পানিতে ডুবে মৃত্যুর অর্ধেক শিশু: গবেষণা

বগুড়ায় পানিতে ডুবে মারা যাওয়া মানুষের অর্ধেক শিশু বলে গবেষণায় জানা গেছে।

জিয়া শাহীন বগুড়া প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 July 2022, 06:36 PM
Updated : 6 July 2022, 05:30 AM

সরকারের বিভিন্ন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে বলে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) পরিচালক সাইদুর রহমান মাশরেকী জানান। 

মারা যাওয়া বেশিরভাগ ঘটনা সাঁতার না জানার কারণে হয় বলেও গবেষণায় বলা হয়।

সিআইপিআর,বির পরিচালক সাইদুর রহমান মাশরেকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ২০০৫ সালে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ হেলথ এন্ড ইনজুরি সার্ভে (বিএইচআইএস) হয়ে তারা জরিপ করেছেন। তাতে ওই বছর ২২ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার তথ্য পান। এর মধ্যে এক থেকে পাঁচ বছরের শিশু ১৮ হাজার।

“২০১৬ সালে ওই প্রতিষ্ঠানের হয়ে আবার জরিপে পান বছরে ১৯ হাজার মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম শিশুর মৃত্যু ১০ হাজার।”

সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক এন্ড হেলথ সার্ভের জরিপে ২০২০ সালে পানিতে ডুবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুর হার ৫৮ শতাংশ উল্লেখ করা হয় বলে জানান মাশরেকী।

শিশুদের পানিতে পড়ে মৃত্যুর অধিকাংশ ঘটনা ঘটে পারিবারিক অসাবধানতার কারণে। 

বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহাদাৎ হোসেন ঝুনু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তার বিদ্যাপীঠের স্কুল লেভেল থেকে শুরু করে কলেজ লেভেল পর্যন্ত অধিকাংশ শিক্ষার্থীই সাঁতার জানে না।

“সাঁতার না জানায় বিভিন্ন স্কুল কলেজের অনেক শিক্ষার্থী গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়। পারিবারিকভাবে এবং সরকারিভাবে সাঁতার শেখানোর ব্যবস্থা করা উচিত।”

শহরে পুকুর ভরাট করা, করতোয়ার ময়লা আবর্জনাযুক্ত পানি থাকায় সাঁতার শেখার জায়গাও হারিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

বগুড়া  সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া বেগম জানান, তার বিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর সাঁতার জানে না। তার বিদ্যালয়ের বেশ কজন পানিতে ডুবে মারা গেছে।

“পারিবারিকভাবেই শিশুদের সাঁতার শেখানো উচিত প্রতিটি অভিভাবকের; তাছাড়া সাঁতার বড় ধরনের ব্যায়ামও।”

বগুড়ার সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যানবিদ মো. সাহেরুল ইসলাম জানান, বগুড়ার ১২ উপজেলায় ২০২২ এর জানুয়ারি থেকে ৬ মাসে পানিতে ডুবে মারা গেছে ১৪ জন। নিখোঁজ রয়েছে আরও দুই শিশু। মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে ৯ জনই শিশু।

সাহেরুল আরও জানান, উপজেলা হাসপাতালে পানি ডুবে মারা যাওয়াদের লাশ নিয়ে এলে সেই হিসাবেটিই শুধু পাওয়া যায়। এর বাইরের হিসাব রেকর্ড হয় না।

“অভিভাবকদের  অসাবধানতা এবং সাঁতার না জানার কারণেই অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বলে তিনি মনে করেন।”

সিআইপিআর,বির পরিচালক সাইদুর রহমান মাশরেকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আরও জানান, পানিতে ডুবে মারা যাওয়া প্রতিরোধে ২০০৬ সাল থেকে ১৬ বছর যাবৎ কাজ করছেন তারা। প্রথমে নরসিংদী, শেরপুর এবং সিরাজগঞ্জ জেলায় কাজ করলেও পরে অন্যান্য জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

“এ পর্যন্ত ৭ লাখ শিশুদের সাঁতার শেখানোসহ মায়েদের সচেতন করে সফলতাও পেয়েছি। সরকার আমাদের এই সফলতায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সারা দেশে কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে প্রাথমিকভাবে ১৬ জেলায় ৩ লাখ শিশুর সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে।”

পরে অন্যান্য জেলাতেও কার্যক্রম ছড়ানো হবে বলে তিনি জানান। 

সারা দেশে শিশুদের সাঁতার শেখানোর ব্যবস্থা করা উচিত এবং প্রয়োজনে এ ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দও করা উচিত, বলেন মাশরেকী।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক