এক কিশোরীর টানে আরেক কিশোরী নোয়াখালী থেকে টাঙ্গাইলে

ফেইসবুকে পরিচয়ের পর দুই বছরের অন্তরঙ্গতা, এখন একজনের টানে অন্যজন নোয়াখালী থেকে চলে এসেছে টাঙ্গাইলে। স্থানীয়দের আলোচনা শুনে প্রশাসনও হস্তক্ষেপ করেছে এই ঘটনায়।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 March 2022, 12:58 PM
Updated : 22 March 2022, 12:58 PM

রোববার সন্ধ্যায় নোয়াখালীর কিশোরী (১৭) টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার একটি গ্রামের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরীর (১৫) কাছে চলে আসে।

টাঙ্গাইলের কিশোরীর অভিভাবক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বলেন, “আমি মেয়েকে দেড় মাস বয়সে পালতে এনেছি। ও আমার আদরের একমাত্র সন্তান। তার এমন কাণ্ডে আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি।

“নোয়াখালীর ওই মেয়েটিকে তার বাড়িতে চলে যেতে বলছি, কিন্তু সে যাচ্ছে না। বলছে, সে কিছুতেই আমার মেয়েকে ছাড়া যাবে না।”

স্থানীয়দের ঔৎসুক্যে টাঙ্গাইলের কিশোরীর পরিবার ‘বিব্রত’ হয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানায়। তার মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ ঘটনাটি জেনেছে।

টাঙ্গাইলের কিশোরীর অভিভাবক বলেন, “প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমি বিষয়টি নিয়ে খুবই বিপদে আছি, বিব্রত হচ্ছি।”

পরিবার ও দুই কিশোরীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফেইসবুকে পরিচয় ও সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় দুজন কিছুদিন আগে ঢাকার সাভারে একজনের আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে দেখা করে। সেখান থেকে তারা সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে এক পরিচিতজনের বাসায় চলে গিয়েছিল। সেখান থেকে তারা যার যার বাড়ি ফিরে যায়।

এরপর রোববার নোয়াখালীর কিশোরী টাঙ্গাইলে আসে। বাসাইলের কিশোরী টাঙ্গাইল জেলা শহরে গিয়ে তার বন্ধুকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে।

ওই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সেকান্দার আলী স্বপন সাংবাদিকদের বলেন, “দুই কিশোরী বলছে, তারা কেউ কাউকে ছাড়া থাকবে না। তারা গার্মেন্টসে চাকরি করে একত্রে সারাজীবন কাটাবে। নোয়াখালীর কিশোরী টাঙ্গাইলের কিশোরীকে ‘স্বামী’ হিসেবে ‘জীবনসঙ্গী’ করবে বলেও জানিয়েছে।”

দুই কিশোরীর কেউ প্রাপ্তবয়স্ক নয়, ফলে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বয়সও হয়নি। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমলিঙ্গে বিয়ে বৈধ হলেও বাংলাদেশে তা এখনও আইনসিদ্ধ নয়।

এই পরিস্থিতিতে দুই কিশোরীকে যার যার বাড়িতে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে প্রশাসন।

ইউপি সদস্য স্বপন বলেন, “নোয়াখালীর কিশোরীর পরিবারকে খবর পাঠানো হয়েছিল। তারা বাসাইলে এসেছেন। দুই পরিবারকে নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বসা হবে। যা করার প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেই করা হবে।”

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা পারভীন সাংবাদিকদের বলেন, “স্থানীয় চেয়ারম্যান সাহেব বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে নোয়াখালীতে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। মেয়েটির প্রকৃত অভিভাবকের খোঁজ পেলে তাদের হাতে মেয়েটিকে ফিরিয়ে দেব।”

বাসাইল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমানও বলেন, তারা ঘটনাটি শুনেছেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

“মেয়েটির (নোয়াখালীর) পরিবার এলে তাকে ফিরিয়ে দিতে বলেছি,” বলেন তিনি।

আরও পড়ুন

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক