শরীয়তপুরে মালিক গ্রুপের যাত্রী হয়রানির অভিযোগ

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে শরীয়তপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের বিরুদ্ধে অন্যান্য পরিবহনের যাত্রীদের হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।

কে এম রায়হান কবীর শরীয়তপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 June 2022, 04:50 PM
Updated : 29 June 2022, 04:58 PM

সেতু চালু হওয়ার পর পাঁচ দিনেও ঢাকা-শরীয়তপুর রুটের বাস যাত্রীদের দুর্ভোগ কাটেনি। তাদের দুর্ভোগ ক্রমাগত বেড়েই চলছে।

শরীয়তপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের লোকজন শরীয়তপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিআরটিসি বাসের যাত্রীদের নামতে-উঠতে বাধা দিচ্ছে।

বাসে উঠতে না পারায় অনেক যাত্রী আগের মতোই লঞ্চ, ট্রৃলার, সি বোটে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঢাকায় যাচ্ছে।   

শরীয়তপুর পদ্মা ট্রাভেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও নড়িয়া পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ ও স্থানীয়রা জানায়, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পাঁচ দিনেও  শরীয়তপুরের বাস যাত্রীদের দুর্ভোগ কাটেনি।  যেখানে পদ্মা সেতু দিয়ে ২ ঘণ্টায় ঢাকা যাওয়ার কথা সেখানে শরীয়তপুর জেলা  সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের  সিন্ডিকেটের কারণে ৪ ঘণ্টায়ও যাত্রীরা ঢাকায় পৌঁছতে পারছে না।

শরীয়তপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস নামের মাত্র ১৫টি বাস ঢাকা -শরীয়তপুর যাতায়াত করছে; যা যাত্রীর তুলনায় একেবারেই কম। ফলে সকাল ৬টা থেকে শুরু করলে ৮টার মধ্যেই আদের গাড়ি শেষ হয়ে যায়। যাত্রীরা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে বাস না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকে।

অনেকে বাস না পেয়ে লোকাল পরিবহনে মাঝির ঘাট যায়; সেখান থেকে আগের মতোই লঞ্চ, ট্রলার ও সি বোটে পার হয়ে ঢাকা যায়।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর শরীয়তপুরের যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শরীয়তপুর টু ঢাকা গাড়ি চালানোর জন্য পদ্মা ট্রাভেলস লিমিটেড, শরীয়তপুর ট্রান্সপোর্ট, শরীয়তপুর পরিবহন শরীয়তপুরে সার্ভিস দিতে আসলে নানা রকম বাধা দিয়ে হয়রানি করছেন শরীয়তপুরের জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের লোকজন।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে জানা যায়, শরীয়তপুরের জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের ১৫টি বাস শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস নামে ঢাকা-শরীয়তপুর চলাচল করছে। ওই বাসগুলোর রুট পারমিট ও তাদের কোম্পানির অনুমোদন নেই।  মাঝে মধ্যে তারা ঢাকার মোবাইল কোর্টে জরিমানা গোনে।  

যাত্রী মামুন ঢালী, কবির মিয়া, শাহিন কাজী বলেন, বাস সংকটের কারণে তারা শরীয়তপুর বাস স্ট্যান্ডে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ি পাননি। পরে লোকাল গাড়িতে উঠে মাঝির ঘাট হয়ে লঞ্চ দিয়ে ঢাকা  ফেরেন।

বিআরটিসির ডিপো ইনচার্জ বুলবুল আহামেদ বলেন, “আজ বুধবার আমাদের গাড়িগুলো ঢাকা থেকে শরীয়তপুরের গোসাইর হাটসহ বিভিন্ন উপজেলায় যাওয়ার সময় শরীয়তপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গেলে শরীয়তপুর সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের লোকজন যাত্রীদের সেখানে উঠতে ও নামতে দিচ্ছে না । এটা খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়ে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”

শরীয়তপুর ট্রাভেলসের চেয়ারম্যান লুতফর রহমান ও নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরিচালক মাস্টার হাসানুজ্ঝামান খোকন বলেন, “আমাদের সব কাগজপত্র আছে। আমরা শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানিয়েছি, দেখি কী হয়।”

শরীয়তপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি ফারুক আহম্মেদ তালুকদার বলেন,  “আমাদের শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস লিমিটেডের সব কয়টি গাড়ি নতুন। এর কাগজপত্র এখনও হাতে পাইনি। রুট পারমিটের জন্য আবেদন করেছি।”

অন্য কোম্পানীর বাসকে বাধা দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন এ জেলায় খারাপ রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে অনেক লোকশান দিয়েছি। এখন কেউ ব্যবসা করতে আসলে আমাদের সাথে সমন্বয় করেব্যবসা বাণিজ্য করবে।”

এ ব্যাপারে শরীয়থপুরের জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান বলেন, “যাত্রী দুর্ভোগ ও হয়রানির কথা আমি শুনেছি। লোক পাঠিয়েছি। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। যাদের রোড পারমিট নেই তাদের দ্রুতত রোড পারমিট আনতে হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক