ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তলিয়েছে ‘২০০ হেক্টর’ জমি, ৩০ শতাংশ ধান কর্তন

উজান থেকে আসা ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় নদ-নদীর পানি বেড়ে ২০০ হেক্টরের মতো জমির ধান তলিয়ে গেছে; ফলে কৃষককে আধাপাকা ধান কাটতে হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 April 2022, 07:01 AM
Updated : 20 April 2022, 08:09 AM

টানা তিন দিন ধরে পানি বাড়ায় সদর, ভলাকূট, বুড়িশ্বর, গোয়ালনগর, পূর্বভাগসহ ছয়টি ইউনিয়নের হাওর এলাকার এসব জমি তলিয়ে গেছে।  

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক রবিউল হক মজুমদার বলেন, “উজানের পানি নেমে আসার কারণে নাসিরনগরের তিতাস, বলভদ্র ও লঙঘর নদী সংলগ্ন প্রায় ২০০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

“তবে হাওরেরে উজানের জমি এখনও সুরক্ষিত আছে। পানি আরও বাড়লে হাওরের মারাত্মক ক্ষতি হবে।”

হাওর এলাকায় প্রায় ৩২ হাজার দুই হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত নয় হাজার ৩১০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়ে গেছে; যা মোট জমির শতকরা ২৯ ভাগ বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

আট থেকে ১০ দিন সময় পেলে সব জমির ধান কাটা হয়ে যাবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।

তিন দিনে নদ-নদীতে দুই ফুটের বেশি পানি বেড়েছে উল্লেখ করে ভলাকূট গ্রামের কৃষক রহিছ মিয়া বলেন, “কয়েক দিন আগে শিলা বৃষ্টিতে ধানের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এবার সুনামগঞ্জের পানি এসে সব ধান ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।“

বুধবার ভোর থেকে জেলায় ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে বাকি ধান নিয়েও কৃষকের দুঃশ্চিন্তা হচ্ছে।

উপজেলার মেদির হাওর পাড়ের কৃষক আলী নেওয়াজ বলেন, এই হাওরে তার পাঁচ কানি জমি আছে। প্রায় সব জমিই পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি মঙ্গলবার কিছু আধাপাকা ধান কেটে বাড়িতে এনেছেন।

“বড় ক্ষতি হইছে, লোকসান গুনতে হচ্ছে।“

চারজন কৃষক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, তারা অনেক ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছিলেন। এখন ঋণ শোধ করা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন।

নাসিরনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, উজানের পানিতে নদী ও বিল সংলগ্ন জমি তলিয়েছে। ২০০ হেক্টর জমি হয়তো তলিয়ে যায়নি, কিছু কম হতে পারে।

“পানিতে তলিয়ে যাওয়ার জমির পরিমাণ নির্ধারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরিতে কাজ চলছে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বুধবার বলেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার নদ-নদীর পানি বেড়েছে এক দশমিক ৮৩ মিটার। বুধবার পাঁচ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। তবে ভোর থেকে যেহেতু বৃষ্টি হয়েছে, তাই আগামীকাল আবার বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন:

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক