রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে বাঁশের ঘের দিয়ে মাছ শিকার

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় পদ্মা নদীতে বাঁশের ঘের দিয়ে মাছ শিকার করছে স্থানীয় একটি প্রভাশালী গোষ্ঠী।

রাজবাড়ী প্রতিনিধিশামিম রেজা, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 June 2022, 09:09 AM
Updated : 16 June 2022, 09:34 AM

উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সী বাজার এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীঘদিন ধরে এভাবে মাছ শিকার করা হচ্ছে বলে গোয়ালন্দ উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান জানান।

তিনি আরও বলেন, “যারা মাছ শিকার করছে তাদের মূলহোতা আক্কাস আলী। এই চক্রটি সারা বছরই নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁশের ঘের দিয়ে মাছ শিকার করে। বিষয়টি উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে খুব দ্রুতই আইনগত ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আক্কাস আলী বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২০-২৫ দিন আগে হাতে কোনো কাজ ছিল না। দেখলাম, পদ্মায় পানি বাড়ছে, যে কারণে দেবগ্রাম ইউনিয়নের অন্তরমোড় এলাকায় বাঁশের ঘের দিয়ে মাছ শিকার শুরু করি। পরে নদীতে মাছ না থাকায় ঘের উঠিয়ে ফেলছি।“

“মুন্সী বাজার এলাকায় যে বাঁশের ঘের সেটা আমি দেই নাই। সেটা দিয়েছে পাবনা জেলার নৈদা হালদার ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা। অথচ নাম হচ্ছে নদীতে সব ঘের আমি দিয়েছি।“

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তীর থেকে ভেতরের দিকে প্রায় ৬০০ মিটার বাঁশের ঘের দেওয়া হয়েছে। ঘেরের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের জাল আটকে দেওয়া হয়েছে। বাঁশের ঘেরের কিছু দূর পরপর রয়েছে একটি করে মুখ। স্রোতের সঙ্গে আসা মাছ সেখানে গিয়ে জালে আটকা পড়ছে। এখানে রুই, কাতলা, পুঁটি, ট্যাংরা, বেলে মাছ ধরা পড়ে বলে জানান জেলেরা।

স্থানীয় কুদ্দুস সরদার বলেন, তীর থেকে মাঝ নদী পর্যন্ত আড়াআড়িভাবে বাঁশের ঘের দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাছ শিকার করছে পাবনা ও রাজবাড়ীর একটি প্রভাবশালী মহল। মাছ শিকারে ঘনসুতি, চায়না দুয়ারিসহ বিভিন্ন জাল ব্যবহার করা হচ্ছে।

এসব জালে ছোট-বড় সব মাছ আটকা পড়ছে। মাছের মরণফাঁদ নামে পরিচিত এসব জালের কারণে মা মাছ মারা যাচ্ছে, মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কুদ্দুস সরকার।

স্থানীয় জেলে সোনাই হালদার বলেন, “নদীতে মাছ আগের থেকে খুব কম পাওয়া যায় এখন। সারারাত জাল ফেলে কিছু মাছ পাই আমরা। তা দিয়ে কোনোমতে বেঁচে আছি।

“কয়েক সপ্তাহ ধরে মুন্সী বাজার এলাকায় বেশ কয়েকজন তীর থেকে মাঝ নদী পর্যন্ত বাঁশের ঘের দিয়ে মাছ শিকার করছে। এতে করে এই এলাকায় আমাদের মতো সাধারণ জেলেকে শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে।”

জেলে সোনাই আরও অভিযোগ করেন, “ঘের দেওয়া এলাকায় আমাদের জাল ফেলতেই দেওয়া হয় না। এ ছাড়া এখান দিয়ে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রাতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।

কারা ঘের দিয়েছে জানতে চাইলে এই জেলে ভয়ে ভয়ে বলেন, “তাদের নাম বলতে পারব না। কারণ, তারা খুব প্রভাবশালী, পয়সাওয়ালা। আমার ক্ষতিও করতে পারে।“

এ ব্যাপারে জানতে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বৃহস্পতিবার বিকালে বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা আছে। খুব দ্রুতই এ ব্যাপারে অভিযান চালানো হবে এবং আইনগত ব্যস্থা নেওয়া হবে “

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক