কলাবাগানের ঘটনা প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ কতটা স্বৈরাচার: ফখরুল

রাজধানীর কলাবাগানের তেঁতুল তলা মাঠ রক্ষার আন্দোলনকারী মা-ছেলেকে পুলিশের আটকে রাখার ঘটনায় সরকারের ‘স্বৈরাচারী মনোভাব’ বেরিয়ে এসেছে বলে সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 April 2022, 09:37 AM
Updated : 26 April 2022, 09:37 AM

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

তেঁতুল তলা মাঠের বরাদ্দ নিয়ে কলাবাগান থানার নতুন ভবন করা হচ্ছে। সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচীর সদস্য সৈয়দা রত্না তেঁতুল তলা মাঠ রক্ষার দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। রোববার বেলা ১১টার দিকে মাঠের সামনে থেকে রত্না ও তার তরুণ ছেলে প্রিয়াংশুকে ধরে কলাবাগান থানা নিয়ে যায় পুলিশ। ১৩ ঘণ্টা পর তারা ছাড়া পান।

মির্জা ফখরুল ঘটনাটির উল্লেখ করে বলেন, “কলাবাগানের একটা খেলার জায়গা রক্ষা করতে গিয়েছেন একজন নারী ও তার কিশোর ছেলে। সেখানে থানা ভবন করার প্রতিবাদ করতে গেলে তাদেরকে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনাগুলোয় প্রমাণ হয় যে আওয়ামী লীগ কতটা স্বৈরাচারী এবং তারা কতটা পাওয়ারফুল।”

সাম্প্রতিক সময়ে তথাকথিত ক্রসফায়ারে দুজনের নিহতের ঘটনা উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, “এটাতেই প্রমাণ হয় যে, কোনো প্রতিষ্ঠান বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকারের প্রশ্রয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। মানবাধিকার হরণ করা হচ্ছে এবং আইনের শাসন বলে দেশে কিছু নেই।”

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আওয়ামী লীগ যে স্বৈরতন্ত্রের দলে পরিণত হয়েছে তার প্রমাণ আমরা পাচ্ছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থেকে। একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের ওপরে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। তার প্রমাণ হচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে, বিশেষ করে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো এসেছে। আর এখন এটা নতুন করে প্রমাণ করার দরকার নেই আন্তর্জাতিকভাবে। এটা আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ হয়ে গেছে বাংলাদেশের সরকার স্বৈরাচারী।”

বাংলাদেশের মানুষ নিজেরাই টের পাচ্ছেন তারা সম্পূর্ণ ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার মধ্যে আছে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি আরও বলেন, “এখন নতুন করে রাষ্ট্রদূতদের ডেকে কথা বলার কিছু নেই। আমরা কখনই কোনো রাষ্ট্রদূতকে ডাকি না। রাষ্ট্রদূতরা নিয়মিতভাবে আমাদের অফিসে এসে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। সেখানে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার কিছু নেই। পত্র-পত্রিকায় যেসব সংবাদগুলো বের হয় এতেই বোঝা যায় বাংলাদেশ এখন কী অবস্থায় চলছে।”

“আওয়ামী লীগের অনির্বাচিত সরকার; তারা পুরোপুরিভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে আমলাদের ওপরে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরে। কারণ আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মূলত সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্রের ওপর আওয়ামী লীগ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। যার ফলে যখন আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের কথা বলে তখন এটা আমাদের কাছে হাস্যকর মনে হয় এবং জনগণের কাছেও হাস্যকর মনে হয়।”

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির মহাসচিব বলেন, “আমরা বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাচ্ছি না। আপনারা দেখেছেন, আমরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণ করিনি। আর সিটি করপোরেশন বা অন্য নির্বাচনই বলেন, এসব অংশগ্রহণ করার কোনো প্রশ্নই আসতে পারে না। আমাদের একটাই কথা হাসিনা থাকা অবস্থায় আমরা কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না।”

এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিন উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক