কুড়িগ্রামে চুরির অভিযোগ তুলে গাছে বেঁধে নির্যাতন

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় টাকা চুরির অভিযোগ তুলে গাছে ঝুলিয়ে বেঁধে এক ব্যক্তির ‘আঙুল ভেঙে’ দেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 June 2022, 04:10 PM
Updated : 27 June 2022, 04:22 PM

খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করলেও কাউকে আটক করেনি। উপজেলার রামহরি গ্রামের ৩৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে রাজারহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

গত বুধবারের এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়ালে সাংবাদিকরা জানতে পারেন।

নির্যাতনে আহত ব্যক্তি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি দিনমজুরি করেন। বুধবার এলাকার বিজলি বাজারের পাশে এক বাড়িতে খড়ি কাটার কাজ করতে যান। সেখান থেকে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বাজারের দোকানে খেতে যান।

“সে সময় এলাকার আবদুল আউয়াল নামে এক ব্যক্তিসহ কয়েকজন আমাকে চুরির অভিযোগ তুলে ধরে নিয়ে যায়। আমাকে তারা তাদের বাড়ির উঠানে গাছে ঝুলিয়ে বেঁধে মারধর করে। সে সময় ইউপি সদস্য আবদুল বাতেন সেখানে ছিলেন। কেউ একজন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে রাজারহাট থানার পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।”

তার মা বলেন, “মোর ছোয়াটাকে বিনা দোষে মারিল। মুই এটার বিচার চাং।”

মারধরের কথা স্বীকার করেছেন আবদুল আউয়াল।

তিনি বলেন, তার বড় ভাই দুলালের বাড়ি থেকে ১১ হাজার ৫৮০ টাকা হারিয়ে গেছে।

“আমরা নিজ চোখে দেখিনি কে চুরি করেছে। তবে আমার ভাতিজি ওই ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছে। সেজন্যই তাকে ধরে এনে মারা হয়েছে। তবে ওভাবে মারধর করাটা ঠিক হয়নি। বিয়ষটা মীমাংসার শেষ পর্যায় এসে পৌঁছেছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই ইউপি সদস্য আবদুল বাতেন মীমাংসার আশ্বাস দিয়েছেন। পরে পুলিশের নির্দেশে আমরা ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি এবং চিকিৎসার খরচও দিচ্ছি।”

ইউপি সদস্য আব্দুল বাতেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, তিনি তাকে মারধর করে ছেড়ে দেওয়া অবস্থায় দেখতে পেয়েছেন। ওই ব্যক্তি এখনও হাসপাতালে থাকায় মীমাংসা হয়নি।

“ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলেও কাউকে আটক করেনি কেন জানি না।”

মারধরে ওই ব্যক্তির গুরুতর আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

রাজারহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক তাসলিমা আক্তার বলেন, “তার বাম হাতের একটি আঙুল ভেঙে গেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”

ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন রাজারহাট থানার এসআই অনিল চন্দ্র রায়।

অনিল বলেন, “৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে আমরা দড়ি খোলা অবস্থায় পাই। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তবে এখনও কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি।”

অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাজারহাট থানার ওসি রাজু সরকার।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক