নাব্য সঙ্কট, জেটি স্বল্পতায় বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দর

নাব্য সঙ্কট, জেটিঘাট ও শেড স্বল্পতাসহ নানা সমস্যায় ভুগছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর। এতে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় পণ্য পরিবহণে ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 June 2022, 10:03 AM
Updated : 3 June 2022, 10:03 AM

বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠার ৩৯ বছর পরও বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়ে গেছে। বন্দরে নেই পর্যাপ্ত জেটি, গুদাম, শেড, ট্রাক স্ট্যান্ড, উন্নত রাস্তাঘাট। বিশ্রামাগার ও খাবারের ক্যান্টিন না থাকায় শ্রমিকদের ভরসা গাছতলা। 

জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করে রাখতে হয় খোলা আকাশের নিচে। এতে রোদে বৃষ্টিতে পণ্যের গুণগতমান নষ্ট হয়। এ অবস্থায় বন্দরে আশানুরূপ জাহাজও আসে না।

বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দরের লেবার এজেন্ট আবুল হোসেন বলেন, ১৯৮৩ সালে বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দর প্রতিষ্ঠা হয়। এখান থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় জ্বালানী তেল, রাসায়নিক সার, কয়লা, পাথর, রড, সিমেন্ট, ধান, চাল ও অন্যান্য মালামাল সরবরাহ হয়ে থাকে।

গত ৩৯ বছরে পাটুরিয়া-আরিচা থেকে বাঘাবাড়ি পর্যন্ত মূল নদীপথ একবারও ড্রেজিং করা হয়নি। ফলে শুষ্ক মৌসুমে এ পথে আসা সার ও জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য পণ্য বহনকারী জাহাজ যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থানে জেগে ওঠা চড়ে আটকা পড়ে।

শুস্ক মৌসুমে পানির গভীরতা ৬/৭ ফুটে নেমে আসে। ফলে ওই সময়ে ৬/৭ হাজার মেট্রিকটনের বেশি পণ্যবাহী জাহাজ এ বন্দরে আসতে পারে না।

তিনি বলেন, “এ বন্দরে অন্তত ছয়টি জেটির প্রয়োজন থাকলেও আছে মাত্র তিনটি। এ কারণে পণ্য খালাসে দেরি হয়। লেবার খরচও বেশি লাগে।

“বিআইডব্লিউটিএ বন্দর থেকে বর্তমানে বছরে প্রায় ১৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। এটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নিত হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে ৩ গুণ।”

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দরের সমন্বয়ক আব্দুল ওয়াহাব মিয়া বলেন, এ বন্দরটি প্রথম শ্রেণির না হওয়ায় এখানে বেশি মালবোঝাই বড় বড় জাহাজ আসতে পারে না। জাহাজ শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় তারাও এ বন্দরে আসতে চায় না।

বাঘাবাড়ি বন্দরের শ্রমিক সোবহান আলী বলেন, এ বন্দরে লেবারদের জন্য বিশ্রামাগার ও ক্যান্টিন না থাকায় আমাদের খুবই কষ্ট হয়। কাজ শেষে আমরা কখনো বিশ্রাম নিতে পারি না, গাছ তলায় বসে সময় কাটাতে হয়।

নজরুল ইসলাম নামের আরেক শ্রমিক বলেন, “ক্যান্টিনের অভাবে খোলা স্থানে বসে খাবার খেতে হয়।”

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক ও বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দর কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “বন্দরের উন্নয়নে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এটি পাশ হলে বন্দরের বর্তমান সমস্যাগুলো দূর হবে।

“বন্দরটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নিত হোক তা, আমরাও চাই। এটি হলে এখানে পণ্য খালাস ও সংরক্ষণের সুব্যবস্থা হবে। মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় পণ্য সরবরাহ আরও সহজ হবে।”

সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাংসদ মেরিনা জাহান কবিতা বলেন, বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর প্রথম শ্রেণিতে উন্নিত করার ক্ষেত্রে নদীর নাব্যতা একটি বড় বাধা। তবে নাব্যতা বাড়াতে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। দ্রুতই এ  বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক