প্রথম টোল দিয়ে বাইক নিয়ে পদ্মা সেতু পার হলেন যিনি

পদ্মার দুই পাড়ে উৎসবের রঙ ছড়িয়ে উদ্বোধনের পরদিন যান চলাচল শুরু হয়েছে স্বপ্নের সেতুতে।

ফারহানামির্জা, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 June 2022, 04:03 AM
Updated : 26 June 2022, 11:41 AM

কথা ছিল রোববার সকাল ৬টা থেকে পদ্মা সেতু পার হওয়ার সুযোগ মিলবে। তবে নির্ধারিত সময়ের দশ মিনিট আগেই ৫টা ৫০ মিনিটে আমিনুল ইসলাম নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী মাওয়া টোল প্লাজার ৩ নম্বর লেইনে ১০০ টাকা টোল দিয়ে পদ্মাসেতু পার হন।

৩৫ বছর বয়সী আমিনুল ইসলাম জানালেন, কামরাঙ্গীর চর থেকে তারা বন্ধুরা মিলে দল বেঁধে এসেছেন পদ্মা সেতু পার হওয়ার জন্যই। টোল প্লাজা খোলার অপেক্ষায় ছিলেন ভোর থেকে। তার মোটর সাইকেল সামনে থাকায় প্রথম সুযোগটা তিনিই পেয়ে গেছেন।

৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। এই ২১টি জেলার মাওয়া রুট ব্যবহারকারী বাসসহ যানবাহনগুলো এতদিন ফেরিতে পারাপার হত। এখন চলছে সেতুতে, যার অপেক্ষা বহুদিনের।

শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরিয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা সারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাওয়া প্রান্তে টোল দিয়ে তিনিই হন এ সেতুর প্রথম যাত্রী।

রোববার সকাল থেকে সবার জন্য সেতু খুলে দেওয়ার কথা থাকায় প্রথম যাত্রার অভিজ্ঞতা স্মরণীয় করে রাখার অপেক্ষায় ছিলেন অনেকে। সে কারণে অনেকেই মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন বাহন নিয়ে রাতে এসে অপেক্ষা করছিলেন সেতুর দুই প্রান্তে।

ভোরের দিকে মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজায় যানবাহনের দীর্ঘ কিউ তৈরি হয়ে যায়। ৬টার আগে আগে সকালে সেতুর দুই প্রান্তের ১৪টি টোল গেইট খুলে দেওয়া হয়।

প্রকল্প পরিচালক শফিকুল বলেন, “শুরুর দিন স্বাভাবিকভাবেই যানবাহনের ব্যাপক চাপ থাকবে। আমাদের টোলপ্লাজার কর্মীদের সেভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, তারা ভিড় সামলাতে পারবে। এছাড়া সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্যও সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে।”

সকাল থেকেই দারুণ উৎসাহ নিয়ে হাতে হাতে টোল দিয়ে সেতু পার হচ্ছে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন। তবে তিন চাকার বাহনের এ সেতুতে ওঠার অনুমতি নেই।

ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টোল আদায় করায় সময় একটু বেশি লাগছে। সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৬৬০টি যানবাহন মাওয়া থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বলে কর্মীরা জানালেন। 

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রজব আলী বলেন, “প্রথম প্রথম একটু সমস্যা হচ্ছে, সেই সাথে সময়ও একটু বেশি লাগছে। দুয়েকদিন গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।”

সেতুতে ছোট বাসে ১৪০০ টাকা, মাঝারি বাসে ২০০০ টাকা এবং বড় বাসে ২৪০০ টাকা টোল দিতে হচ্ছে। ছোট ট্রাকের টোল ১৬০০ টাকা, মাঝারি ট্রাকে ২১০০-২৮০০ টাকা, বড় ট্রাকে ৫৫০০ টাকা। পিকআপের টোল ১২০০ টাকা।

কার ও জিপের টোল ধরা হয়েছে ৭৫০ টাকা, মাইক্রোবাসে ১৩০০ টাকা। মোটরসাইকেল নিয়ে পদ্মা সেতু পার হতে লাগছে ১০০ টাকা।

পদ্মা সেতু হয়ে যাতায়াতকারী বেশিরভাগ পরিবহনের বাস ছেড়ে যাচ্ছে ঢাকার সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে।

বৃহ্ত্তর দক্ষিণবঙ্গ কোচ ও বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সায়েদাবাদ থেকে আগে যেসব বাস ছেড়ে যেত, রোববারও সেগুলো ছেড়ে যাবে।

“আমাদের এদিক থেকে চলাচলকারী বাসগুলো বন্ধ ছিল অনেকদিন। সেই সব বাসই যাবে। এছাড়া হানিফ, গ্রিনলাইনসহ কয়েকটি পরিবহনের বাসও যাওয়ার কথা রয়েছে।”

গ্রিনলাইন পরিবহনের মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুস সাত্তার শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, পদ্মা সেতু হয়ে সাতক্ষীরা, বেনাপোল, খুলনা, যশোর, বরিশাল ও কুয়াকাটায় যাবে তাদের বাস।

“আমাদের সব গাড়িই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। রুট পারমিট নেওয়া ছিল, কাল সকাল থেকেই আমরা এই রুটে বাস চালাব।”

পারাপারের খরচ

বাহন

পদ্মা সেতু

ফেরি

বঙ্গবন্ধু সেতু

মোটর সাইকেল

১০০ টাকা

৭০ টাকা

৫০ টাকা

কার-জিপ

৭৫০ টাকা

৫০০ টাকা

৫৫০ টাকা

পিকআপ

১২০০ টাকা

৮০০ টাকা

৬০০ টাকা

মাইক্রোবাস

১৩০০ টাকা

৮৬০ টাকা

৬০০ টাকা

ছোট বাস (৩১ আসন বা কম)

১৪০০ টাকা

৯৫০ টাকা

৭৫০ টাকা

মাঝারি বাস (৩২ আসনের বেশি

২০০০ টাকা

১৩৫০ টাকা

১০০০ টাকা

বড় বাস (থ্রি এক্সেল)

২৪০০ টাকা

১৫৮০ টাকা

১০০০ টাকা

ছোট ট্রাক (৫ টন পর্যন্ত)

১৬০০ টাকা

৮০০-১০৮০ টাকা

১০০০ টাকা

মাঝারি ট্রাক (৫ টনের বেশি থেকে ৮ টন)

২১০০ টাকা

১৪০০ টাকা

১২৫০ টাকা

মাঝারি ট্রাক (৮ টনের বেশি-১১ টন)

২৮০০ টাকা

১৮৫০ টাকা

১৬০০ টাকা

ট্রেইলার (থ্রি এক্সেল পর্যন্ত)

৫৫০০ টাকা

৩৯৪০ টাকা

২০০০ টাকা

ট্রেইলার (ফোর এক্সেল পর্যন্ত)

৬০০০ টাকা

 

৩০০০ টাকা

ট্রেইলার (ফোর এক্সেলের অধিক)

৬০০০ + প্রতি এক্সেলে ১৫০০ টাকা

 

৩০০০+প্রতি এক্সেলে ১০০০ টাকা

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক