সংযোগ সড়কে ভোগান্তি, পদ্মা সেতুর ‘সুফল বঞ্চিত’ শরীয়তপুরবাসী

পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জনপদ উপকৃত হলেও ২৭ কিলোমিটার রাস্তা মেরামতের অভাবে শরীয়তপুরবাসী ‘সুফল থেকে বঞ্চিত’ হচ্ছেন।

কে এম রায়হান কবীর শরীয়তপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 July 2022, 09:36 AM
Updated : 18 July 2022, 09:36 AM

সেতুর জাজিরা প্রান্ত থেকে শরীয়তপুর পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়কটি যেমন ভাঙাচোরা তেমনি অপ্রশস্ত। এর সঙ্গে আবার যোগ হয় যানজট।

এই সড়কটুকু পাড়ি দিতে ‘দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা’ সময় লাগে বলে অভিযোগ ব্যবহারকারীদের।

শরীয়তপুর সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মো. ফারুক আহম্মেদ তালুকদার বলেন, “জাজিরা টিঅ্যান্ডটি মোড়, কাজীরহাট বাজার, ডিগ্রি বাজার, প্রেমতলা সেতু, সাহেব বাজার ও দৈনিক বাজার এলাকায় প্রতিদিন কয়েক দফায় যানজট হয়। তখন ২৭ কিলোমিটার সড়ক পার হতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙাচোড়া, খানখন্দে ভরা সড়কটি দুই পাশ থেকে এতটা চেপে এসেছে যে নির্দিষ্টি কয়েকটি জায়গা ছাড়া পাশাপাশি দুটি গাড়ি চলা তো দূরের কথা, প্রয়োজনে একটি গাড়িকে পাশ কাটানোর সময় ঝুঁকিতে পড়ে।

বিশেষ করে জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার সামনে থেকে সংযোগ সড়কের নাওডোবা জমাদ্দার মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটারে যানজট বেশি থাকে। 

যাত্রীরা বলছেন, এই পথে তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। দুর্ঘটনার আতঙ্ক মাথায় থাকে সারাক্ষণ।

যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আগে থেকেই সড়কটা পুনর্নির্মাণের দাবিতে সোচ্চার রয়েছেন। একই দাবি নিয়ে সম্প্রতি ‘শরীয়তপুরের সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার সামনে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। 

নাওডোবা এলাকার সোহেল বেপারী, সিরাজ মিয়া, রয়েল মুন্সিসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পদ্মা সেতুর জন্য বাপ-দাদার ভিটামাটি হারিয়েছেন তারা। এখন সংযোগ সড়ক বেহাল হওয়ায় তারা পদ্মা সেতুর সুফল পাচ্ছেন না।

ইতোমধ্যেই সড়কটি পুনর্নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদিত হলেও সওজের গাফিলতিতে কাজ এগোচ্ছে না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

তবে জেলা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমান বলেন, জাজিরা উপজেলার নাওডোবা থেকে শরীয়তপুর জেলা শহর পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার চার লেন সড়ক নির্মাণ করতে চায় সরকার। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় অনেক জায়গায় কাজ করতে পারছেন না ঠিকাদার। যেখানে সরকারি খাসজমি পাওয়া গেছে, সেখানে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পটি কয়েক বছর আগেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এক হাজার ৬৮২ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ৩০ জুন নাগাদ বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ জটিলতার নিরসন হলে দ্রুত এগিয়ে যাবে কাজ।

পুরনো খবর:

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক