পদ্মা সেতু ‘পরিবর্তন আনবে’ ফরিদপুরের কৃষিতে

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সহজে পণ্য পরিবহন করার সুবিধা পেয়ে ফরিদপুরের কৃষিতে পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। কৃষিপণ্যের ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন চাষিরা।

শেখ মফিজুর রহমান শিপন ফরিদপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 June 2022, 11:27 AM
Updated : 22 June 2022, 06:23 AM

নানা ধরনের কৃষিপণ্যের মধ্যে পাট ও পেঁয়াজ উৎপাদনে ভালো অবস্থানে আছে ফরিদপুর। জেলার নয় উপজেলাতেই এই দুই পণ্যের আবাদ হয়ে থাকে। এ ছাড়া মরিচসহ আরও নানা সবজিরও চাষ হয়।

ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মনে করেন, সেতু চালু হলে জেলার পাট ও পেঁয়াজ চাষিরা লাভবান হবেন সরাসরি।

“জেলার নয় উপজেলার চাষিদের উৎপাদিত ফসল ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে খরচ ও সময় বাঁচবে। এতে লাভবান হবেন চাষি ও ভোক্তরা।”

তার ভাষ্য, ফরিদপুরের চাষিদের অনেক সময়ই পচনশীল মশলা জাতীয় পণ্য বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হতো। আশা করা যায় ওই দুর্দিন শেষ হতে চলেছে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. হজরত আলী জানান, জেলার ১ লাখ ২৪ হাজার হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে মৌসুমে পাটের চাষ হয় ৮৬ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে। উৎপাদিত পাট পৌঁছে যায় সারা দেশের জুট মিলগুলোয়।

“আর সরকারি হিসেবে এবারে জেলার পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ৫ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে জেলার ১৭ হাজার মেট্রিক টন চাহিদা মিটিয়ে বাকিটা পাঠানো হবে রাজধানীসহ নানা জেলায়।”

ব্যবসায়ী ও চাষিদের অনেকেই বলেন, রাজধানী বা অন্য জায়গায় কৃষিপণ্য নিয়ে যেতে পরিবহন খরচ বা পথের নানা জটিলতার চিন্তায় তাদের অনেকেই পণ্য কম দামে ফড়িয়া বা আড়তে বিক্রি করে দিতেন। এতে খুব একটা লাভের টাকা হাতে আসত না।  

জেলার কানাইপুর এলাকার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বেলাল মাতুব্বর জানান, সেতু খুললে পেঁয়াজের পরিবহন খরচ কমে আসবে, সময়ও বাঁচবে।

তিনি বলেন, “কানাইপুর বাজার থেকে ১৪ টনের একটি ট্রাক ঢাকার শ্যামবাজারে পৌঁছাতে রাস্তার খরচসহ আামদের ব্যয় হয় ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা। সেতু চালুর ফলে হয়তো কিছুটা খরচ কমবে।”

মধুখালী উপজেলার মরিচ চাষি হাফিজুর রহমান বলেন, “আমরা মরিচ ক্ষেত থেকে তুলে ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করি। সেতু চালু হলে এখন নিজেরাও নিয়ে যেতে পারব বা ব্যবসায়ীরা সরাসরি আমাদের কাছ থেকে পণ্য কিনতে পারবেন।”

একই উপজেলার সবজি চাষি কামাল মাতুব্বর বলেন, “মৌসুমি সবজির উৎপাদন বেশি হলে দর কমে যায়। পদ্মা সেতুর কারণে এই মধুখালীতে ঢাকাসহ আশে-পাশের ব্যসায়ীরা সহজে পণ্য কিনতে চলে আসবে। এতে আমরা ভালো মূল্য পাব।”

পদ্মা সেতু চালু হলে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ সুবিধায় ফরিদপুরের কৃষি অর্থনীতির ‘আমূল পরিবর্তন’ ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. হজরত আলী।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ইসতিয়াক আরিফ বলেন, সেতু চালু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে চাষিরা সরাসরি তাদের পণ্য জেলার বাইরে নিয়ে বিক্রি করতে পারবেন; এতে তারা লাভবান হবেন। ফলে চাষিদের ভাগ্য ‘বদলে’ যাবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক