দৌলতদিয়া ঘাটে বাস-ট্রাকের ৬ কিলোমিটার লাইন

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের সারি রয়েছে; এতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হওয়ায় রোদ-গরমে পরিবহন যাত্রী ও চালকদের চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

রাজবাড়ী প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 April 2022, 10:19 AM
Updated : 25 April 2022, 10:19 AM

সোমবার দুপুরে ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ছয় কিলোমিটার এলাকা পর‌্যন্ত বাস ও ট্রাকের সারি দেখা গেছে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে পারের অপেক্ষায় থাকা চালক ও যাত্রীরা ফেরি সঙ্কটের অভিযোগ করলে বিআইডব্লিউটিসি বলছে, পণ্যবাহী ট্রাকের চাপেই যানজটের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

যাত্রী ও চালকরা জানান, প্রতিটা যানবাহনকে ফেরিতে উঠার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রচণ্ড  গরমে তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-পথে দুটি ফেরি যোগ করার কথা থাকলেও এখনও তা আসেনি। পাশাপাশি ঈদকে কেন্দ্র করে দৌলতদিয়ার ২ নম্বর ফেরি ঘাটটি সচল করলেও সেখানে ফেরি ভিড়তে দেখা যায়নি। এখানে বর্তমানে পাঁচটি ঘাট সচল আছে।

গোল্ডেন লাইনের যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, “সকাল ৬টায় দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে আটকা পড়ি। একটু একটু করে এগোতে এগোতে সাড়ে ১১টায় ঘাট থেকে দুই কিলোমিটার দূরে এসেছি। এখান থেকে ফেরিতে উঠতে আরও দুই ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষায় থাকতে হবে।”

আরেকটি বাসের যাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “সকাল ৬টা থেকে বসে আছি। প্রচণ্ড রোদ আর গরমে বসে থেকে খুবই কষ্ট হচ্ছে। বাচ্চাটা গরমে ছটফট করছে। সেই সঙ্গে ঘাট এলাকায় নেই পর্যাপ্ত শৌচাগার ব্যবস্থা।“

সাতক্ষীরা থেকে আসা ট্রাকচালক মহিউদ্দিন বলেন, “রোববার সন্ধ্যায় ঘাটে এসেছি। এখন সোমবার দুপুর ১২টা বাজতাছে। এখনও ফেরিতে উঠতে পারি নাই। খুবই কষ্ট হচ্ছে সারারাত ঘুমাতে পারি নাই। কখন ফেরিতে উঠবো সেটাও জানি না।”

দৌলতদিয়া ঘাটের একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট বলেন, “ফেরি সংকটের কারণে এই পরিস্থিতি হচ্ছে। ফেরি বৃদ্ধি না হলে যানজট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। কোনো যানবাহন যেন সিরিয়াল ওভারটেক করে ফেরিতে উঠতে না পারে সেদিকে আমরা নজরদারি রাখছি।”

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক প্রফুল্ল চৌহান বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন স্বাভাবিক পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখা হবে। এ কারণে এই মুহূর্তে ট্রাকের চাপ রয়েছে। যে কারণে ঘাট এলাকায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

“এই নৌ-পথে ছোট-বড় মিলে ১৯টি ফেরির মধ্যে এখন ১৬টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। তিনটি ফেরির যান্ত্রিক ক্রুটি থাকার কারণে ভাসমান করাখানায় মেরামতে পাঠানো হয়েছে। পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার বন্ধ হলেই চাপ কমে আসবে।”
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক