বন্যার্তদের উদ্ধারে নেত্রকোণায়ও নামল সেনাবাহিনী

সিলেট ও সুনামগঞ্জের পর বন্যার্তদের উদ্ধারে নেত্রকোণায়ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

নেত্রকোণা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 June 2022, 07:44 AM
Updated : 19 June 2022, 02:43 PM

জেলার হাওর উপজেলা খালিয়াজুড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম রোববার বলেন, “সেনাবাহিনীর ১২৫ জনের একটি দল এসেছে। তারা মদন উপজেলা থেকে আমাদের এখানে উদ্ধার অভিযান করবেন। তারা মদন সরকারি কলেজেই থাকবেন।”

বন্যা পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ অবস্থার দিকে যাওয়ার মধ্যেই সুনামগঞ্জ ও সিলেটে সেনাবিহনী মোতায়েন করা হয়। তারা বিভিন্ন স্থানে লোকজনকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।

সুনামগঞ্জ ও সিলেটের পাশের হাওরাঞ্চলের জেলা নেত্রকোণায়ও প্রতিদিন বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে ছয়টিই এর মধ্যে প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে হাওর সংলগ্ন খালিয়াজুড়ি, কলমাকান্দা ও মোহনগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার মোট ছয়টি উপজেলার ৩৯টি ইউনিয়ন বন্যার কবলে পড়েছে। এতে অন্তত দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন এ নাগাদ বানভাসি মানুষদের জন্যে ১৮৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। ৪৭৩ হেক্টর জমির আউশ ও সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই অবস্থার মধ্যেই জেলা প্রশাসনের আহ্বানে খালিয়াজুড়ি উপজেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। 

ইউএনও আরিফুল ইসলাম বলেন, “সেনাবাহিনী চারটি রেসকিউ বোট নিয়ে এসেছে। এই বোটের মাধ্যমেই বিভিন্ন জায়গায় যারা আটকা পড়েছেন তাদের উদ্ধার করবেন।

এরই মধ্যে আমাদের এখানে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। সবচেয়ে সব সমস্যা হচ্ছে, মানুষের গবাদিপশু ও সারা বছরের জমা ধান রয়েছে বাড়িতে। এ নিয়ে মানুষ খুব বিপদে আছেন। এগুলো রেখে তারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে চাচ্ছেন না।

“এখন বড় নৌকাও পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসন একটা বড় নৌকা সংগ্রহ করেছে। এটা দিয়ে অভিযান শুরু হচ্ছে। মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা হচ্ছে।

ইউএনও আরও বলেন, উপজেলার সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা রুয়াইল, মোমিনপুর, যোগীনগর, মুজিবনগর, আদাউড়া, আদিতপুর এলাকায়। ৫০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ২০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছে।

আরও পড়ুন:

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক