ঈদযাত্রা: এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত রাস্তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কালিহাতীর এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত দুই লেনের সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘ যানজট তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবহন চালক ও যাত্রীরা।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 April 2022, 02:33 PM
Updated : 23 April 2022, 02:55 PM

প্রতিবছরই এই রাস্তায় ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের চাপে তৈরি হওয়া দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।

মহামারীর প্রকোপ কম থাকায় দুই বছর পর মানুষ এবার পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার সুযোগ পাচ্ছে। এই বাস্তবতাকে ধরে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারে যানবাহনের চাপ বেশি থাকবে বলে মনে করেন টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শক এশরাজুল হক।

“ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব সংযোগ পর্যন্ত মহাসড়ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মহাসড়ক ধরে গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রবেশ পথ এলেঙ্গা। চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার অংশে ছয় লেন নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে শতকরা ৯৯ ভাগ। ছয় লেনের কারণে এই সড়কে যানজটের সুযোগ কম।

এ ছাড়া ২৬ রোজার আগেই মির্জাপুরের গোড়াই বাসস্ট্যান্ড এলাকার 'গোড়াই' উড়ালসড়ক যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সাসেক প্রকল্প-২ ব্যবস্থাপক আবুল বরকত মো. খুরশীদ আলম বলেন, " এতে করে মহাসড়কের এ অংশে যানবাহনের স্বভাবিক গতিতে কোনো বাঁধাই থাকছে না।"

আর এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশ এখনও দুই লেনেই রয়েছে, এখান থেকেই মূলত গাড়ি আটকে যায়।

এই মহাসড়কে নিয়মিত যাতায়াত করা যাত্রী মো. ফখরুল ইসলাম জানান, ছয় লেনের কারণে ঢাকা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত পোঁছাতে বেশি সময় লাগে না, ভোগান্তিও নেই। কিন্তু এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুতে উঠতে সড়কটি মাত্র দুই লেনের। এবং বঙ্গবন্ধু সেতুটিও দুই লেনের।

"ফলে ছয় লেন ধরে চলা যানবাহনের বিরাট একটি অংশ আটকে যায় এলেঙ্গার দুই লেনের মুখে। এ ছাড়া সেতুতেও টোল দিতে গিয়েও প্রায় সময় যানজট লেগে যায় বলেও অভিযোগ এই যাত্রীর।"

এই দুই লেনের সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শক এশরাজুল হকও। তিনি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কাজ শেষ হওয়ায় এই রাস্তায় চলাচলকারী গাড়ির গতি বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু ছয় লেনের সব গাড়িকে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত যেতে দুই লেনই ভরসা।

"এই দুই লেনের সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১৮টি ব্রিজ আছে। এই ব্রিজগুলোতে দুইটির বেশি গাড়ি পাশাপাশি ক্রসিং করতে পারে না। এ ছাড়া সড়ক ও সেতু কোনোটিতেই নেই কোনো ডিভাইডার। যে কারণে শুধু ঈদ নয়, প্রায় সারা বছরই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।"

সরজমিনে দেখা গেছে, এলেঙ্গার এই সাড়ে ১৩ কিলোমিটারের যানজট বেড়ে যায় আরও দুটি কারণে। এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে উত্তর দিকে ৬০০ মিটারের মধ্যে ময়মনসিংহ-জামালপুর লিংক রোড মহাসড়ক। এবং এর অদূরে আরও উত্তর দিকে এলেঙ্গা-ভূয়াপুর লিংক রোড। এই দুই লিংক রোডে সবসময়েই ঢাকা এবং উত্তরাঞ্চলগামী গাড়ির জটলা তৈরি হয়ে থাকে।

মহাসড়কের এই অংশে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে জেলা পুলিশ সুপারের র্নিদেশে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম।

এ ছাড়া গাড়ি বিকলসহ দুর্ঘটনা ঘটলেও দুর্ভোগ দ্বিগুণ পোহাতে হবে বলে মনে করেন বগুড়া থেকে আসা মালবাহী ট্রাকের চালক শাহজাহান।

বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায়ে ধীরগতির ফলে তৈরি হওয়া যানজট এড়াতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন ভূঞাপুর সাইট অফিসের এক কর্মকর্তা।

এই অফিসে চলতি দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান মাসুদ বাপ্পি জানান, সেতুর টোল প্লাজার সংখ্যা নয়টি, এগুলোর মধ্যে সাতটি দিয়ে মাঝারি ও ভারি যান প্রবেশ করে, বাকি দুটো দিয়ে কেবল মোটরসাইকেল যাবে।

মাসুদ বাপ্পি বলেন, "এতে এ বছর ভারি গাড়ির চাপ খুব একটা থাকবে না। তাছাড়া ঈদের মধ্যে গাড়ির চাপ অনেক বৃদ্ধি পায়। তবে আমাদের প্রস্তুতি আছে। আশা করি, নির্বিঘ্নে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা সফল করতে পারব।"

এই নির্বাহী প্রকৌশলী আরও জানান, স্বাভাবিক সময়ে সেতু দিয়ে দৈনিক অন্তত ১২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। যে কোনো উৎসবের আগে ও পরে যানবাহন পারাপার কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

তবে টাঙ্গাইলের চেয়ে 'সিরাজগঞ্জ মহাসড়ক'কে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শক এশরাজুল হক।

এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, সেতুর পশ্চিম পাড়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর থেকে উত্তরের জেলাগুলোর পথে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে না গেলে টাঙ্গাইলের সীমানায় গাড়িগুলো জমতে থাকবে, ধীরে ধীরে যা দীর্ঘ সারির যানজটে পৌঁছে যাবে।

"তবে এই যানজটে আটকা পড়ে যাতে ঈদে ঘরমুখী মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে না হয় সে ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে আমরা সড়কে দায়িত্ব পালন করে যাব", যোগ করেন ট্রাফিক কর্মকর্তা।

অন্যদিকে ঈদের আগেই সেতুর পশ্চিম পাড় থেকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকায় কমপক্ষে নয়টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন টাঙ্গাইল থেকে উত্তরাঞ্চলগামী মাইক্রোবাসের চালক আব্দুল হাই বাবু।

"এই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো যান চলাচলের উপযোগী করতে না পারলে উত্তরের পথে চলাচল করা যানবাহন যে কোনো সময় স্থবির হয়ে যেতে পারে।"

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহম্মদ কায়সার যাত্রী ভোগান্তি কমাতে পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, মহাসড়কের টাঙ্গাইলের ৬৫ কিলোমিটার অংশ নিয়ে জেলা পুলিশের আগাম প্রস্তুতি রয়েছে। ২০০ এপিবিএন সদস্যসহ আট শতাধিক পুলিশ মহাসড়কে কাজ করবে।

এ ছাড়া এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কে যাত্রী সুবিধা বিবেচনায় এবারই প্রথম ১০টি অস্থায়ী টয়লেট, ইফতার ও সেহরির ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলেও পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন:

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক