যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আদালতে জামায়াত নেতা

মায়ের মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন নাশকতা মামলার আসামি মেহেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির ছমির উদ্দিন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মেহেরপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Feb 2022, 12:38 PM
Updated : 20 Feb 2022, 12:38 PM

ছমির উদ্দিনের আইনজীবী কামরুল হাসান জানান, ছমির উদ্দিন রোববার মেহেরপুরে বিশেষ ট্রাইবুনাল-১ম আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন।

বিচারক মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জামায়াতে ইসলামির এই নেতা মেহেরপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান।  

আইনজীবী কামরুল হাসান জানান, ২০১৩ সালে ছমির উদ্দিন গ্রেপ্তার আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইবুনালে তৎকালীন জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা করার পর জামায়াতে ইসলামির ডাকা দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে। হরতাল চলাকালে সন্ধ্যার পর হঠাৎ মেহেরপুর শহরের কোর্ট এলাকা থেকে বড়বাজার পর্যন্ত ঝটিকা তাণ্ডব চালিয়ে রাস্তার দুপাশের দোকান-পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়।

ওই ঘটনায় সে সময়ের মেহেরপুর সদর থানার এসআই গাজী ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ ও ১৬(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৪৩/ ১৪৮/৩৩২/ ৩৫৩/ ৪৩৫/৪২৭ ধারায় একটি মামলা করেন।

ওই মামলায় তৎকালীন মেহেরপুর জেলা জামায়াত ইসলামির আমির মোহাম্মদ ছমির উদ্দিনসহ ৭৬ জনকে আসামি করা হয় বলে আইনজীবী কামরুল জানান।

মামলায় ছমির উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় বলে কামরুল জানান।

এই ঘটনার কয়েকদিন পর একদল লোক শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের করে শহরের প্রধান সড়কে অবস্থিত ছমির ‍উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্র চলে যান।

ছমির উদ্দিনের ছেলে ডা. তাওয়াক্কুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বৃহস্পতিবার তার দাদি [ছমিরের মা] মারা গেলে সংবাদ শুনে ওইদিনই তিনি দেশে রওয়ানা দেন। শনিবার রাতে তিনি ঢাকায় অবতরণের পর সরাসরি মেহেরপুরে গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার টুঙ্গি গোপালপুর গ্রামে পৌঁছে রাত্রিযাপন করেন। রোববার তার মায়ের কুলখানি ছিল। পরে তিনি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

তাওয়াক্কুল আরও জানান, ২০১৭ সালে সহিসংতা মামলায় তার ভাই [ছমিরের ছেলে] তারিক গ্রেপ্তার হন; পরে বন্দুকযুদ্ধে তারিক মারা যান।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক