পাবনায় থানায় ‘মারধর করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর’ নেওয়ার অভিযোগ

পাবনায় জমির বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে মারধর করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে।

সৈকত আফরোজ আসাদ পাবনা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 March 2022, 03:20 PM
Updated : 20 March 2022, 03:20 PM

বেড়া উপজেলার রূপপুর ইউনিয়নের কাঠালডাঙ্গী গ্রামের আবুল কালাম আজাদ ওরফে কামাল বিশ্বাসের অভিযোগ, শনিবার রাতে তাকে বাড়ি থেকে আমিনপুর থানায় নিয়ে মারধর করে জোরপূর্বক সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানো হয়।  

তবে পুলিশ থানায় মারধর ও জোর করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আবুল কালাম আজাদ এখন বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কামাল বিশ্বাস বলেন, কয়েক বছর আগে কাঠালডাঙ্গী গ্রামের ছদর উদ্দিনের স্ত্রী সাবিনা খাতুন স্থানীয় গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে ২০১৯ সালে তার ১১ শতাংশ জমি কেনার জন্য টাকা দিয়ে বায়না করেন। দীর্ঘদিনেও তিনি বাকি অর্থ পরিশোধ না করায় তিনি অর্থ পরিশোধ করে জমি রেজিস্ট্রি করে নিতে বলেন।

“কিন্তু তিনি তা না করায় আমি গ্রামের লোকজনের উপস্থিতিতে বায়নার টাকা ফেরত দিয়ে জমি ফেরত দিতে বলি। এরপরও কয়েকদিন ধরে সাবিনা বায়নার টাকা ফেরত পায়নি দাবি করে পুনরায় টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন।”

কামাল বলেন, আমিনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে থানার ওসি রওশন আলীর নির্দেশে এস আই আমিন উদ্দিন ও নুরুল ইসলাম মেম্বারসহ গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হয়।

“সেখানে সবার উপস্থিতিতে আমি বায়না হিসেবে নেওয়া টাকা ফেরত দিয়েছি বলে প্রমাণ মেলে।”

কামাল অভিযোগ করেন, “গত রাতে (শনিবার) হঠাৎ এসআই আমিন উদ্দিন আমার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে আমাকে ডেকে বের করে গালিগালাজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে মারধর করতে করতে থানায় নিয়ে আসেন। এরপর ওসি রওশন আলীর সামনে অকথ্য গালিগালাজ করে কিল ঘুষি লাথি দিয়ে আমাকে জোরপূর্বক তিনটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। এ নিয়ে কাউকে জানালে ভয়াবহ পরিণতি হবেও বলেও হুমকি দেয় থানা পুলিশ।”

পরে স্বজনরা থানা থেকে তাকে উদ্ধার করে রাতে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন বলে কামাল জানান।

এ ঘটনার পর থেকে তিনি চরম আতঙ্কে ভুগছেন বলেও জানান।

বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সোহেলী সাউন তনী নিশাত বলেন, “শনিবার রাত ১২টার পর কামাল বিশ্বাস হাসপাতালে শারীরিক আঘাতজনিত সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত। তাকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।”

রূপপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নুরুল ইসলাম নুরাই বলেন, সাবিনা ও কামালের মধ্যে জমি ক্রয় বিক্রয় নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে কয়েকদফা সালিশ বৈঠকে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। কয়েকদিন আগে সর্বশেষ বৈঠকে কামাল বায়না হিসেবে নেওয়া ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি করলেও সাবিনা তা অস্বীকার করেন। এরপর বিরোধ নিষ্পত্তিতে তারা থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন।

“শনিবার রাতে কামালকে বাড়ি থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। তবে মারপিট করা হয়েছে কিনা তা আমি বলতে পারব না।”

সাবিনা খাতুন বলেন, “আমার পাওনা টাকা পরিশোধ না করেই গত শনিবার কামাল বিশ্বাস জমি চাষ করতে শুরু করে। আমি তাকে নিষেধ করার পরেও সে না শোনায় আমি থানায় অভিযোগ দেই। পরে আমিন দারোগা স্যার তাকে থানায় নিয়ে আমার পাওনা ২ লাখ ১৮ হাজার টাকার স্ট্যাম্প করে দিয়েছে।”

তবে থানায় নিয়ে মারধরের অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেছেন আমিনপুর থানার এসআই আমিন উদ্দিন।

তিনি বলেন, “সাবিনার পাওনা টাকা দিতে টালবাহানা করায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে সমঝোতা বৈঠক হয়েছে। সেখানে কামাল বিশ্বাস থানার গোলঘরে সবার সম্মতিতে আগামী চার মাসের মধ্যে সাবিনাকে দুই লাখ টাকা ফেরত দেবেন মর্মে স্ট্যাম্পে স্বেচ্ছায় স্বাক্ষর করেছেন।”

মারধরের অভিযোগ আমিনপুর থানার ওসি রওশন আলীও অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, থানা পুলিশ সাধারণত জমিজমা নিয়ে কাজ করে না। তবে এলাকায় শান্তিশৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে বিট পুলিশিং করা হয়। কাঠালডাঙ্গী গ্রামের ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীরা সমঝোতা বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করেছেন।

“পুলিশ এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে। তবে কোনো পক্ষকেই ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। মারপিটের অভিযোগও সত্য নয়।”

বিষয়টি নিয়ে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, “খোঁজ-খবর নিয়ে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক