‘বাঁশের সাঁকোতে উঠে পদ্মা সেতু নিয়ে ব্যঙ্গ’, ২ যুবককে পিটুনি

বাঁশের সাঁকোর ছবি ফেইসবুকে দিয়ে পদ্মা সেতু নিয়ে ব্যঙ্গ করার অভিযোগে মাগুরায় দুই যুবককে এলাকার লোকজন পিটিয়ে আহত করেছে।

মাগুরা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 June 2022, 06:27 PM
Updated : 27 June 2022, 04:12 AM

রোববার সন্ধ্যায় সদর উপজেলা হাজরাপুর ইউয়িনের আলমখালী বাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।

আহতরা হলেন হাজরাপুর গ্রামের মো. সোলাইমানের ছেলে মাসুম রেজা (২৪) এবং একই এলাকার আকিদুল ইসলাম (২৮)।

মাসুম ঢাকায় একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিএসসির ছাত্র; আর আকিদুল এক বছর আগে মালয়েশিয়া থেকে ফিরেছেন।

আহত অবস্থায় তাদের মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়; পরে সেখান থেকে আকিদুল পালিয়ে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

আহত মাসুম রেজা বলেন, কয়েকদিন আগে আকিদুলের সঙ্গে শ্রীপুর উপজেলার বড়রিয়া বিলে দুই বন্ধু ঘুরতে গিয়ে খামারপাড়া খালের উপর বাঁশের তৈরি একটি সাঁকোতে দুই বন্ধু মোবাইল ফোন দিয়ে সেলফি তোলেন। সেই ছবি সম্প্রতি বন্ধু আকিদুল তার নিজের ফেইসবুকে পোস্ট করেন।

মাসুম বলেন, ছবির ক্যাপশনে লিখেছিলেন ‘আমরা পদ্মা সেতুতে উঠেছি।’

এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

মাসুম বলেন, এ কারণে রোববার সন্ধ্যায় হাজরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কবির হোসেন আলমখালী বাজার এলাকায় নিজ কার্যালয়ে এ দুই যুবককে ডেকে আনেন। এরপর ওই দুই যুবককে চেয়ারম্যানসহ উপস্থিত তার সমর্থকরা পিটুনি দেন।

আহত অবস্থায় তাদের মাগুরা সদর হাসপাতালের ভর্তি করা হয়; তবে পরে আহত অবস্থায় আকিদুল হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যান বলে মাছুম জানান।

এ বিষয়ে মাগুরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মিঠুন কুমার সাহা বলেন, আহত অবস্থায় দুই যুবক ভর্তি হয়েছেন। তাদের হাত, পা ও মাথায়  আঘাত রয়েছে।

চেয়ারম্যান কবির হোসেন বলেন, দুই যুবক বাঁশের সাঁকোতে দাঁড়িয়ে পদ্মা সেতুতে উঠেছে এবং পদ্মা সেতুর মধ্যে বাঁশ দেওয়া আছে বলে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়েছে; যে ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাদের চড়, থাপ্পড় মেরেছে।

এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানান। 

সদর থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, হাজরাপুরে পদ্মা সেতু নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই যুবককে মারপিটের কোনো সংবাদ তাদের জানা নেই। যদি কেউ  লিখিত অভিযোগ করেন তাহলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক