শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা: ফাঁসির আসামি পিন্টু কারাগারে

পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনে ২৮ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাকারিয়া পিন্টুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পাবনা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 June 2022, 09:13 AM
Updated : 27 June 2022, 09:38 AM

সোমবার দুপুরে পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক ইসরাত জাহান মুন্নী আসামি পিন্টুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান।

তিনি আরও বলেন, “আদেশের পর পিন্টুকে কড়া নিরাপত্তায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

শনিবার রাতে কক্সবাজার থেকে বিএনপি নেতা পিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সেময়ের বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা ট্রেনে ঈশ্বরদী স্টেশন পার হওয়ার সময় বোমা হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় দায়ের হওয়া মামলায় ২০১৯ সালের ৩ জুলাই বিএনপির নয় নেতাকর্মীর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত।

ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু এ মামলার শুরু থেকেই পলাতক ছিলেন। তার সঙ্গে আরও আটজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ২৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে এ মামলায়।

জাকারিয়া পিন্টু ওই মামলা ছাড়াও ভেড়ামারা থানার অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। এ ছাড়া মোট আটটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালে ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা। সে সময় ক্ষমতায় বিএনপি সরকার, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

ওই বছর ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ট্রেন মার্চ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। খুলনা থেকে ট্রেনে করে সৈয়দপুর যাওয়ার পথে ঈশ্বরদী স্টেশনে তার যাত্রাবিরতি ও পথসভা করার কথা ছিল।

ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে পৌঁছালে শেখ হাসিনার বগি লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছোড়া হয়। তবে ওই ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যান আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

হামলার ঘটনায় রেল পুলিশের ওসি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাত জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও শতাধিক ব্যক্তিকে ‘অজ্ঞাত পরিচয়’ আসামি হিসেবে দেখিয়ে মামলা দায়ের করেন। 

কিন্তু তখনকার বিএনপি সরকারের সময়ে এ মামলার তদন্ত আটকে থাকে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে পুলিশকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তদন্ত শেষে ঈশ্বরদীর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে আসামি করে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। পরে অভিযোগ গঠন করে আসামিদের বিচার শুরু করে আদালত। 

পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক রোস্তম আলী ২০১৯ সালের ৩ জুলাই এ মামলার রায়ে বিএনপির নয় নেতাকর্মীকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এ ছাড়া ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয় রায়ে।

পিন্টু ছাড়া মৃত্যুদণ্ডের বাকি নয় আসামি হলেন: বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোকলেছুর রহমান, পাবনা জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক একেএম আকতারুজ্জামান আকতার, ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোস্তফা নূরে আলম শ্যামল, স্থানীয় বিএনপি নেতা মাহবুবুল রহমান পলাশ, রেজাউল করিম ওরফে শাহিন, শামছুল আলম, আজিজুর রহমান ভিপি শাহীন ও শহীদুল ইসলাম অটল।

এই আটজনকে রায়ের সময়ই কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। মামলার ৫২ আসামির মধ্যে পাঁচজন বিচার চলার মধ্যেই বিভিন্ন সময়ে মারা যান।

পুরনো খবর:

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক