কুমিল্লা সিটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ইমরানের প্রার্থিতা বৈধ

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র মেয়র পদপ্রার্থী মাসুদ পারভেজ খান ইমরানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।   

কুমিল্লা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 May 2022, 10:34 AM
Updated : 19 May 2022, 11:35 AM

বৃহস্পতিবার সকালে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে পাঁচ মেয়র পদপ্রার্থীকে ভোটের লড়াইয়ের জন্য বৈধ ঘোষণা করলে ‘কাগজপত্রের স্বল্পতায়’ ইমরানের প্রার্থিতা সাময়িকভাবে আটকে রেখেছিল নির্বাচন কমিশন।

বিকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী বলেন, “একটি মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার কাগজপত্র না থাকায় মাসুদ পারভেজ খান ইমরানের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ৩টা পর্যন্ত স্থগিত ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কাগজপত্র জমা দেওয়ায় বেলা সোয়া ৩টায় ইমরানের মনোনয়নও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।”

এর মাধ্যমে কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে সব মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হয়েছে।

মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর মাসুদ পারভেজ খান ইমরান বলেন, “একটি মামলা থেকে আমার অব্যাহতি পাওয়ার কাগজ জমা দিতে দেরি হওয়ায় সকালে সাময়িক সময়ের জন্য মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই স্থগিত করা হয়েছিল। সেটি জমা দেওয়ায় পর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।”

“আমি এখন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

সকাল সাড়ে ৯টা থেকে নগরীর মোগলটুলীতে অবস্থিত জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রার্থীদের তথ্য যাচাই-বাছাই শুরু হয়। এটি চলবে বিকাল ৫টা পর‌্যন্ত।  

১৭ মে শেষ দিনে মোট ১৬৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ছয়জন মেয়র পদপ্রার্থী, ১২০ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং ৩৮ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে প্রার্থী অথবা তার প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারী কিংবা তার প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকতে হবে।

শাহেদুন্নবী চৌধুরী বলেন, মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা মনোনয়নের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে নির্ধারিত সময়ে আবেদন করতে পারবেন। সময়ের বাইরে কেউ আপিল করলে লাভ হবে না।

সিটি নির্বাচনে মেয়র পদের প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত আরফানুল হক রিফাত, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ পারভেজ খান ইমরান, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সদ্য সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু (বিএনপি), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার (বিএনপি) ও কামরুল আহসান বাবুল এবং ইসলামী আন্দোলনের রাশেদুল ইসলাম।

মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে মনিরুল ইসলাম সাক্কু ও নিজাম উদ্দিন কায়সার একই দলের। সাক্কু কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নিজাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি। এরই মধ্যে তারা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। 

এ ছাড়া কামরুল আহসান কুমিল্লা নাগরিক ফোরামে সভাপতি। তার রয়েছে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা।

ইমরান প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আফজল খানের ছেলে। তিনি কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য। বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজল খান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।

২০১২ সালে সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন আফজল  খান। ২০১৭ সালের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ছিলেন তার মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা সীমা। দুজনই বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কুর কাছে পরাজিত হন। সীমা এখন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য। এবারের নির্বাচনে খান পরিবার থেকে প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ।

১৫ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত। তিনি কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের অনুগত বলে সবার কাছে পরিচিত।

কুমিল্লার রাজনীতিতে আফজল খানের সঙ্গে বাহারের বিরোধ ছিল ব্যাপক আলোচিত বিষয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ইমরানের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নির্বাচনী পালে বাড়তি হাওয়া দেয়।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কিছু তথ্য:

• তফসিল ঘোষণা: ২৫ এপ্রিল

• মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ: ১৭ মে

• মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই: ১৯ মে

• মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ: ২৬ মে

• প্রতীক বরাদ্দ: ২৭ মে

• ভোট গ্রহণ: ১৫ জুন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ১০৫ কেন্দ্রের ৬৪০টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

• নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার এক লাখ ১৭ হাজার ৯২ জন ও পুরুষ ভোটার এক লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন।

• আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন দুইজন।

আরও পড়ুন: