বরগুনা পৌঁছে যাত্রী না নিয়েই ঢাকায় ফিরল ৪ লঞ্চ

ঢাকা থেকে বরগুনায় পৌঁছানোর পর চারটি লঞ্চ পরের ট্রিপের যাত্রীদের না নিয়েই আবার ঢাকায় ফিরে গেছে।

বরগুনা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 April 2022, 01:05 PM
Updated : 29 April 2022, 01:05 PM

শুক্রবার ভোরে লঞ্চগুলো যাত্রী নিয়ে বরগুনা ও আমতলী উপজেলায় পৌঁছায়, বিকালে সেখান থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল।

এদিকে যাত্রীদের ফেলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। ঈদযাত্রার মধ্যে ঢাকায় ফিরতে আগেই তারা এসব লঞ্চের টিকিট বুকিং দিয়েছিলেন।

লঞ্চগুলো হলো- ঢাকা-বরগুনাগামী এন কে শিপিংয়ের এমভি রয়েল ক্রুজ, ঢাকা-আমতলীগামী সুন্দরবন-৭ ও শতাব্দী লঞ্চ। এন কে শিপিংয়ের আরেকটি লঞ্চের নাম জানা যায়নি।

কী কারণে এই ঘাটের যাত্রীদের ফেলে যাওয়া হয়েছে তাও কাউকে জানানো হয়নি।

রয়েল ক্রুজের কেবিন বুক করেছিলেন বরগুনার সদর রোডের ব‍্যবসায়ী জাকির হোসেন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রয়েল ক্রুজ লঞ্চে আমাদের কেবিন বুক করা ছিল। তারা আমাদের না জানিয়ে সকালে ছেড়ে গেছে। আমাদের জরুরি ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল।”

আমতলীর যাত্রী আবদুস সালাম বলেন, “আমাদের না নিয়ে এমনকি না জানিয়ে লঞ্চ চলে গেছে। বুকিংয়ের টাকাও ফেরত পাইনি।”

আমতলী ঘাটের দায়িত্বে থাকা শহীদ মিয়া বলেন, “দশ/বিশ জন যাত্রীর ভোগান্তির জন‍্য মালিকপক্ষ বেশি যাত্রী নষ্ট করবে না; তাই লঞ্চ ছেড়ে গেছে।”

বরগুনা লঞ্চ ঘাটের সিদ্দিক মিয়া বলেন, “অনেক যাত্রী ঢাকা যাওয়ার জন‍্য ঘাটে এসেছে। তারা জানে না লঞ্চ ছেড়ে গেছে। এখন ঈদের সময়, যাত্রীরা কীভাবে যাবে?”

বিষয়টি নিয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, এভাবে যাত্রীদের ফেলে লঞ্চ ছেড়ে যাওয়টা ঠিক হয়নি।

“লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানছি, কেন তারা এভাবে বুকিং দেওয়া যাত্রীদের রেখে লঞ্চ ছেড়ে দিলেন।”

লঞ্চ মালিকরা তাদের ‘ইচ্ছামত’ এসব করছেন মন্তব্য করে বরগুনা নৌঘাটের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদ বলেন, “এটি খুবই অন্যায় হয়েছে। যেখানে ঢাকা থেকে অতিরিক্ত লঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেখানে অধিক লাভের আশায় এমন আচরণ লঞ্চ মালিকরা কেন করবেন?”

শুক্রবার রাত ১০টায় বরগুনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে একটি লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার কথার রয়েছে বলে জানান মামুনুর।

এ বিষয়ে এমভি রয়েল ক্রুজের মালিক মাসুম খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিআইডব্লিউটিএ-এর নির্দেশনা রয়েছে প্রতিটি লঞ্চকে ঢাকা থেকে দুইটি ট্রিপ দিতে হবে। সেই নির্দেশনা মানতে তাড়াহুড়ো করে লঞ্চ ঢাকা ফিরতে হয়েছে।

“বরগুনা থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের নেওয়ার জন্য আমাদের আরেকটি লঞ্চ আসছে, যেটি সন্ধ্যার পর এই যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা রওয়ানা দেবে। বরগুনা থেকে তাদের যাত্রা করার কথা ছিল বিকাল ৪টায়। এখন একটু দেরিতে সন্ধ্যার পর ৭টা/৮টার দিকে রওয়ানা হতে পারবেন।”

যেসব যাত্রী কেবিন বুকিং দিয়েছেন তাদের ফোন করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান মাসুম খান।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক