অশীতিপর মা গোয়ালঘরে, আদালতে তিনিই ছেলের জামিন নিলেন

মানিকগঞ্জে মাকে গোয়াল ঘরে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই ছেলে ও এক পুত্রবধূকে সেই অশীতিপর বৃদ্ধা মা-ই ছাড়িয়ে এনেছেন।  

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিমাহিদুল ইসলাম মাহি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 June 2022, 06:11 PM
Updated : 14 June 2022, 06:11 PM

আয়েশা বেগম (৮৫) সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নের মধ্য চারিগ্রামের মৃত হযরত আলী ওরফে আজারীর স্ত্রী। তিনি তিন সন্তানের জননী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আয়েশা বেগমের ছেলেরা তাকে প্রায় ৬ মাস ধরে গোয়াল ঘরে রেখে দিয়েছেন। তারা তার ভরণ-পোষণও করতেন না। ওই সময় প্রতিবেশীরা অসহায় এই বৃদ্ধাকে খাবার দিলে পুত্রবধূরা তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন।

বিষয়টি জেনে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান তাৎক্ষণিক ব‍্যবস্থা নিতে সিংগাইর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। এরপর এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে দুই ছেলে ও এক পুত্রবধূকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। 

সিংগাইর থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম মোল্যা জানান, এলাকাবাসীর অনুরোধে ওই মা-ই আদালতে ছেলে ও পুত্রবধূদরে জন্য জামিন আবেদন করেন এবং আদালত তাদের জামিন দেয়।  

ঘটনার বিবরণে ওসি জানান, সন্তানদের অবহেলার শিকার মা আয়েশা বেগমকে পুলিশ গত শনিবার (১১ জুন) রাত ১০টার দিকে ছেলে মোস্তফা কামালের গোয়াল ঘর থেকে উদ্ধা করে। এ সময় দুই ছেলে ও এক ছেলের স্ত্রীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

“পরদিন (১২ জুন) বৃদ্ধার লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চার জনের বিরুদ্ধে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনে মামলা করা হয়।”

ওই মামলায় ছেলে মো. কলম (৫৫) ও মো. মোস্তফা কামাল (৪৫) এবং প্রবাসী অপর ছেলে মো. চানু মিয়ার স্ত্রী মর্জিনাকে (৩২) গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হলে তাদের মা জামিনের আবেদন করেন।

জামিন শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, মানিকগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে আয়েশা বেগম উপস্থিত থেকে ছেলে ও বৌয়ের জন্য জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে। 

চারিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাজেদুল আলম স্বাধীন বলেন, বৃদ্ধা আয়েশা বেগমকে দেখা বা ভরণ-পোষণ করার মতো আর কেউ নেই। তাই এলাকার মুরুব্বিদের সঙ্গে আলোচনা করে ছেলে কলম মিয়া, মোস্তফা কামাল ও পুত্রবধূ মর্জিনা অক্তারের জামিন করানো হয়েছে।

“ছেলে ও ছেলেদের স্ত্রীরা ওই বৃদ্ধার সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করবে না বলে মুরুব্বিদের কাছে ওয়াদা করেছেন। ঠিকমতো সেবাযত্ন ও দেখাশোনা করবেন বলেও প্রতিশ্রুত দিয়েছেন।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক