুঙ্গিপাড়ার এক ডাব বিক্রেতা।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী গ্রামের ডাবগাছের মালিক ইমরান হোসেন বলেন, “১০০ ডাব বিক্রি করেছি দেড় হাজার টাকায়। আমাদের কাছ থেকে ডাব নিয়ে বিক্রেতারা প্রতিটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা করে বিক্রি করছে। এটি জুলুম ছাড়া আর কিছুই নয়।”

পাশের জেলার বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কলাতলা গ্রামের মুন্সি আব্দুর রহিম বলেন, “আমার পাঁচটি গাছ থেকে চারশ ডাব বিক্রি করেছি। ছোট-বড় সাইজের ডাবগুলো গড়ে ১৮ টাকা দরে বিক্রি করেছি। অথচ টুঙ্গিপাড়ায় এ ডাব আকার ভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।”

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধের ১ ও ২ নম্বর গেটে ছোট এবং মাঝারি আকারের প্রতিটি ডাব ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। চড়া দামে কিনেও এসব ডাবের পানি পান করে ক্রেতাদের তৃষ্ণা মিটছে না। তাই তারা জানাচ্ছেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। আবার কেউ কেউ দাম শুনেই পিছু হটছেন।

ডাব কিনতে আসেন খুলনার তেরখাদা উপজেলা থেকে আসা মিনাক্ষী বিশ্বাস।

তিনি বলেন, “ছোট ডাবের দাম নিয়েছে ১২০ টাকা। এ ডাব পান করে তৃষ্ণা মেটেনি। আমাদের সমানেই অনেকে ডাবের দাম শুনে পিছু হটেছে। আবার অনেকে একটু প্রশান্তির জন্য কিনে খাচ্ছেন।”

ডাবের আরেক ক্রেতা ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সুজাত আহমেদ বলেন, “এখানে ডাবের দাম খুব বেশি। ঢাকায় ৭০ থেকে ৮০ টাকায় ডাব পাওয়া যায়। কিন্তু টুঙ্গিপাড়ায় একটি ডাবের দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা! দ্রুত দাম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ।”

বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ সংলগ্ন ১ নম্বর গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ডাব বিক্রি করেন আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, “ঈদের ছুটিতে পদ্মা সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ টুঙ্গিপাড়া আসছেন। এর মধ্যে প্রচণ্ড গরমে ডাবের চাহিদা বেড়েছে।”

তার ভাষ্য, চাহিদার চেয়ে যোগান কম থাকার কারণেই মূলতঃ দাম বেড়েছে। আমদানি বাড়লে দাম কমে যাবে বলে মনে করছেন তিনি।

ডাবের চড়া দামের বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মোজহারুল হক বাবলু বলেন, “দাম নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করব। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে পুলিশ নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক