পাঁচ বছর আগে ‘হত্যা-গুমের’ মামলা, উদ্ধার হলো জীবিত

‘পারিবারিক কলহের কারণে আত্মগোপনে’ থাকা এক ব্যক্তিকে পাঁচ বছর পর জীবিত উদ্ধার করেছে পিবিআই, যাকে ‘হত্যা ও গুম’ করার অভিযোগে তার বাবা মামলা করেছিলেন।

মেহেরপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Feb 2022, 05:53 PM
Updated : 22 Feb 2022, 05:53 PM

রোববার গাজীপুর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শহীদ আবু সরোয়ার জানান।

রাকিবুজ্জামান রিপন নামের এই ব্যক্তিকে মঙ্গলবার মেহেরপুর আদালতে হাজির করা হয়েছে।  

রাকিবুজ্জামান রিপন মেহেরপুর শহরের উপকণ্ঠ গোভীপুর গ্রামের দত্তপাড়ার মনিরুল ইসলামের ছেলে।

রিপন পুলিশকে জানিয়েছেন, নিজের পছন্দে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শহরের শিশিরপাড়ার শ্যামলী খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। শ্বশুরবাড়িতে থাকা অবস্থায় তাদের এক ছেলে হয়। এরপর এক পর্যায়ে পারিবারিক কলহ দেখা দিলে কাউকে না বলে তিনি গাজীপুর চলে যান।

রিপনের বাবা মনিরুল ইসলাম বলেন, ছেলের খোঁজ না পেয়ে তারা ছেলেকে হত্যা ও লাশগুম করার অভিযোগ এনে স্ত্রী শ্যামলী খাতুন ও তার মা, বাবা, চাচাকে আসামি করে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এখন ছেলেকে পেয়ে তারা খুশি।

রিপনের স্ত্রী শ্যামলী খাতুন বলেন, নগদ সোনা টাকা দিয়ে মা-বাবা রিপনের সঙ্গে তার বিয়ে দেন। ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি ছিল; ভালো আয় করত। কিন্তু ‘মেয়ে’ এবং ‘নেশার’ স্বভাব থাকায় খারাপ কাজে অর্থ ব্যয় করত।

“পুনরায় যৌতুক দিতে না পারায় ছয় মাসের শিশুকে ফেলে কাউকে কিছু না বলে ২০১৭ সালের জুলাই থেকে নিরুদ্দেশ হয়।”

নিজের ও পরিবারের সদস্যদের হত্যা শশুরের করা মামলার কারণে হয়রানির শিখার উল্লেখ করে শ্যামলী বলেন, “জন্মের পর ছেলে পিতৃত্বের পরিচয় ও ভালোবাসা পেল না। অথচ পিতা হত্যার মিথ্যা অভিযোগ মাথায় নিয়ে থানা পুলিশ কোর্টে ঘুরতে হয়েছে পাঁচ বছর। আমি স্বামী চাই না। সন্তানের ভরণপোষণ আর ক্ষতিপূরণ চাই।”

পিবিআই কুষ্টিয়ার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শহীদ আবু সরোয়ার বলেন, আদালত দুদফা পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট নাকচ করে পুলিশ পিবিআই কুষ্টিয়াকে মামলা তদন্তভার দেয়। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে রিপনের সন্ধান মেলে।

“সে নাম, পরিচয় ও জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে শরিফুল ইসলাম নামে গাজীপুরে চাকরি নেয়। দ্বিতীয় বিয়ে করে এবং সেই সংসারে এক সন্তান আছে।”

পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, গাজীপুরে ডার্ড কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের ইলেক্ট্রিক্যাল পদে চাকরি করছিল; পিবিআইয়ের একটি দল রোববার [২০ ফেব্রুয়ারি] বিকালে রিপনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া আনে। রিপন সব ঘটনা স্বীকার করলে মঙ্গলবার তাকে মেহেরপুর জজ আদালতে হাজির করা হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক