নদ-নদীর পানি বেড়েছে, উত্তরেও বন্যা

ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যার মধ্যেই উত্তরের কয়েকটি জেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 June 2022, 06:59 PM
Updated : 18 June 2022, 03:32 AM

গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, ধরলা নদীর পানি বেড়েছে। এর মধ্যে কোনোটি বিপৎসীমার উপর আবার কোনোটি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বহু পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। কেউ কেউ বাড়িঘর ছেড়ে অন্য আশ্রয়ে চলে গেছে। কেউবা নৌকায় উঠেছে। 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ:

গাইবান্ধা

নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। ডুবতে শুরু করেছে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলার নদীবেষ্টিত ১৬৫ চরের নিম্নাঞ্চল। চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়ে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

তবে এ জেলায় কোনো পয়েন্টে নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখ পয়েন্টে ৫৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচে, তিস্তা সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার নিচে ও ঘাঘট নদী জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার নিচে এবং করোতোয়া বিপৎসীমার ১৮০ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হয়।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধির কারণে উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের পূর্ব খাটিয়ামারী, মধ্য খাটিয়ামারী, পশ্চিম খাটিয়ামারী, তালতলা, কাউয়াবাধা ও নিশ্চিন্তপুর, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, উত্তর উড়িয়া ও জিগাবাড়ী এবং গজারিয়া ইউনিয়নের গলনারচর ও জিয়াডাঙ্গা চর এলাকার নিম্নাঞ্চল ডুবতে শুরু করেছে। পাশাপাশি নদী ভাঙন শুরু হয়েছে।

“গত কয়েক দিনে এসব এলাকার শতাধিক পরিবার নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের শীঘ্রই ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।”

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শরীফুল আলম বলেন, উপজেলার মোল্লারচর ও কামারজানি ইউনিয়নের বেশকিছু চরের নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট ডুবতে শুরু করেছে। এ ছাড়া কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়া চরে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ-আল-মারুফ বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার ছোট ছোট চরগুলোর রাস্তাঘাট ডুবে গেছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। সদর উপজেলার বাগুড়িয়া থেকে কামারজানি পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বেশ কিছু জায়গায় বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওইসব জায়গা দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপূত্র ও ধরলা নদী বিপৎসীমা উপর প্রবাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ারচর গ্রামে দেখা গেছে, প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারের বাড়িঘরে বুক সমান পানি। দরজা-জানালাও প্রায় রুদ্ধ হয়ে গেছে। পানির স্রোতে ঘরবাড়ি ভেঙে যেতে পারে এই ভয়ে কোনো কোনো পরিবার নৌকায় অবস্থান নিয়েছে। কেউ কেউ চলে যাচ্ছে আত্মীয়-স্বজনদের উঁচু বাড়িতে। যাদের পরিচিতজন নেই তারা রয়েছে দুশ্চিন্তায়।

শুক্রবার সকাল থেকেই বাড়ছিল পানি। দুপুরে পানি ওঠায় তারা বাড়িঘর ছাড়তে শুরু করছে।

এই চরের মজিবর রহমান বলেন, “নদী ভাঙনের পর ৪ মাস আগে এইহানে উঠছি। নিম্ন জায়গা। মূহূর্তে পানিত তলায়া গেল। অহন আমাগো থাকবার জায়গা নাই। কুনহানে যে যাই দিশা পাইছি না।”

গলা সমান পানিতে দাঁড়িয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ারচর গ্রামের ময়না (৩৮) বলেন, “বাপুরে নদীর পানি আইসা বাড়িঘর তলায়া গেল। এখন কুনে যাই কী করি।”

শাশুড়ি, দুই সন্তান আর স্বামী বসে আছে নৌকায়। ময়না ঘর থেকে পানি ভেঙে জ্বালানি কাঠ ও আসবাবপত্র টেনে টেনে নৌকায় তুলে দিচ্ছিলেন। 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার ৬টি উপজেলার ২০টি ইউনিয়নে প্রায় শতাধিক গ্রামে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্য সংকট।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শুক্রবার বিকালে ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপূত্র নদের পানি ব্রিজ পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে তিস্তা নদীর পানি ব্রিজ পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, পোড়ারচর গ্রামের দেড়শ পরিবার শুক্রবার বাড়িঘর সরিয়ে অন্যত্র স্থানান্তরিত করেছে। এই এলাকার প্রায় ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারি ত্রাণ বরাদ্দ পাওয়া যায় নাই।

রৌমারী ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল জানিয়েছেন, রৌমারী উপজেলায় আবার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় এই অঞ্চলের ৩টি ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। দুর্গতদের জন্য ৬ হাজার শুকনো খাবার প্যাকেট বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুর রশীদ বলেন, হঠাৎ অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলায় প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।

জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, জেলা পর্যায়ে ২০ লাখ টাকা এবং ৪০০ মেট্রিক টন খাবার মজুদ রয়েছে।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটে তিস্তা, ধরলা, রত্নাইসহ বিভিন্ন নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

শুক্রবার সকালে তিস্তা নদীর ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপরে ও ধরলা নদী বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপরে রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে জানা গেছে, তিস্তা ও ধরলার পানি বৃদ্ধি ও জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, তাঁতীপাড়া, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজানের নিজ শেখ সুন্দর,বাঘের চর, ফকিরপাড়া ইউপির রানীগঞ্জ, সিংঙ্গীমারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না ইউপির পাটিকাপাড়া, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শোলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, রুদ্রেশ্বর, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা,পলাশী ও সদর উপজেলার ফলিমারীর চর খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করেছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার চর সিন্দুর্না গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, তিস্তার নদীর পানি গতকাল বিকাল থেকে হুহু করে বেড়ে রাতে আরও বাড়ছে। নদীর তীরবর্তী হওয়ায় কয়েকদিন থেকে রাতে ঘুম আসছে না চোখে। গত রাতে তিস্তা পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে।

এই উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাকির হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ক্রমে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। এতে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

আদিতমারীর মহিষখোচা ইউনিয়নের জুয়েল মিয়া বলেন, গত রাত থেকেই পানি বাড়ছে। এখন অনেক পরিবার পানিবন্দি। চলাচলসহ সবকিছু আটকে আছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে পানি বেড়েছে। পানিবন্দি মানুষজনের সকল ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, বন্যাসহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করতে সকল উপজেলা নিবাহী অফিসারদের নিদেশ দেওয়া হয়েছে।তালিকা হয়ে গেলে দ্রুত খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হবে।পযাপ্ত খাদ্য সামগ্রী রয়েছে।

বগুড়া

বগুড়া পয়েন্টে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে ২৫ সেন্টিমিটার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধুনট উপজেলার শিমুলবাড়ী, শহড়াবাড়ী, ভান্ডারবাড়ীতে যেখানে পানি ছিল না, এখন সেখানে অথৈই পানি। পাট কাটার সময় এখনও হয়নি; কিন্তু সেসব পাট ক্ষেত এখন পানির নিচে।

সারিয়াকান্দী উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নেরও অনেক জায়গায় একই অবস্থা দেখা গেছে।

শিমুল বাড়ীর রফিকুল ইসলাম এবং বানিয়াজানের নজরুল  ইসলাম বলেন, তাদের পাট ক্ষেত ডুবে গেছে। পাট কাটার উপযুক্ত হয়নি। তাই কাটেননি।

শ্রীপুর ও বৈদার পাড়া যমুনার চর থেকে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে গোসাইবাড়ী এসেছেন হাকিম ও তোফাজ্জল। তাদের সঙ্গে কথা হলো বানিয়াজান স্পারে।

তারা জানান, পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে অস্বাভাবিকভাবে। তাই আগেই সব নিয়ে চলে এসেছেন।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ন কবির সন্ধ্যায় জানান, শুক্রবার সকাল ৯টায় ছিল ১৬ দশমিক ৪৭ মিটার, দুপুর ১২টায় ১৬ দশমিক ৫৫ মিটার, ৩টায় ১৬ দশমিক ৬৪ মিটার ৬টায় ১৬ দশমিক ৭২ মিটার। এখন বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্জয় কুমার মহন্ত রাতে বন্যা এলাকা পরিদর্শন করে সকল বিপদে পাশে দাঁড়াবেন বলে জানালেন।

বগুড়া জেলা প্রসাশক মো. জিয়াউল হক বলেন, “অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে সকল নির্বাহী কর্মকর্তাকে খোঁজ নেওয়ার আগাম পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বন্যা মোকাবেলায় সব প্রস্তুতি রেখেছি।”

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক হাসানুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ নিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে শনিবার সকালে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধির কারণে প্রতিদিন নদীতীরের নতুন নতুন এলাকা, চরাঞ্চল ও নিচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এসব এলাকার আবাদি জমির ফসল তলিয়ে যাচ্ছে।

শেরপুর

বৃহস্পতিবার রাত থেকে ভারি বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলের পানিতে দ্বিতীয় দফায় শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশী ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদর, ধানশাইল, গৌরীপুর, হাতিবান্দা ও মালিঝিকান্দাসহ ৫ ইউনিয়নের ২০ গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার রামেরকুড়া, দিঘীর পাড়, চতল এর বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলা সদর এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ওইসব গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ভারতের বিভিন্ন পাহাড়ি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রাম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।  

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আল মাসুদ বলেন, দ্বিতীয় দফায় শুক্রবার সকাল থেকে উপজেলা সদরে ও বিভিন্ন গ্রামে পানি আসতে শুরু করেছে। বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে বন্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে। প্রথম দফায় বন্যার্তদের মাঝে জেলা প্রশাসনের বরাদ্দের ১৫ মেট্রিক টন চালের মধ্যে ইতিমধ্যে ১০ মেট্রিক টন বিতরণ করা হয়েছে বাকি চাল বিতরণ করা হবে। এছাড়া বর্তমানে যারা পানিবন্দি হয়ে রয়েছেন তাদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

ইউএনও জানান, গত ৯ জুন সকালে ঝিনাইগাতী উপজেলার সোমেশ্বরী ও মহারশির নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২০ গ্রাম আকস্মিক বন্যা কবলিত হয়। গত ৯ দিনে ওইসব এলাকার পানি নেমে গেলেও শুক্রবার সকাল থেকে আবারও ঝিনাইগাতী উপজেলার মাহারশি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন করে ২০ গ্রাম প্লাবিত হলো।

শেরপুর পানিউন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. শাহজাহান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত নালিতাবাড়ি উপজেলায় ১১৫ মিলিমিটার এবং শেরপুর সদর উপজেলায় ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তের পাহাড়ি নদীর সবগুলোতেই বিপৎসীমানার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও বৃহ্মপুত্র নদের পানি জামালপুর-শেরপুর পয়েন্টে এখনও বিপৎসীমানার প্রায় ৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক