বিলাইছড়ি হত্যাকাণ্ড: পাড়াছাড়া মানুষদের নিরাপত্তা দাবি, হুমকির অভিযোগ

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকায় তিনজনকে গুলি করে হত্যার পর সেখানকার অনেক বাসিন্দা নিরাপত্তার অভাবে পাড়া ছেড়েছেন এবং তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নেতারা।  

বান্দরবান প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 July 2022, 12:13 PM
Updated : 3 July 2022, 01:04 PM

রোববার বান্দরবান শহরে প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে নেতারা এই অভিযোগ করেন। এ সময় তারা পাড়াবাসীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও করেন।   

উপজেলার দুর্গম বড়থলি ইউনিয়নের সাইজাম নতুন পাড়ায় অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ২১ জুন তিনজনকে হত্যা করা হয়; গুলিবিদ্ধ হয় দুই শিশু। নিহতরা হলেন- সুভাষ চন্দ্র ত্রিপুরা (৩০), তার বাবা বিছাই চন্দ্র ত্রিপুরা (৫০) এবং প্রতিবেশী ধনরাং ত্রিপুরা (১৫)।

এ ঘটনার পর ফেইসবুকে দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) নামে পাহাড়ের একটি সশস্ত্র সংগঠন। তারা ‘কুকি-চিন রাজ্য’ নামে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল চাইছে; যেখানে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরারা থাকবে না, থাকবে বম, খিয়াং, পাংখুয়া, লুসাই, খুমি ও ম্রোরা।

বিলাইছড়ি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সকালে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ এবং ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরাম। এতে বান্দরবানে বসবাসরত নৃ-গোষ্ঠী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ বান্দরবান জেলার সাবেক সভাপতি দেনদোহা ত্রিপুরা বলেন, “২১ জুন তিনজন ত্রিপুরাকে গুলি করে হত্যার পর পুলিশ এখনও লাশ পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি। কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি নিরীহ গ্রামবাসীকে শুধু হত্যা করে ক্ষান্ত হয়নি।

“বড়থলি ইউনিয়নে আরও কয়েকটি পাড়ার ত্রিপুরা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের অনেক পরিবারকে হুমকি দিয়ে গ্রামছাড়া করেছে। যেসব পরিবার পালিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে; তারা এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”

বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও নানা সংস্কৃতির বৈচিত্র্যে ভরপুর। সবাই সম্প্রীতির মনোভাব নিয়ে বসবাস করে।

“ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের তিনজনকে গুলি করে হত্যা এবং আরও দুই শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা একটা সম্প্রদায়ের মনে বড় হাঘাত হেনেছে। অব্যশই এর বিচার হতে হবে।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ফরিদ উদ্দিন সংহতি জানিয়ে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম খুবই বৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকা। এখানে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বর্ণাঢ্য সংস্কৃতি রয়েছে।

“পাহাড়ে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা কাম্য নয়। প্রাণহানির মতো ঘটনা পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে।“

মানববন্ধনে ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- নিহত ও আহত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপুরণ দেওয়া, গ্রামছাড়া হয়ে পালিয়ে যারা বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে বিচারে আওতায় নিয়ে আসা।

বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য সত্যহা পানজির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা, তঞ্চঙ্গ্যা ওয়েলফেয়ার স্টুডেন্ট ফোরামের সদস্য সচিব সুরেশ তঞ্চঙ্গ্যা, বান্দরবান জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ফিলিপ ত্রিপুরা, উন্নয়নকর্মী রামবাহাদুর ত্রিপুরা স্টিভ ও শিক্ষক মার্গারেট ত্রিপুরা।

আরও পড়ুন:

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক