নোয়াখালীতে বিআরটিসি বাস চালুর একদিনেই বন্ধ, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

নোয়াখালী সদরের সোনাপুর থেকে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত বিআরটিসি বাস চালুর একদিনের মাথায় বেসরকারি পরিবহন শ্রমিকদের বাধার মুখে বন্ধ হয়ে গেছে।

নোয়াখালী প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 July 2022, 05:13 PM
Updated : 3 July 2022, 05:22 PM

এ ঘটনার প্রতিবাদে যাত্রীরা বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন।

রোববার সকালে সুবর্ণচর উপজেলা নাগরিক কমিটির ব্যানারে উপজেলার খাসেরহাট রাস্তার মাথা থেকে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সর্বস্তরের লোকজনের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলটি দুই কিলোমিটার সড়ক প্রদক্ষিণ করে চরজব্বার থানার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে মানবন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তাগণ অভিযোগ করেন, হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার জেলা সদরের সোনাপুর থেকে সুবর্ণচর হয়ে হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত বিআরটিসির ৪টি দ্বিতল বাস চালু করা হয়।

ওইদিন জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান সোনাপুর বিআরটিসি বাস ডিপো থেকে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতাদের উপস্থিতিতে এ সার্ভিস আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

পরদিন সোনাপুর জিরো পয়েন্টে বেসরকারি পরিবহন শ্রমিকদের বাধার মুখে বিআরটিসি বাস গন্তব্যে যেতে না পেরে ডিপোতে ফিরে যায়। সেই থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত এ বাস সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়।

বক্তাদের অভিযোগ, এ রুটে দীর্ঘদিন থেকে বাস, অটোরিকশা মালিক-শ্রমিকরা সিন্ডিকেট করে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে। চালক শ্রমিকদের হাতে অনেক যাত্রী শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে।

সমাবেশ থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সোনাপুর-হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট রুটে পুনরায় বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালু করা না হলে বেসরকারি কোনো বাস চলতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবহন সিন্ডিকেট ও ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ করার দাবি জানান।

সুবর্ণচর নাগরিক কমিটির আহবায়ক আতিক উল্যাহ সুজনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন লেখক গবেষক বাহাউদ্দিন খেলন, সাংবাদিক আবুল বাশার, আবদুল বারি বাবলু, লিটন চন্দ্র দাস প্রমুখ।

এ ব্যপারে জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, কারো ব্যক্তি স্বার্থের কাছে সবার স্বার্থ জলাঞ্জলি হতে পারে না। বেসরকারি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদেরকে ডাকা হয়েছে। তাদের বক্তব্য শুনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক