নোয়াখালীতে বৃদ্ধকে নির্যাতন, যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক বৃদ্ধকে অকথ্য নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

নোয়াখালী প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 July 2022, 03:52 AM
Updated : 4 July 2022, 03:53 AM

চরজব্বার থানার ওসি দেবপ্রিয় দাশ জানান, চাঁদা দাবি করায় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন চর ওয়াপদা ইউনিয়নের ধানের শীষ গ্রামের ওই বৃদ্ধ। এর জেরে গত শুক্রবার রাতে তাকে মারধর করে পায়ু পথে টর্চ লাইট ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

পরে প্রায় দেড়ঘণ্টা অস্ত্রোপচার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতেলের চিকিৎসকরা টর্চ লাইটটি বের করেন।

এ ঘটনায় ৭২ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধের ছেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য রোববার রাতে চরজব্বার থানায় মামলা করেন।

সেখানে চর ওয়াপদা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আবুল হোসেন সানাজ (৪৫) এবং ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তানভীর হোসেনসহ (৪০) আট জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও আটজনকে আসামি করা হয়।

ওসি বলেন, “মামলার প্রধান আসামি সানাজকে রাতেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি আসামিদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।”

মামলার এজাহারে বলা হয়, চর ওয়াপদা ইউনিয়নের ধানের শীষ গ্রামের ওই বৃদ্ধ কিছু দিন আগে এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণ করতে গেলে আসামিরা তার কাছে চাঁদা দাবি করে। টাকা না পেয়ে তারা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।

এ ঘটনায় ওই বৃদ্ধ আদালতে মামলা করেন। বিচারকের আদেশে চরজব্বার থানা পুলিশ মামলাটির তদন্তভার পায়। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা হত্যার হুমকি দিলে ওই বৃদ্ধ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে লিভিত অভিযোগ করেন।

আসামিরা তখন আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয় জানিয়ে এজাহারে বলা হয়, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে থানার হাট থেকে ওই বৃদ্ধ যখন বাড়ি ফিরছিলেন, আবুল হোসেন সানাজের নেতৃত্বে ৮/১০ জন থানার হাট- সোনাপুর সড়কের মহিলা মাদ্রাসার পাশে অস্ত্রের মুখে তার পথরোধ করে এবং মুখে গামছা পেঁচিয়ে তাকে মাটিতে ফেলে মারতে থাকে।

মামলায় বলা হয়, হামলাকারীরা এক পর্যায়ে ওই বৃদ্ধের ‘পায়ু পথ দিয়ে টর্চ লাইট ঢুকিয়ে দেয়’। এ সময় বৃদ্ধ সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললে হামলাকারীরা তাকে ঝোপের মধ্যে ফেলে দিয়ে চলে যায়।

জ্ঞান ফেরার পর ওই বৃদ্ধ চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন তাকে খুঁজে পায় এবং তার ছেলেকে খবর দেয়। পরে ওই বৃদ্ধকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম জানান, তাদের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ফজলুর রহমান মানিকের নেতৃত্বে তিনজন চিকিৎসক শনিবার প্রায় দেড় ঘণ্টা অস্ত্রোপচার করে বৃদ্ধের পায়ুপথ থেকে টর্চ লাইটটি বের করেন। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক