লোকসান কাটাতে 'হিমাগার' চান রাজবাড়ীর পেঁয়াজ চাষিরা

হিমাগার নেই, তাই দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ সুবিধাও নেই, এ পরিস্থিতিতে বছরের পর বছর ধরে লোকসান গুণে যেতে হচ্ছে রাজবাড়ীর পেঁয়াজ চাষিদের। এজন্য সরকারের কাছে একটি 'কোল্ড স্টোরেজ' বা 'হিমাগারের' দাবি জানিয়েছেন তারা।

রাজবাড়ী প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 April 2022, 04:51 AM
Updated : 10 April 2022, 04:51 AM

সময়মতো সংরক্ষণ করা সম্ভব হলে ফসল ওঠার ছয় থেকে সাত মাস পর কিছু লাভ রেখে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারতেন বলে চাষিদের ভাষ্য।

বীজ বিপণন অধিদপ্তর থেকে রাজবাড়ীতে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনার রয়েছে জানিয়ে জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম সহীদ নূর আকবর বলেন, 'কোল্ড স্টোরেজে' পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারলে লাভের মুখ দেখত চাষিরা।

রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলাতেই কম-বেশি পেঁয়াজের আবাদ হয়ে থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয় পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দিতে। ফলন ভালো হওয়ায় প্রতিবছরই আবাদ বাড়ছে।

হিমাগার না থাকায় বছরের পর বছর ধরে লোকসান গুণতে হচ্ছে রাজবাড়ীর পেঁয়াজ চাষীদের

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোল্ড স্টোরেজ না থাকায়, তারা পেঁয়াজ সংরক্ষণের কাজটি সারেন দেশীয় পদ্ধতিতে। কিন্তু সঠিক তাপমাত্রার অভাবে পচনশীল এই পণ্যটিতে মাত্র দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই পচন ধরে যায় এবং অনেক সময় পেঁয়াজে গাছও গজিয়ে যায়। পরিণাম হল উৎপাদন মৌসুমেই চাষিদের পেঁয়াজ বিক্রি করে গুণতে হয় লোকসান।

সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলের আলু চাষিরা 'কোল্ড স্টোরেজে' আলু রেখে পরে বিক্রি করেন।

সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আবাদ হয় রাজবাড়ীর পাংশা-কালুখালী-বালিয়াকান্দিতে

"আমাদের এই অঞ্চলে যদি সরকার কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করতো তাহলে আমরাও পেঁয়াজ রেখে ছয় থেকে সাত মাস পর বেশি দামে বিক্রি করতে পারতাম। আর এখন আমাদের পেঁয়াজ রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। ঘরে রাখলে দুই মাস পর পচে যায় আর নয়তো চারা গজিয়ে যায়। যে কারণে লোকসানের ভয়ে কম দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।"

আবার কয়েক মাস ধরে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করার মতো ঘরও নেই অনেক চাষির।

সঠিক তাপমাত্রার অভাবে পচনশীল এই পণ্যটিতে মাত্র দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই পচন ধরে যায়

দৌলতদিয়ার কৃষক সামাদ খান বলেন, "পেঁয়াজ যে দুই মাস রাখব আমাদের ঘরও নাই। দুই মাস ঘরে রাখতে পারলে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় মণপ্রতি পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারতাম। এতে আমরা লাভবান হতাম। কিন্তু সেই ব্যবস্থা আমাদের নেই। সরকার যদি একটা কোল্ড স্টোরেজ করে দিত তাহলে আমরা সেখানে রাখতে পারতাম।"

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার ফলেও লোকসন হচ্ছে বলে মনে করেন অনেকে।

চাষিরা দেশীয় পদ্ধতিতে ঘরেই পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেন

পাংশার কৃষক মো. ফারুক মিয়া বলেন, "পেঁয়াজের দাম কিভাবে পাব আমরা? যখন ঘরে তুলব তখনই ভারতের পেঁয়াজ আসে এদেশে।এতে করে দুই হাজার টাকার পেঁয়াজের দাম চলে আসে এক হাজার, বারশ টাকায়।"

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম সহীদ নূর আকবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে  বলেন, "বীজ বিপণন অধিদপ্তর থেকে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন হলে কৃষকেরা সেখানে তাদের পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন। এবং বাজারে যখন পেঁয়াজের দাম বেশি থাকে তখন তারা বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন। এতে করে লাভের আশায় কৃষক আরও বেশি পেঁয়াজ আবাদ করবেন।"

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করায় দাম কমে যাচ্ছে, দাবি চাষিদের

এই কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, দাম ও ফলন ভালো হওয়ায় প্রতি বছরই পেঁয়াজের আবাদ বাড়ছে এই জেলায়। এই ধারা অব্যাহত রাখতে জেলার চাষিরা যেন লোকসানের মুখে না পড়ে সেজন্যও তারা তৎপর। সার, বীজ সহায়তার পাশাপাশি কৃষি বিষয়ে নানা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয় চাষিদের।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক